পেরুর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

0
32

পিনিউজ ডেস্ক:

ক্ষমতা গ্রহণের পর সপ্তাহ পেরোনোর আগেই পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন পেরুর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল মেরিনো।

পূর্বসূরী প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারার ক্ষমতাচ্যুতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিক্ষোভে দুইজনের মৃত্যুর পর আইন প্রণেতাদের চাপের মুখে রোববার তিনি পদ ছাড়েন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মেরিনোর এ পদত্যাগে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

রয়টার্স লিখেছে, এমন এক সময়ে এ অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, যখন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তামা উত্তোলক দেশটিকে করোনাভাইরাস মহামারীর পাশাপাশি এক শতকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অর্থনৈতিক দশায় পড়ার শঙ্কার বিরুদ্ধেও লড়তে হচ্ছে।

মেরিনোর পদত্যাগের পর পেরুর অসংখ্য মানুষকে রাস্তায় নেমে উল্লাস করতে, দেশের পতাকা উড়াতে, স্লোগান দিতে ও থালা-বাসনে শব্দ করে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

কিন্তু পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের ফলে, কে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন তা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের প্রতিযোগিতা দেশটিকে নানান সাংবিধানিক ও আইনি জটিলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

মেরিনোর পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে বামপন্থি সাংসদ ও মানবাধিকার কর্মী রোসিও সিলভা-সান্তিস্টেবানের নাম বেশি শোনা গেলেও পেরুর কংগ্রেসে প্রথম ভোটে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। রোববার সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত দ্বিতীয় ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

“মেরিনো পদত্যাগ করেছেন, কেননা তার হাতে রক্তের দাগ লেগে আছে, আমাদের সন্তানদের রক্ত,” বলেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের খবরে রাস্তায় নেমে উল্লাসরতদের একজন ক্লারিসা গোমেজ। যে সাংসদরা মেরিনোকে দায়িত্বে বসিয়েছিলেন তাদেরও দায় নিতে হবে, বলেছেন তিনি।

বিরোধী দলের হাতে থাকা কংগ্রেস ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অভিশংসিত করে গত সোমবার প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ভিজকারা অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া মেরিনো তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কংগ্রেসের সাবেক এ প্রধানই ভিজকারাকে অভিশংসিত করার প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

মেরিনোর পদত্যাগের ঘোষণা আসার কিছু সময় আগে কংগ্রেসের বর্তমান স্পিকার লুইজ ভালদেজ বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ করা উচিত বলে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।

পদত্যাগ না করলে আইনপ্রণেতারা মেরিনোর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।