কুরআন সুন্নাহর আলোকে আল্রাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ (দ.) হাযির নাযির (পর্ব ৫)

0
107

ফকীহ ও উলামায়ে উম্মতের উক্তিসমূহ থেকে হাজির-নাজির এর প্রমান

মিশকাত শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ মিরকাতে মোল্লা আলী কারী (রহঃ) বলেনঃ-

وَقَالَ الْغَزَ الِىْ سَلِّمْ عَلَيْهِ اِذَا دَخَلْتَ فِى الْمَسْجِدِ
فَاِنَّهُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَحْضُرُ فِى الْمَسَجِدِ

ইমাম গাযযালী (রহঃ) বলেছেন, আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করবেন, তখন হুযুর আলাইহিস সালামকে সশ্রদ্ধ সালাম দিবেন। কারণ তিনি মসজিদসমূহে বিদ্যমান আছেন।
কাযী আরায (রহঃ) প্রণীত শিফা শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ নসীমুর রিয়ায এর ৩য় খণ্ডের শেষে উল্লেখিত আছে- আম্বিয়ায়ে কিরাম (আলাইহিস সালাম)শারীরিক ও বাহ্যিক দিক থেকে মানবীয় বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন তবে, আভ্যন্তরীণ ও রূহানী শক্তির দিক থেকে ফিরিশতাদের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এ কারণেই তাঁরা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ দেখতে পান, আসমানের চিড়চিড় আওয়াজ শোনেন এবং হযরত জিব্রাইল (আলাইহিস সালাম) তাদের নিকট অবতরণের ইচ্ছা পোষণ করতেই তার সুঘ্রাণ পেয়ে যান।
সুপ্রসিদ্ধ দালায়েলুল খায়রাত নামক গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখিত আছেঃ
হুযুর আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলঃ আপনার থেকে দূরে অবস্থানকারী ও পরবর্তীকালে ধারাদামে আগমনকররীদের দরূদ পাঠ আপনার দৃষ্টিতে কি রকম হবে? ইরশাদ করেনঃ আন্তরিক অকৃত্রিম ভালবাসা সহকারে দরূদ পাঠকারীদের দরূদ আমি নিজেই শুনি এবং তাদেরকেও চিনি । আর যাদের অন্তরে আমার প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা নেই তাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয় ।
কাযী আরায (রহঃ) এ শিফা শরীফের ২য় খণ্ডে আছঃ-

عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ اِذَ ادَخَلْتُ الْمَسْجِدَ اَقُولُ السَّلَامُ عَلَيْكَ اَيُّهَاالنَّبِىُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرْ كَاتُهُ

হযরত আলকামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, যখন আমি মসজিদে প্রবেশ করি তখন বলি হে নবী । (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)আপনার প্রতি সালাম এবং আপনার উপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। এ হাদীছটির সমর্থন পাওয়া যায় সুবিখ্যাত আবু দাউদ ইবনে মাজা হাদীছ গ্রন্থদ্বয়ের بات الدعاء عند دخول المسجد শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীছ থেকেও।
মদারেজুন নবুওয়াত গ্রন্থের ৪৫০ পৃষ্ঠায় ২য় খণ্ডের ৪র্থ ভাগের حيات انبياء  শীর্ষক পরিচ্ছেদে উল্লেখিত আছে- এরপর যদি বলা হয় যে, আল্লাহ তাআলা হুযুর আলাইহিস সালাম এর পবিত্র শরীরে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি করেছেন ও এমন এক শক্তি দান করেছেন, যে তিনি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেখানে ইচ্ছা করেন সেখানে স্ব-শরীরে বা অনুরূপ কোন শরীর ধারণ করে অনায়াসে গমন করতে পারেন, কবরের মধ্যে হোক বা আসমানের উপর হোক এ ধরনের কথা সঠিক ও বাস্তবসম্মত। তবে সর্বাবস্থায় কবরের সাথে বিশেষ সম্পর্কে বজায় থাকে। চলবে ——

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here