সহীহ হাদীসের বয়ান করতে গিয়ে নিজেই যয়ীফ, মাওজু হাদীস ও মিথ্যাচার করেছেন আহলে হাদীসের মহাগুরু ‘মুযাফফার বিন মোহসিন’ – হাফেজা সিদরাতুল মুন্তাফা মিম

0
133

* শায়খ মুজাফফার তার নিন্মে উল্লেখিত লেকচারের শুরুতেই এক প্রশ্নকারীর প্রশ্ন :- ‘‘একমাত্র সহীহ হাদীস আমল করা যাবে যয়ীফ হাদীস আমল করা যাবে না কেন?’’ এই প্রশ্নের জবাবে শায়খ বলেন, সুন্দর। তারপর প্রশ্নকারীর সাথে একমত হয়ে তথা যয়ীফ হাদীস এর উপর আমল করা যাবে না শুধু সহীহ হাদীসের উপর আমল করা যাবে আলোচনা করলেন শায়খ মুজাফফার। অথচ এটা তার একটি চরম ভুল। কেননা সমস্ত মুহাদ্দীস ও ফেকাহবীদদের নিকট যয়ীফ হাদীস এর উপর আমল করা যাবে। কিন্তু তা প্রমাণযোগ্য কি না? তা নিয়ে মতানৈক্য, এই হলো সালাফী ভাইদের জ্ঞানের দৌড়।ভিডিও দেয়া হলো।
https://www.facebook.com/video.php?v=588047864624242&set=vb.100002571009936&type=2&theater
* তারপর শুরু হলো পবিত্র কোরআন নিয়ে মিথ্যাচার 01/45 সেকেন্ড এর মাঝে শুনুন সে বলছে হামীম সেজদার 23 নং আয়াত খুলুন, তারপর এই আয়াত তেলাওয়াত করছে- لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: 42] অথচ এটি সূরায়ে হামীম সেজদার 42 নং আয়াত, তাহলে কেন তিনি মানুষকে মিথ্যা রেফারেন্স দিবে?
* তারপর দেখুন 02/08 সেকেন্ড এর মাঝে গিয়ে পবিত্র কোরআনের সূরায়ে আনআমের 115 নং আয়াত-{وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [الأنعام: 115] এখানে পবিত্র কোরআনের শব্দ- صِدْقًا‘‘সিদকান’’ দুই যবর বিশিষ্ট, তিনি এই শব্দটিকে নিজ মন মত দুই পেশ দিয়ে ‘‘সিদকুন’’ পড়েছেন। নাউযুবিল্লাহ ! পবিত্র কোরআনকেও সহীহ ভাবে পড়তে পারে না কি করে তারা আহলে হাদীস দাবী করে?
* তারপর 02/52 সেকেন্ড এর মাঝে শুনুন তিনি বলছেন সূরা নাহল 43 নং আয়াতটি খুলুন, আর এই আয়াত হলো এই- { وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44] আসলে আয়াতটি হলো সূরা নাহল এর 44 নং আয়াত এই হলো তাদের জ্ঞান আর রেফারেন্স এর দোড়।
* এখন শুরু হলো হাদীস নিয়ে মিথ্যাচার। শুনুন তার লেকচারের 3/41 সেকেন্ড তিনি বলছেন, রাসূল (সা.) বলেছেন- وقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةًউচ্চারণ ‘‘ওকাদ যি‘তুকুম বিহা বায়দা-আন নাকিয়য়াহ’’ অথচ হাদীসের সঠিক এবারত হলো- لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً ‘‘লাকাদ যি‘তুকুম বিহা বায়দা-আ নাকিয়য়াহ’’ তাহলে রাসূল (সা.) এর সঠিক হাদীসের অক্ষর ইত্যাদির পরিবতন কেন তিনি করবেন? আচ্ছা তাহলে আহেল হাদীসদের কি অধিকার আছে রাসূল (সা.) এর হাদীসের মাঝে কোন অক্ষর বাড়িয়ে বা কমিয়ে দেয়ার?
* তারপর শুরু হলো রেফারেন্স আর কিতাবের নাম নিয়ে মিথ্যাচার তিনি 04/03 সেকেন্ড এর মাঝে গিয়ে উল্লেখিত হাদীস এর অংশটির রেফারেন্স দিতে গিয়ে বলছেন যে, হাদীসটি বায়হাকীর 04 নং খন্ড 666 পৃষ্ঠায় আছে, অথচ সারা দুনিয়ার মানুষ যদি কিয়ামত পযন্ত চেষ্টা করে তবুও হাদীসটি বায়হাকী থেকে বের করা সম্ভব নয়। আর কি করে সম্ভব হবে হাদীসটি বায়হাকীর মাঝে নেই।
এখন আমি বলে দিচ্ছি হাদীসটি কোন কিতাবে আছে, তার পূবে পূণ হাদীসটি দেখুন তার পক্ষে তো হাদীস পূণ বণনা করাও সম্ভব হয় নি এর পরেও একটু বলেছেন তার মাঝে এত ভূল !
