রইন্যার লাশ না ফেললে আমার নাম ফয়সল ইকবাল না

0
667

পিনিউজ ডেস্ক:

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির লাশ ফেলার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

নগরীর পিসি রোডের হালিশহর ওয়াপদা মোড় এলাকায় ‘প্রিন্স অব চিটাগাং’ কমিউনিটি সেন্টারে তৈরি হওয়া করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম এর প্রধান উদ্যোক্তা মো. সাজ্জাত হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় এই হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ।

১ মিনিট ৮ সেকেন্ডের একটি রেকর্ড আমাদের কাছে এসেছে। এতে ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী ও মো. সাজ্জাত হোসেনের কথোপথন হয়েছে- এমনটা দাবি করেছেন সাজ্জাত। অডিওতে ডা. ফয়সল ইকবালকে বলতে শোনা যায়, “..নাই ডাক্তার, নাই কিছু নাই। ভংচং করার দরকারটা কী?”

সাজ্জাত হোসেন জবাব দেন, “ডাক্তার নাই আপনাকে কে বললো? আচ্ছা ঠিক আছে।”

এরপর ফয়সল ইকবাল বলেন, রোগীর যেটার অভাব, আইসিইউ, ন্যাজাল ক্যানোলা, ওখানে কী আছে? সেখানে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন আছে? নাকি আর কী আছে? মানুষ শোয়ায় রাখার জন্য একটা দরকার, মেয়রেরটা যথেষ্ট, ওখানে ডাক্তাররাও আছে। আর ওখানে দুনিয়ার চোর-ডাকাত সবগুলোরে নিছ, এখানে আমরা যাবো না?

এসব শুনে “আচ্ছা ঠিক আছে” বলেন সাজ্জাত। এরপর ফয়সাল বলেন, “চোর-ডাকাত নিয়ে তুমি ইয়া করো। ওখানে আবার তোমরা পিকনিক পার্টি দাও। মানুষের টাকা চাঁদা তুলে।”

পিকনিক পার্টি করি মানে?- প্রশ্ন করেন সাজ্জাত হোসেন। প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে ফয়সাল ইকবাল বলেন, “ভালো ভালো মানুষ বের হয়ে যাচ্ছে ওখান থেকে।” কে বের হয়েছে জানতে চান সাজ্জাত। ফয়সাল জানান, “মেয়ে একটা বের হয়ে গেছে।” মেয়েটা ‘পাগল’ বলে সাজ্জাত প্রসঙ্গ এড়াতে গেলে ফয়সাল বলেন, “ওরা কোন পাগল না, ওরা প্রথম থেকে বের হয়েছে। যাই হোক এসব বলে লাভ নেই।”

এরপর ফয়সাল ইকবাল বলে উঠেন, “চোর-ডাকাতের সাথে থেকে লাভ নেই। রইন্যার (নুরুল আজিম রনি) মতো চোর-ডাকাতের সাথে কী? দেশ একটু সুস্থ হোক। ওর লাশ দেখা যাবে। ওর লাশ যদি না ফেলি আমার নাম ফয়সাল ইকবাল না।”

এই ফোনালাপ কেন জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা ও মুখপাত্র মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, ডা. ফয়সাল ইকবালের গতকালের একটা মিসড কলে দেখে সকালে (সোমবার) আমি রিং ব্যাক করি। ফোন ধরেই তিনি মারমুখী আচরণ করা শুরু করেন। ডা. মিনহাজকে ডাকাত উল্লেখ করে কেন তাকে আইসোলেশন সেন্টারে সম্পৃক্ত করেছি কৈফিয়ত চান।

আমি তাকে বলি যে আপনিও আসুন, ভিজিট করে যান-তখনই উনি নানা কথা শুনিয়ে দিলেন। একপর্যায়ে রনিকে নিয়েও কথা শুরু করলে আমি রেকর্ডিং অপশনটা অন করে দিই। এরপর তিনি কী বললেন তা তো শুনেছেন।

সাজ্জাত বলেন, জাতির প্রয়োজনে তুমুল সংকট-সন্ধিক্ষণে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার, ব্যবসায়ী আবুল বাশার আবুসহ মানবিক মানুষদের নেপথ্য সহায়তায় এই আইসোলেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছি। এখানে অনেকেই আসবেন, যাবেন এটাই স্বাভাবিক। একদিন কেউ এসে একটু সময় দিলেন, ফটোসেশান করলেন, তারপর তিনি যদি নিজেকে আইসোলেশন সেন্টারের মালিক বা উদ্যোক্তা দাবি করেন আমার কিছু বলার নেই। অন্য এক প্রসঙ্গে যোগ করেন সাজ্জাত।

এ বিষয়ে ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী বলেন, “রনির বিষয়ে আমি কিছু বলিনি। এসব সাজানো। সে তো আমার প্রতিদ্বন্দ্বী না, তাকে নিয়ে কিছু বলার কোন দরকার আছে?” অডিও রেকর্ড এর বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, “অডিও রেকর্ডটি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।” সূত্র: দৈনিক সাঙ্গু