লাশ দাফনে স্বজনদের বাধা, অন্যথানায় নিয়ে দাফন করলেন গাউসিয়া কমিটি ও পুলিশ

0
140

পিনিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জ্বর-শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া এক শিক্ষকের লাশ ফেরত পাঠিয়েছে তার নিজ উপজেলার লোকজন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তার মৃত্যু নিশ্চিতের পর দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, মৃতের নিজ উপজেলা রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকায়। কিন্তু সেখানে তার স্বজনরা লাশটি কাফন-দাফরে ব্যবস্থা না করে উল্টো ফেরত পাঠায় রাঙ্গুনিয়ায়।

তার নাম মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (৫৯)। তিনি দ্বীর্ঘদিন যাবত রাঙ্গুনীয়ার সৈয়দা সেলিমা কাদের চৌধুরী ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দবাড়ি গ্রামে তিনি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার মৃত্যুর পর রাউজানের নিজগ্রাম নোয়াপাড়ায় দাফন করতে নিলে, তার নিকটাত্মীয়-স্বজনরা কাফন-দাফনের কাজে বাঁধা দেয়। তখন তার পরিবার পূণরায় লাশ রাঙ্গুনিয়ায় নিয়ে আসে। শেষে ওই এলাকার পাগলা মামার মাজার প্রাঙ্গনে লাশ নিয়ে অসহায় হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের এই অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে এগিয়ে আসেন রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা গাউসিয়া কমিটির সদস্যরা। এলাকার গাউসিয়া কমিটির উদ্যমী তণদের সাথে নিয়ে কবর খুড়ে জানাজা নামাজ পড়ে পূর্ণ মর্যাদায় দাফন করা হয়। এই কাজে সার্বিক সহযোগিতা করে মানবিকতার স্বাক্ষর রাখেন এলাকার নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

এই ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই ইসমাঈল হোসেন জুয়েল জানায়, রাউজান থেকে এই শিক্ষকের লাশ ফেরত পাঠানোর খবরে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ও গাউছিয়া কমিটির সদস্যদের নিয়ে দাফনের দায়িত্ব নেয়। এলাকার তরুণদের সাথে নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার লাশটি দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য ওই শিক্ষক রাত ৮টার দিকে জ্বর-শ্বাসকষ্টে মারা যান। গত ৯ তারিখ তিনি নমুনা পরীক্ষা দিলেও এখনও রিপোর্ট আসেনি। তার বাড়ি রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় হলেও তিনি রাঙ্গুনিয়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় তার ছাত্র-ছাত্রী ও শুভাকাক্সক্ষীদের মাঝে শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। কিন্তু তার লাশ দাফন না করে নিজ উপজেলা থেকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে বিভিন্ন মাধ্যমে এর তীব্র নিন্দার ঝড় উঠে। পাশাপাশি পুলিশ ও গাউছিয়া কমিটির সদস্যদের মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসাও করছেন তারা।