ইসলামের দৃষ্টিতে বায়’আত বা মুরীদ হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ‍সুন্নাহ কি বলে? (পর্ব ১)

0
127

 

 

বায়’আত আরবি শব্দ, যার অর্থ হল আনুগত্যের শপথ, মুরীদ হওয়া প্রভৃতি। বায়’আত শব্দটি বায়য়ু শব্দ থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ বিক্রয় করা। কারণ বিক্রয়ের ন্যায় বায়’আতে অঙ্গীকার আদান প্রাদানের অর্থ নিহিত রয়েছে (ইসলামী বিশ্বকোষ, খণ্ড ১৫,ই.ফা.বা)। মুফতি সৈয়্যদ আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী (রহ.) বলেন,বায়’আত শব্দের অর্থ হল পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হওয়া। অঙ্গিকারবদ্ধ হওয়, কর্তৃত্ব অর্পন করা (মুফতি আমিমুল েইহসান কাওয়ায়িদুল ফিকহ, পৃ. ২১৬)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-“ ওই সব লোক, যারা আপনার নিকট বায়’আত গ্রহণ করেছে তারা তো আল্রারই নিকট বায়’আত গ্রহণ করেছে। তাদের হাতগুলোর উপর আল্লাহর হাত রয়েছে। সুতরাং যে কেউ অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে সে নিজেরই অনিষ্টার্থে অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে, আর যে কেউ অঙ্গীকার পুরণ করেছে ওই অঙ্গীকার, যা সে আল্লাহর সাথে করেছিলো, তবে অতি সত্বর আল্লাহ তাকে মহা পুরুস্কার দেবেন” (সূলা ফাতাহ, আয়াত ১০)। মহান আল্লাহ তাআলা রাসুল (দ.)’র সাহাবীদের বায়’আতের উপর সন্তুষ্ট হয়ে ইরশাদ করেন-“ নিশ্চয় আল্লাহ সন্তুষ্টি হয়েছেনে ইমানদারদের প্রতি যেমন তারা আপনার নিকট বায়’আত গ্রহণ করেছিলো” সূরা ফাতাহ, আয়াত ১৮। ‍উপরের দুটি আয়াতে কারীমার দ্বারা বায়’আত হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। এমনকি মহান আল্রাহ তা’আলা কুরআন মাজীদে মহিলাদের বায়’আতের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে উল্লেখ করেন-“ হে অদৃশ্যের সংবাদদাতা নবী! যখন আপনার সম্মুখে মুসলমান নারীরা বায়’আত হওয়ার জন্য হাযির হয়” সূরা মুমতাহিনা, আয়াত ১২।

উপরের তিনটি আয়াত দ্বারা মহান আল্লাহ বায়’আত হওয়ার গুরুত্ব বুঝিয়েছেন।তাই বায়’আত বা পীর ধরা বা মুরীদ হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্যই জরুরী কেননা প্রত্যেক ব্যক্তি তার পীর ও মাযহাবের ইমামের সাথে হাশরের ময়দানে উঠবেন। যেমন

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-“ যে দিন আমি প্রত্যেক দলকে নিজ নিজ ইমাম সহকারে ডাকবো” সূরা বণি ইসরাঈল আয়াত ৭১। উক্ত আয়াতে শায়খ (পীর) তরীকার ইমাম এবং মাযহাবের ইমামগণও অন্তুভূক্ত। যেমন তাফসীরে রুহুল বায়ান প্রণেতা আল্লামা ইসমাইল হাক্কি (রাহ.) তাঁর তাফসীরে উল্লেখ করেছেন, পরিভাষায় বায়’আতের অর্থ হল-‘কোন নবী, অলী অথবা আধ্যাত্মিক বুযুর্গের হাতে হাত রেখে নিজের কৃত সকল গুনাহ হক ক্ষমা প্রার্থণা করা এবং শরীয়তের বিষয়সমূহের তাঁর আনুগত্য স্বীকার করা’ (ইসমাইল হাক্কি: রুহুল বায়ান, ৫/২২১পৃ. দারুল কুতুব ইলমিয়াহ্,বয়রুত লেবনান, ইসলামী বিশ্বকোষ, খণ্ড ১৫, ই. ফা. বা)। চলবে—

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here