এই হলো পূণাঙ্গ হাদীস।
15156 – حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا مُجَالِدٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكِتَابٍ أَصَابَهُ مِنْ بَعْضِ أَهْلِ الْكُتُبِ (1) ، فَقَرَأَهُ عَلَى (2) النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَغَضِبَ وَقَالَ: ” أَمُتَهَوِّكُونَ فِيهَا يَا ابْنَ الْخَطَّابِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً، لَا تَسْأَلُوهُمْ عَنْ شَيْءٍ فَيُخْبِرُوكُمْ بِحَقٍّ فَتُكَذِّبُوا بِهِ، أَوْ بِبَاطِلٍ فَتُصَدِّقُوا بِهِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ مُوسَى كَانَ حَيًّا، مَا وَسِعَهُ إِلَّا أَنْ يَتَّبِعَنِي ” (3)
এই হাদীসটি ইমাম আহমদ (রহ.) তার মুসনাদে উল্লেখ করেছেন, হাদীস নং-15156; গারীবুল হাদীস-3/28,29; ইবনে আবি শায়বা-9/47; মুসনাদে বাজ্জাজ-124; শুয়াবুল ঈমান-177; বাগবী-126; দারামী-1/115; জাম্মুল কালাম-67/204; আল মুনতাকী-02/33; জামেউ বয়ানিল ইলমে ওয়া ফাজলিহি-2/42; ইবনে আবি আসেম ফিস সুন্নহ-50 ।
* তারপর সব চেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো তিনি তার এই লেকচারের মাঝে বলেছেন সহীহ হাদীস ব্যতীত বণনা করা যাবে না অথচ এই হাদীসটি হলো যয়ীফ কারণ এই হাদীসের যত সনদ আছে তার মাঝে – مُجَالِدٌ মুজালেদ নামক এই বণনাকারী আছে , আর এই বণনাকারী হলেন চরম যয়ীফ, এখন এই বণনা যয়ীফ এই কথা কি করে বুঝবেন? আমি প্রথমত অন্য কোন জরাহ তাদীলের ইমামদের কথা না উল্লেখ করে তাদের মহাগুরু নাসির উদ্দীন আলবানীকে দিয়ে প্রমাণ করবো, আর তা হলো-
إرواء الغليل في تخريج أحاديث منار السبيل (6/ 34)
أخرجه أحمد (3/387) من طريق مجالد عن الشعبى عن جابر بن عبد الله: ” أن عمر بن الخطاب أتى النبى صلى الله عليه وسلم بكتاب أصابه من بعض أهل الكتاب فقرأه النبى صلى الله عليه وسلم , فغضب , فقال: أمتهوكون فيها يا ابن الخطاب , والذى نفسى بيده لقد جئتكم بها نقية , لا تسألوهم عن شىء فيخبروكم بحق فتكذبوا به , أو بباطل فتصدقوا به , والذى نفسى بيده , لو أن موسى صلى الله عليه وسلم كان حيا ما وسعه إلا أن يتبعنى “.
وكذا أخرجه الدارمى (1/115) وابن أبى عاصم فى ” السنة ” (5/2) وابن عبد البر فى ” جامع بيان العلم ” (2/42) والهروى فى ” ذم الكلام ” (4/67 ـ 2) والضياء المقدسى فى ” المنتقى من مسموعاته بمرو ” (33/2) كلهم عن مجالد به.
قلت: وهذا سند فيه ضعف , من أجل مجالد وهو ابن سعيد الهمدانى قال الحافظ فى ” التقريب “: ” ليس بالقوى , وقد تغير فى آخر عمره “.
وقال الحافظ فى ” الفتح ” (13/284) : ” رواه أحمد وابن أبى شيبة والبزار , ورجاله موثقون , إلا أن فى مجالد ضعفا “.
উপরে উল্লেখিত আরবীগুলো আলবানী সাহেবের লিখিত কিতাব “এরওয়াউল গালীল” এর 06/34 নং পৃষ্ঠা থেকে, তিনি উল্লেখিত হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেন- قلت: وهذا سند فيه ضعف আমি বলছি উক্ত হাদীসটির সনদ হলো যয়ীফ তথা দূবল। আর তা মুজালেদ নামক বণনাকারীর কারণে। তারপর তিনি নিজেই বিস্তারিত বলেছেন তার যয়ীফ হওয়ার সংক্রান্তে, আমি আরবী উল্লেখ করে দিয়েছি। এখন আসুন তাকে ইমাম বুখারী ও ইবন হাজার (রহ.)ও যয়ীফ বলেছেন, দেখুন আল ইসাবাহ-4/30; তারীখুল কাবীর-5/39 ইত্যাদি।
* তারপর দেখুন 04/52 সেকেন্ড থেকে তিনি বলছেন কোরআনের বিরুদ্ধেও কাফেররা সূরা তৈরী করেছে, যেমন আল্লাহ বলেন- {وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ} [البروج: 1] আর কাফেররা তৈরী করলো- {وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْفروجِ}: 1] অথাত ‘‘বুরুজ’’ শব্দের স্থানে ‘‘ফুরুজ’’ এখন আমার প্রশ্ন হলো এটা কোন সহীহ হাদীসে আছে? আহলে হাদীস ভাইদেরকে কেয়ামত পযন্ত সময় দেয়া হলো হিম্মত হলে বের করে দেখান? তাছাড়াও সূরায়ে আসরের মাঝেও না কি কাফেররা পরিবতন করেছেন? আমার প্রশ্ন হলো এগুলো কোন সহীহ হাদীসে আছ?
* আসলে তার আট মিনিটের লেকচারের মাঝে অপব্যাখ্যাসহ প্রায় 16 টি ভুল আছে সময় সংক্ষেপের কারণে আমি উল্লেখ করলাম না। আর জ্ঞানী মানুষের জন্য এই ধরণের মিথ্যাবাদীদের চিহ্নিত ও তাদের প্রতারণা থেকে বাচার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।
তাহলে যারা মানুষকে এই ভাবে ধোকা দিচ্ছে সহীহ হাদীসের নামে নিজেই যয়ীফ হাদীস বণনা করছে তারা কি করে উম্মতের ভালো চায়? নিশ্চয় তারা প্রতারক। আল্লাহ আমাদেরকে এদের ফেৎনা থেকে হেফাজত করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here