আজ সুন্নিয়তের বীরপুরুষ আল্লামা বাকি বিল্লাহ (রহঃ) ১৬ তম তিরোধান দিবস

0
359

 স উ ম আবদুস সামাদ :

আজ ২২ মে সুন্নিয়তের বীরপুরুষ হযরত আল্লামা মুহা্ম্মদ বাকি বিল্লাহ জালালী (রহঃ) ১৬ তম তিরোধান দিবস। এই দিন দিবাগত রাতে তিনি চাঁদপুর থেকে নিখোঁজ হন। চাঁদপুরে একটি মাহফিল শেষ করে ইসুলি ঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্য লঞ্চে উঠেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানাযায়। এরপর তাকে আর খুজে পাওয়া যায়নি। ২৩ তারিখ সন্ধ্যা ৬ টার দিকে নারায়নগঞ্জের এক কর্মী ফোন করে আমাকে বাকি বিল্লাহ সাহেবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি জানায় এবং চাঁদপুরে লঞ্চ দুর্ঘটনার খবর জানায়। খবর শুনে আমি দ্রুত মতিন ভাইয়ের সাথে দেখা করি।

বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করে রাত ৯ টার দিকে ঢাকার নাইট কোর্সে চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হই। রাত ১২ টার পরে কুমিল্লা নুরজাহানের ওইখানে আমাদের কুমিল্লার মোশাররফ ভাই ( কুমিল্লা জেলা ছাত্রসেনা সাবেক সভাপতি) এর গাড়ি আমার জন্য অপেক্ষা করে। রাত ১ টা নাগাদ আমরা বাসায় পৌঁছি। ফজরের নামাজ পড়েই উনি সহ উনার গাড়ি নিয়ে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পরবর্তীতে ২৪ই মে সকাল ৭টা নাগাদ চাঁদপুরের ষোলঘর নামক স্থানে পৌছে বাকি বিল্লাহ সাহেবের বোনের বাড়িতে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা লোকদের সাথে স্বাক্ষাত করি।

খোজখবর নিয়ে নিশ্চিত হলাম যে তখনও প্রসাশনিক কোনো তৎপরতা শুরু হয়নি। প্রথমে চাঁদপুর থানায় একটা জিডি করি।জিডির কপি ও উদ্ধারের একটি আবেদন নিয়ে সকাল ১০ টায় ডিসি সাহেবের কাছে আবেদন করি। ডিসি অফিস থেকে আবেদনের রিসিভ কপি নিয়ে প্রেসক্লাবে যাই। প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টা বিস্তারিত অবহিত করি। সাংবাদিকেরা আমাদের মেঘনার গভীরে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করে। তারা বলে কাল থেকে আমরা ডিসির অফিসে ধর্না দিচ্ছি, আমাদেরকে কোন সরকারি নৌযান দিচ্ছে না। আমরা নিখোজদের কোন খোজখবর নিতে পারছি না। আপনারা নৌযান ভাড়া করলে আমরা আপনাদের সাথে যাব। কয়েকজন কর্মী ও সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে আমরা মেঘনার মাঝখানে চলে যাই। মেঘনার মাঝখানে গিয়ে জাহাজ ভাঙা নামক স্থানে, যেটা চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের মাঝামাঝি স্থানে গিয়ে একটি ডুবন্ত লঞ্চের সন্ধান পাই। ততক্ষন পর্যন্ত চাঁদপুরের কোন প্রশাসন সেখানে লঞ্চ ডুবির খবরটা জানত না।

উল্লেখ্য যে সেদিন মেঘনায় চাঁদপুর ঘাটের এক কিলোমিটারের মধ্যে বরিশাল থেকে ঢাকা গামী অপর একটি লঞ্চ দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছিল। প্রশাসনের লোকজন ঐটা নিয়ে ব্যস্ত ছিল আরেকটি লঞ্চ যে দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছিল সে বিষয়ে জানত না। চ্যানেল আই মেঘনার মাঝখান থেকে আমরা বক্তব্য প্রচার করে।আমি লঞ্চটি উদ্ধারের জন্য সরকার ও দেশবাসীর নিকট আবেদন জানাই। কিন্তু দঃখজনক হলেও প্রশাসন সে ব্যাপারে তৎপর ছিল না। মেঘনায় যে এলাকাটিতে লঞ্চটি ডুবেছিল সে এলাকাটি চাঁদপুর আর শরীয়তপুরের মাঝখানে ৮/১০ কিলোমিটারের কম হবে না নদীর প্রস্থ এবং গভীরতা ছিল অনেক বেশি। ইলেকট্রনিকস মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এই খবর প্রচারিত হওয়ার পর সব জায়গায় হইচই পরে যায়।কারন সরকার দ্বিতীয় লঞ্চ ডুবির খবর জানত না। এই লঞ্চটি মেঘনায় সম্পূর্ন সলিল সমাধি ঘটেছে।

বাকি বিল্লাহ সাহেব সেই লঞ্চে ছিলেন কি ছিলেন না সে বিষয়টা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওখান থেকে ফিরে এসে বিকাল ৫ টায় আমরা ডিসি সাহেবের সাথে পুনরায় স্বাক্ষাত করি। ডিসি সাহেব দেখতেছি বলে আশ্বস্ত করে আর কোন কথা বলে না।তাৎক্ষণিক সিন্ধান্ত নিয়ে তারপরদিন সকাল ১০ টায় চাঁদপুর জেলায় প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করি এবং ডিসিকে পুনরায় স্মারক লিপি দিই। এমতাবস্থায় আমাদের তৎপরতা লক্ষ্য করে সাংবাদিকরা রিপোর্ট করলে চাঁদপুর ডিসি আমাদের বিরুদ্ধে খুব তৎপর হয়ে উঠে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় আমাকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়। কর্মীরা বিষয়টা আমাকে নিশ্চিত করলে সন্ধ্যায় আমরা দ্রুত চাঁদপুর শহর থেকে দূরে ফরিদগঞ্চে ঘুনিয়া দরবার শরীফে চলে যাই ওখানে রাত্রি যাপন করি। তারপরদিন চাঁদপুর এসে আবার মিটিং করি। চারদিন অবিরাম চেষ্টা করার পরও জাহাজ ভাঙ্গা নামক স্থানে যে লঞ্চটি ডুবেছিল সে লঞ্চ টি উদ্ধারের জন্য কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করাতে পারি নি। এত চেষ্টা করে ও বাকি বিল্লাহ সাহেব কে জীবিত কিংবা মৃত কোনভাবে উদ্ধার করা যায়নি। তার নিখোঁজের বিষয়টি রহস্য থেকে গেল। কোন ইসলাম বিরোধী শক্তি তাকে আঘাত করে গুম করে ফেলল, নাকি লঞ্চ ডুবিতে ইন্তেকাল করেছন তা প্রশাসনিক বা গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমেও আজ পর্যন্ত জানতে পারলাম না। বড়ই দুর্ভাগ্য আমাদের। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে জান্নাতুন ফেরদৌস নসিব করুন। মিল্লাত মাজহাবের জন্য এইধরনের নিবেদিত প্রান সৈনিক আর পাব কিনা জানি না।

লেখক: বিশিষ্টি রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক