ইসলামের দৃষ্টিতে বায়’আত বা মুরীদ হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ‍সুন্নাহ কি বলে? (পর্ব ৪)

0
117

 

 

বায়আতে রিদওয়ান সম্পর্কে হযরত জাবের (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (দ.) ইরশাদ করেন, “যারা বায়আতে রিদওয়ানে আবদ্ধ হয়েছে, তাদের কেউই জাহান্নামে যাবে না” (তিরমিযী, আস সুনান, ৫/৪০০, হাদিস নং ৩৮১২)

বায়াত অবহেলাকারীদের ব্যাপারে সাহাবীদের যুগের একটি ঘটনা প্রনিধানযোগ্য। যেমন হযরত তালহা (রা.) যখন স্বীয় ইজতিহাদী ভূল স্বীকার করে আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী (রা.) এর হাতে যখন পুনরায় বায়আত গ্রহন করতে চাইলেন, কিন্তু জালিমের হাতে ভীষণ আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার কারণে আমিরুল মু’মিনীন হযরত আলী (রা.) পয্যন্ত পৌঁছা তাঁর পথে সম্ভবপর ছিলো না। তখন তাঁর পাশ দিয়ে আমীরুল মু’মিনীনের একজন সেনা সদস্য অতিক্রম কালে তাকে ডেকে হযরত তালহা (রা.) তাঁর হাতে বায়আতে তাজদীদ করলেন। এরপরই তিনি ইন্তিকাল করলেন। এ ঘটনা শুনে আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী (রা.) বললেন-“যতক্ষণ পয্যন্ত আমার বায়আত তাঁর (তালহার)স্কন্ধে ছিলো না, আল্লাহ তাআলা তালহার জান্নাতে যাওয়াকে চাননি” (হাকেম নিশাপুরী, আল মুস্তাদরাক, ৩/৪২১পৃ. মানাকিবে তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ, হাদিস নং ৫৬০১)।

এতবড় সাহাবী হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র হযরত আলী (রা.) এর নিকট বায়আত না হওয়ার দরুন যদি বর্তমান ফিতনার যামানায় রয়েছি তাদের অবস্থা কীরূপ হবে? তাই ঈমান হিফাজতের জন্য অবশ্যই প্রত্যেকের একজন কামেল শায়খ বা পীরের দামানের সাথে সম্পৃক্ত থাকা প্রয়োজন।

আওয়ারিফুল মায়ারিফ গ্রন্থে ইমাম সোহরাওয়ার্দী (রহ.) বলেন, “ মুর্শিদের নির্দেশাধীন হওয়া মানে আল্রাহ ও রাসুলের নির্দেশাধীন হওয়া আর তা বায়আতের সুন্নাতকে জীবিত করা” (সোহরাওয়ার্দী, আওয়ারিফুল মা’আরিফ, বাবুশ শায়য়ুন আশার ৭৮পৃ.)

উক্ত গ্রন্থে আরো উল্লেখ আছে যে, ‘বায়’আত-ই-এরাদাত’ অর্জন করা একমাত্র ওই লোকের জন্য সম্ভব যে স্বীয় আত্মাকে মুর্শিদের নিকট বন্দী করেছে এবং স্বীয় ইচ্ছা হতে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসেছে আর নিজ স্বাধীনতা ছেড়ে শায়খের মধ্যে ফানা (বিলীন)হয়ে গেছে” (সোহরাওয়ার্দী, আওয়ারিফুল মা’আরিফ, বাবুশ শায়য়ুন আশার ৭৮পৃ)   চলবে—–

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here