“চট্টগ্রামের করুণ কান্না দেখার কি কেউ নেই”

0
633

আজাদ জামাল:

বার আউলিয়ার পূণ্যভূমি, কর্ণফুলী, হালদা, ফয়েজলেক ও বঙ্গোপসাগর এবং পাহাড়-পর্বত ঘেরা অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি চট্টগ্রাম। প্রায় ২৩০০ বছরের পূরনো চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। আধ্যাত্মিক জগত পীর আউলিয়া দরবেশদের আধ্যাত্মিক রাজধানী ও চট্টগ্রাম। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সূতিকাগার এবং মাস্টার দা সুর্যসেন এবং প্রীতিলতার চট্টগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এম. এ আজিজ এম হান্নান পরবর্তীতে চট্টলবীর এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আখতারুজ্জামান বাবু, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের চট্টগ্রাম আজ বোবা কান্না করছে।

কী নেই চট্টগ্রামে বা কিসের অভাব চট্টগ্রামের মানুষের? এখানকার মানুষের মাথাপিছু আয় ৬০০০ ডলার আর দারিদ্রতা হার মাত্র ৪ ভাগ, অথচ আজকের চট্টগ্রাম আমার কাছে অচেনা এক মৃত্যুপুরী, ভূতের নগরী। আমরা যারা চট্টগ্রামের মানুষ চট্টগ্রামের বাইরে থাকি সবসময় চট্টগ্রামকে নিয়ে গর্ব করি। দেশের অন্যান্য জেলার বাসিন্দারা চট্টগ্রামের মানুষ হিসেবে আমাদের যথেষ্ট সম্মান করেন, আলাদা চোখে দেখেন। কিন্তু চট্টগ্রামের বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থা যে কত নাজুক এবং ভঙ্গুর তা বলার অপেক্ষা রাখে না।বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাসে নাস্তানাবুদ তাবৎ বিশ্ব, বাংলাদেশ ও ব্যতিক্রম নয়।

বাংলাদেশে এই মুহুর্তে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার ঢাকার পরে চট্টগ্রামের অবস্হান। প্রতিদিন অসুস্থ মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। গত দুইমাসে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ, পীর মাশায়েখ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। গত কয়েকদিনের চিত্র বড়ই করুণ। গত পরশু এক অন্তঃস্বত্ত্বা হতভাগা গৃহবধূ এ হাসপাতাল ও হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে শেষমেষ পেটের বাচ্চা নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবাকে নিয়ে হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে করুণ মৃত্যু আমাদের বিবেককে ক্ষতবিক্ষত করেছে।

প্রতিদিন এমন করুণ মৃত্যর খবর শুনে ইন্নালিল্লাহ পড়ে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। বাণিজ্যিক রাজধানী ও স্বয়ং সম্পূর্ণ এবং অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রামের চিকিৎসা ব্যবস্থার এই করুণ অবস্থার জন্য দায়ী আমরা চট্টগ্রামের মানুষ। এখানে এর ব্যর্থতার দ্বায় সম্পূর্ণ আমাদের। কোনভাবেই কোন সরকার এই অবস্থার জন্য দায়ী নয়। আমরাই বঞ্চিত রেখেছি আমাদের চট্টগ্রামের মা, মাটি ও মানুষকে। আমাদের চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজ চট্টগ্রাম নিয় বড়ই উদাসীন।

উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে চট্টগ্রাম কিন্তু পিছিয়ে নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন রাজনৈতিক নেতা, ব্যক্তি বা দলকে দোষারোপ করছিনা। আমরা চাইলে এখানে অনেক ভাল এবং বিশ্বমানের চিকিৎসাকেন্দ্র করতে পারতাম কিন্তু আমরা করিনি। তাই আমাদের এই করুণ, রুগ্ন, ভঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য আমরাই দায়ী। এ মুহূর্তে শতচেষ্টা করেও রাতারাতি কোন কিছু করা সম্ভব নয়। এখন দলমতের উর্ধ্বে উঠে সবার উচিত এই নাজুক অবস্থা থেকে উত্তোরণের উপায় বের করা। এই দুঃসময়ে যে সমস্ত হাসপাতাল, ক্লিনিক রোগী ভর্তি না করে বের করে দিচ্ছেন সরকার ও প্রশাসনের উচিত সেই সমস্ত হাসপাতাল, ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করে মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া।

পরিশেষে বলবো এই মুহুর্তে চট্টগ্রামে যে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র রয়েছে সেগুলোকে যথাযথ মনিটর ও চিকিৎসাসেবার উপযোগী করে রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আমি চট্টগ্রামের মাননীয় মন্ত্রী, এমপি, মেয়র, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং ব্যবসায়ীদের প্রতি আকুল আবেদন করছি আপনারা একটু নড়েচড়ে বসুন। বিপদে সবভূলে একাকার হয়ে যান। সবাই একসূরে বলুন আমরা চিকিৎসার অভাবে আর কাউকে হারাতে চাই না ,ঘুড়ে দাঁড়ান প্রিয় চট্টগ্রাম।।

লেখক: ব্যাংকার, সংগঠক ও সমাজসেবক