কুরআন সুন্নাহর আলোকে “শবে বরাত”র গুরুত্ব (পর্ব ১)

0
205

 

পি নিউজ ডেস্ক: ইসলামি শরিয়তে ‘শবে বরাত’ এর গুরুত্ব অপরিসীম। শবে বরাত উম্মতে মুসলিমার নাজাত লাভের মাধ্যম। আল্লাহর ঈমানদার বান্দা যখন এ রজনীতে দু’ফোটা অশ্র“ বিসর্জন পূর্বক মা’বুদকে সন্তুষ্ট করার অভিপ্রায়ে প্রেমের আঁখিতে পেয়ারা হাবীবকে দেখার চেষ্টা করে তখন শয়তান বড্ড বেজার হয়ে যায়। সে তার সাথীদেরকে উদ্বুদ্ধ করে এ মহিমান্বিত রজনীর ইবাদত-বন্দেগী, জিকর-আযকার, তেলাওয়াতে ক্বোরআন ইত্যাদি থেকে মানুষকে বিরত রাখতে। এ মহিমান্বিত রজনীতে এ সব কাজকে বেদআত ফাতওয়া দিতে আর কিছু লোককে নিয়োগ করে।
হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে এ রাত মুসলিম উম্মাহ্র কাছে নাজাতের উসিলা ও পবিত্র হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। আজ পর্যন্ত কেউ এটা নিয়ে সামান্যতম মতবিরোধ করেনি। মানুষ যখন অপসংস্কৃতি, কুসংস্কার, গান-বাজনা, বেহায়াপনায় ঘুরপাক খাচ্ছে সে সময় শবে বরাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ রজনীর মর্যাদাকে অস্বীকার করা বা এ কাজ থেকে নিরুৎসাহিত করা কত বড় জঘন্য কাজ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। টিভির কোন কোন চ্যানেলে নামধারী আলিমদের মুখে বিরূপ কথা শুনে সত্যপন্থীরা হতবাক হন, ধিক্কার দেন তাদেরকে আর অনেক সরলপ্রাণ মুসলমান বিভ্রান্ত হচ্ছে। অবশ্য চ্যানেল আই, মোহনা, মাছরাঙ্গা ইত্যাদি চ্যানেলের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে তাদের জবাব দেয়া হচ্ছে। এ নিবন্ধে ও এ মহিমান্বিত রজনী সম্পর্কে ক্বোরআন-হাদীসের আলোকে কিছুটা আলোচনার প্রয়াস পাচ্ছি।
শবে বরাতের অর্থ
শবে বরাআত এটি ফার্সি শব্দ। শব অর্থ রাত, ‘বরাআত’ অর্থ মুক্তি, ভাগ্য। সুতরাং শবে বরাত অর্থ মুক্তি ও ভাগ্যের রাত। আরবীতে শবে বরাআতকে لَيْلَةٌ الْبَرَأَةْ বলা হয়। আবারبرأت অর্থ اَلتَّعَفِّى مِمَّا تُكْرَهُ مُجَاوَرَتُه ; অর্থাৎ যার সাথে অবস্থান অপছন্দনীয়, তার সঙ্গ হতে দূরে থাকা। যেমন বলা হয় بَرَأْتُ مِنَ الْمَرَضِ ; অর্থাৎ আমি রোগ হতে মুক্ত হলাম। بَرَأْتُ مِنْ زَيْدٍ অর্থাৎ আমি যায়েদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম।
[সূত্র: মুফরাদাতে ইমাম রাগেব, পৃষ্ঠা ৪৫]
উল্লেখ্য, শা’বান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিনগত রজনীকে ‘শবে বরাত’ বলা হয়।
নামকরণের কারণ
আলোচ্য রজনীকে ‘লায়লাতুল বরাত’ নামকরণের তাৎপর্য হল- এ রাতে দু’ধরনের ‘বারাআত’ হয় কিন্তু হতভাগারা আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত থাকে। (এ রাতে তাদের সাথে আল্লাহর সম্পর্ক থাকে না।) আর আল্লাহ্র নেক বান্দাগণ পার্থিব অপমান-লাঞ্ছনা ও পাপ-পঙ্কিলতা হতে মুক্ত হয়ে যান।
اِنَّمَا سُمِّيَتْ لَيَلَةُ الْبَرَأَةِ لِاّنَّ فِيْهَا بَرَأتَيْنِ بَرَاءَةٌ لِلْاَشْقِيَاءِ مِنَ الرَّحْمَةِ وَبَرَاَةٌ لِلْاَوْلِيَاءِ مِنَ الخُذْلَانِ ـ
[গুনিয়াতুত্তালেবীন: পৃষ্ঠা ৩৬৫]
অর্থাৎ এ রাতকে ‘লায়লাতুল বরাআত’ এ জন্য বলা হয় যে, তাতে দু’টি বরাআত রয়েছে- একটি হতভাগ্যদের জন্য আল্লাহ্র রহমত থেকে, আরেকটা আল্লাহ্র ওলী তথা প্রিয় বান্দাদের জন্য অবমাননা ও লাঞ্ছনা থেকে।
শা’বান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিনগত রজনীতে ফেরেশতাগণ আল্লাহ্ তা’আলার নির্দেশে বয়সের হিসাব ও রিযিক বণ্টন করে থাকেন।
[সূত্র: দেহখোদা অভিধান, গিয়াসূল লুগাত- পৃষ্ঠা ১৯৮]
شب پانزدهم شعبان كه درين شب ملائكه بحكم الهى حساب عمر و تقسم رزق ميكنند-
শা’বান মাস
নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন-
رجب شهر الله وشعبان شهرى ورمضان شهر امتى
অর্থাৎ রজব আল্লাহ্র মাস, শা’বান আমার মাস, এবং রমযান আমার উম্মতের মাস।
আর শবে বরাতকে হাদীস শরীফে ‘লায়লাতুন্ নিসফে মিন শা’বান’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এর কারণ হল এটা শা’বান মাসের মাঝামাঝিতে হয় থাকে। আর যেহেতু শা’বান মাসে রমযানের অবারিত কল্যাণ ও বরকত হাসিলের বিভিন্নমুখী দ্বার খুলে দেয়া হয় তাই সেটাকে শা’বান বলা হয়। যেমন রমযানে গুনাহসমূহ জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করা হয় এ মহান রজনীতেও। হাদীস শরীফে এসেছে-
عن انس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انما سمى شعبان لانه يتشعب لرمضان فيه خير كثير وانما سمى رمضان لانه يرمض الذنوب ـ
অর্থাৎ হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, শা’বানকে শা’বান এজন্য বলা হয় যে, সেটা রমযানের জন্য শাখা বিস্তার করে। এ মাসে রয়েছে প্রভূত কল্যাণ। আর ‘রমযান’ কেও ‘রমযান’ এজন্য বলা হয় যে, তা পাপরাশিকে জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেয়।
[সূত্র: গুনিয়াতুত্তালেবীন, পৃষ্ঠা ৪৪৫]   চলবে——

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here