কুরআন সুন্নাহর আলোকে আল্রাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ (দ.) হাযির নাযির (পর্ব ৩)

0
141

ফকীহ ও উলামায়ে উম্মতের উক্তিসমূহ থেকে হাজির-নাজির এর প্রমাণ (পূর্বে আলোচনার পর)

১) সুবিখ্যাত দুররুল মুখতার ৩য় খন্ডের المرتد অধ্যায়ে কারামাতে আওলিয়া শীর্ষক আলোচনায় উল্লেখিত আছেঃ
يَاحَاضِرُ يَا نَاظِرُ لَيْسَ بِكُفْرٍ অর্থাৎ হে হাযির, হে নাযির, বলে সম্বোধন করা কুফর হিসেবে গণ্য নয়। উপরোক্ত উক্তির ব্যাখ্যায় ফতোয়ায়ে শামীতে  উল্লেখিত আছেঃ

فَاِنِّ الْحُضُوْرَ بِمَعْنَى الْعِلْمِ شَائِعٌ مَا يَكُوْنُ مِنْ نَّجْوى ثَلَثَةٍ اِلَّهُوَرَابِعُهُمْ وَالنَّاظِرُ بِمَعْنَى الرُّوْيَةِ اَلَمْ يَعْلَمْ بِاَنَّ اللهَ يَرَى فَالْمَعْنى يَاعَالِمُ مَنْيَّرى

অর্থাৎ এর কারণ হলো হুযুর (حضور) শব্দটি জ্ঞান অর্থে বহুল প্রচলিত। কুরআন শরীফে আছেঃ তিন জনের মধ্যে গোপনীয়ভাবে যা কিছু পরামর্শ হয়ে থাকে আল্লাহ তাআলা ওদেরই চতুর্থজন হিসেবে বিদ্যমান থাকেন । আর نظر নযর শব্দের অর্থ হচ্ছে দেখা। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, কেন, সে জানে না যে, আল্লাহ দেখেন? সুতরাং, ইয়া হাযিরু! ইয়া নাযিরু! শব্দ দুইটির অর্থ হলো হে জ্ঞানী! হে দ্রষ্টা! অতএব, এ উক্তি কুফর হতে পারে না।
দুররুল মুখতার গ্রন্থে, প্রথম খন্ডের  كيفية الصلوة  শীর্ষক অধ্যায়ে আছেঃ

وَيَقْصِدَ بِاَلْفَاظِ التَّشَهُّدِ الْاِنْشَاءَ كَاَنَّهُ يُحىِّ عَلَى اللهِ وَيُسَلِّمُ عَلَى نَبِيِّه نَفْسِه

অর্থাৎ নামাযে আত্তাহিয়াত বা তাশাহুদ এর শব্দগুলি উচ্চারণ করার সময় নামাযীর এ নিয়ত থাকা চাই যে, কথাগুলো যেন তিনি নিজেই বলছেন, তিনি নিজেই যেন আপন প্রতিপালকের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করছেন ও স্বয়ং নবী আলাইহিস সালামের প্রতি সালাম আরয করছেন।
এ ইবারতের তাৎপর্য বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে ফতওয়ায়ে শামীতে বলা হয়েছেঃ

اَىْ لَايَقْصِدُ الْاَخْبَارَ وَالْحِكَايَةَ عَمَّا وَقَعَ فِى الْمِعْرَاجِ مِنْهُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَمِنْ رَّبِّه وَمِنَ الْمَلَئِكَةِ

অর্থাৎ তাশাহুদ পাঠের সময় নামাযীর যেন এ নিয়ত না হয় যে, তিনি শুধু মাত্র মিরাজের অলৌকিক ঘটনাটি স্মরণ করে, সে সময় মহাপ্রভু আল্লাহ, হুযুর আলাইহিস সালাম ও ফিরিশতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত কথোপকথন এর বাক্য গুলোই আওড়িয়ে যাচ্ছেন। বরং তার নিয়ত হবে কথাগুলো যেন তিনি নিজেই বলছেন ।
স্বনামখ্যাত  ফকীহগণের উপরোল্লিখিত ইবারতসমূহ থেকে জানা যায় যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে হাযির-নাযির জ্ঞান করা বা বলা কুফর নয়, আর তাশাহুদ পাঠের সময় হুযুর আলাইহিস সালামকে হাযির-নাযির জেনেই সালাম আরয করা চাই। এ তাশাহুদ প্রসঙ্গে ফকীহগণের আরও অনেক বক্তব্য পেশ করা হবে।
সু-প্রসিদ্ধ মজমাউন বরকাত গ্রন্থে শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী (রহঃ) বলেছেন- হুযুর আলাইহিস সালাম নিজ উম্মতের যাবতীয় অবস্থা ও
আমল সম্পর্কে আবগত এবং তার মহান দরবারে উপস্থিত সকলেই ফয়েয প্রদানকারী ও হাযির-নাযির।
শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী (রহঃ) سلوك اقرب السبل بالتوجه الى سيد الرسل নামক পুস্তিকায় বলেন- উলামায়ে উম্মতের মধ্যে বিভিন্ন মতাদর্শ ও বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, হুযুর আলাইহিস সালাম প্রকৃত জীবনেই (কোনরূপ রূপক ও ব্যবহারিক অর্থে যে জীবন, তা নয়) স্থায়ীভাবি বিরাজমান ও বহাল তবীয়তে আছেন । তিনি উম্মতের বিশিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জ্ঞাত ও সেগুলোর প্রত্যক্ষদর্শীরূপে বিদ্যমান তথা হাযির-নাযির। তিনি হকীকত অন্বেষনকারী ও মহান দরবারে নবুয়াতির শরণাপন্নদের ফয়েযদাতা ও মুরুব্বীরূপে বিদ্যমান আছেন।
শাইখ মুহাদ্দিছ দেহলবী (রহঃ) শরহে ফুতুহুল গায়ব গ্রন্থের ৩৩৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন- নবীগণ (আলাইহিস সালামকে) পার্থিব প্রকৃত জীবনেই জীবিত শাশ্বত জীবন সহকারে বিদ্যমান ও কর্মতৎপর আছেন । এ ব্যপারে কারো দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ নেই । চলবে—

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here