কুরআন সুন্নাহর আলোকে আল্রাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ (দ.) হাযির নাযির (পর্ব৪)

0
128

ফকীহ উলামায়ে উম্মতের উক্তিসমূহ থেকে হাজিরনাজির এর প্রমান (পূর্বে আলোচনার পরের অংশ)

 

মিশকাত শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ মিরকাত এর باب مَايُقَالُ عِنْدَ مَنْ حَضَرَبُ الْمَوْتَ  শীর্ষক অধ্যায়ের  শেষে উল্লেখিত আছেঃ

وَلَاتُبَاعِدُ عَنِ الْاَوْلِيَاءِ حَيْثُ طُوِ يَتُ لَهُمُ الْاَرْضُ وَحَصَلَ لَهُمْ اَبْدَ ان ٌمُكْتَسِبَةَ مُتَعَدِّدَةٌ وَجَدُوْ هَا فِىْ اَمَا كِنَ مُخْتَلِفَةٍ فِىْ اَنٍ وَاحِدٍ

অর্থাৎ ওলীগণ একই মুহূর্তে কয়েক জায়গায় বিচরণ করতে পারে। একই সময়ে তারা একাধিক শরীরের অধিকারী হতে পারেন।
শিফা শরীফে আছেঃ
اِنْ لَّمْ يَكُنْ فِىِ الْبَيْتِ اَحَدٌ فَقُلِ السَّلَامُ عَلَيْكَ اَيُّهَا النَّبِىُّ وَرَحْمَةَ اللهِ وَبَرْكَاتُهُ
যে ঘরে কেউ থাকে না সে ঘরে (প্রবেশ করার সময়) বলবেন হে নবী! আপনার প্রতি সালাম, আপনার উপর আল্লাহর অশেষ রহমত বরকত বর্ষিত হোক!
উক্তির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বনামখ্যাত মোল্লা আলী কারী (রহঃ) শরহে শিফা গ্রন্থে বলেছেনঃ

لِاَنَّ رُوْحَ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَاضِرٌ فِىْ بُيُوْتِ اَهْلِ الْاِسْلَامِ

কেননা নবী আলাইহিস সালাম এর পবিত্র রূহ মোবারক মুসলমানদের ঘরে ঘরে বিদ্যমান আছেন
শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী (রহঃ) স্বরচিত মদারেজুন নবুয়াত গ্রন্থে প্রসঙ্গে লিখেছেনহুযুর আলাইহিস সালামকে স্মরণ করুন, তার প্রতি দরুদ পেশ করুন, তার যিকর করার সময় এমনভাবে অবস্থান করুন যেন তিনি আপনার সামনে স্বশরীরে জীবিতাবস্থায় উপস্থিত আছেন, আর আপনি তাকে দেখছেন। আদব মর্যাদা শ্রদ্ধা অক্ষুণ্ন রেখে ভীত লজ্জিত থাকুন এবং ধারণা পোষণ করবেন যে, নিশ্চয় হুযুর পুর নুর আলাইহিস সালাম আপনার কথাবার্তা শুনছেন। কেননা তিনি খোদার গুণাবলীতে গুণান্বিত। আল্লাহর একটি গুণ হচ্ছে আমি (আল্লহ) আমার স্মরণকারীর সঙ্গে সহাবস্থান করি
ইমাম ইবনুল হাজ্জ مدخل গ্রন্থে ইমাম কুসতালানী (রঃ) مواهب গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৩৮৭ পৃষ্ঠায় ২য় পরিচ্ছেদে زيارة قبره شريف শীর্ষক বর্ণনায় লিখেছেনঃ
وَقَدْ قَالَ عُلَمَاءُ نَالَا فَرْقَ بَيْنَ مَوْتِه وَحَيو تِه عَلَيْهِ السَّلَامُ فِىْ مُشَاهِدَ تِه لِاُمَّتِهِ وَمَعرِ فَتِه بِاَحْوَ الِهِمْ وَنِيَّا تِهِمْ وَعَزَائِمِهِمْ وَخَوَاطِرِ هِمْ وَذلِكَ جَلِىٌّ عِنْدَهُ لَاخَفَاءَبِه
আমাদের সুবিখ্যাত উলামায়ে কিরাম বলেন যে, হুযুর আলাইহিস সালামের জীবন ওফাতের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তিনি নিজ উম্মতকে দেখেন, তাদের অবস্থা, নিয়ত, ইচ্ছা মনের কথা ইত্যাদি জানেন। এগুলো তার কাছে সম্পূর্ণরূপে সুস্পষ্ট কোনরূপ অস্পষ্টতা দুর্বোধ্যতার অবকাশ নেই এখানে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here