এ ফিতনার যুগে কুরআন সুন্নাহর আলোকে সিরাতুল মুস্তাকিম বা সঠিক পথ কোনটি?

0
274

আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ করেছেন-
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻛُﻮﻧُﻮﺍ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺎﺩِﻗِﻴﻦَ
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, আর সৎকর্মপরায়ন শীলদের সাথে থাক। – সূরা তাওবা-১১৯
উক্ত আয়াতে কারীমায় সুষ্পষ্টভাবে বুযুর্গদের সাহচর্যে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ﺍﻫْﺪِﻧَﺎ ﺍﻟﺼِّﺮَﺍﻁَ ﺍﻟْﻤُﺴْﺘَﻘِﻴﻢَ ( 6 ) ﺻِﺮَﺍﻁَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧْﻌَﻤْﺖَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ
আমাদের সরল সঠিক পথ [সীরাতে মুস্তাকিম] দেখাও। তোমার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দাদের পথ। – সূরা ফাতিহা-৬,৭
সূরায়ে ফাতিহায় মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর নিয়ামাত প্রাপ্ত বান্দারা যে পথে চলেছেন সেটাকে সাব্যস্ত করেছেন সীরাতে মুস্তাকিম।
আর তার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দাগণ হলেন,,,
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧْﻌَﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻴِّﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺼِّﺪِّﻳﻘِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬَﺪَﺍﺀِ ﻭَﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴﻦَ
যাদের উপর আল্লাহ তা’য়ালা নিয়ামত দিয়েছেন, তারা হলেন নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, ও নেককার বান্দাগণ। – সূরা নিসা-৬৯
এই দুই আয়াত এ কথাই প্রমাণ করছে যে, নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা হলেন নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, আর নেককারগণ, আর তাদের পথই সরল সঠিক তথা সীরাতে মুস্তাকিম পথ। অর্থাৎ তাদের অনুসরণ করলেই সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলা হয়ে যাবে।
যেহেতু আমরা নবীগণকে দেখিনি, দেখিনি সিদ্দীকগণও, দেখিনি শহীদদের। তাই আমাদের সাধারণ মানুষদের কুরআন সুন্নাহ থেকে মাস’য়ালা বের করে সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলার চেয়ে একজন পূর্ণ শরীয়ত পন্থী হক্কানী শায়খ বা বুযুর্গের অনুসরণ করার দ্বারা সীরাতে মুস্তাকিমের উপর চলাটা হবে সবচে সহজ। আর একজন শরীয়ত সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির সাহচর্য করার নামই হল পীর মুরিদী।
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক হাদীসে নেককার ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। যেমন,,,
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻣﻮﺳﻰ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ( ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺠﻠﻴﺲ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﻭﺍﻟﺴﻮﺀ ﻛﺤﺎﻣﻞ ﺍﻟﻤﺴﻚ ﻭﻧﺎﻓﺦ ﺍﻟﻜﻴﺮ ﻓﺤﺎﻣﻞ ﺍﻟﻤﺴﻚ ﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﻳﺤﺬﻳﻚ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺒﺘﺎﻉ ﻣﻨﻪ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺠﺪ ﻣﻨﻪ ﺭﻳﺤﺎ ﻃﻴﺒﺔ ﻭﻧﺎﻓﺦ ﺍﻟﻜﻴﺮ ﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﻳﺤﺮﻕ ﺛﻴﺎﺑﻚ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺠﺪ ﺭﻳﺤﺎ ﺧﺒﻴﺜﺔ
হযরত আবু মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-সৎসঙ্গ আর অসৎ সঙ্গের উদাহরণ হচ্ছে মেশক বহনকারী আর আগুনের পাত্রে ফুঁকদান কারীর মত। মেশক বহনকারী হয় তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা তুমি নিজে কিছু খরীদ করবে। আর যে ব্যক্তি আগুনের পাত্রে ফুঁক দেয় সে হয়তো তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দিবে, অথবা ধোঁয়ার গন্ধ ছাড়া তুমি আর কিছুই পাবে না।
দেখুন,,,
বুখারী শরীফ হাদীস নং-৫২১৪,
মুসলিম শরীফ হাদীস নং-৬৮৬০,
মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩১৯০,
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৮৩১,
সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬১,
মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৪২৯৫,
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৯৬৬০,
মুসনাদুল হুমায়দী, হাদীস নং-৭৭০,
মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২৬২২,
মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-১৩৭৭,
মুসনাদে তায়ালিসী, হাদীস নং-৫১৫।
এছাড়াও অনেক হাদীস নেককার ও বুযুর্গ ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণের প্রতি তাগিদ বহন করে। আর সবচে বড় কথা হল-বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষই দ্বীন বিমুখ। যারাও দ্বীনমুখী, তাদের অধিকাংশই কুরআন হাদীসের আরবী ইবারতই সঠিকভাবে পড়তে জানে না, এর অর্থ জানবেতো দূরে থাক। আর যারাও বাংলা বা অন্য ভাষায় অনুবাদ পড়ে বুঝে, তাদের অধিকাংশই আয়াত বা হাদীসের পূর্বাপর হুকুম, বা এ বিধানের প্রেক্ষাপট, বিধানটি কোন সময়ের জন্য, কাদের জন্য ইত্যাদী বিষয়ে সম্যক অবহিত হতে পারে না।
তাই বর্তমান সময়ে একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কুরআন সুন্নাহ থেকে নিজে নিজে মাস’য়ালা বের করে আল্লাহ তা’য়ালার উদ্দিষ্ট সীরাতে মুস্তাকিমে উপর চলা বান্দার জন্য কষ্টসাধ্য। তাই আল্লাহ তা’য়ালা ও তার রাসূল সহজ পথ বাতলে দিলেন একজন বুযুর্গের পথ অনুসরণ করবে, তো সীরাতে মুস্তাকিমেরই অনুসরণ হয়ে যাবে।
কিন্তু কথা হচ্ছে যার অনুসরণ করা হবে সে অবশ্যই সীরাতে মুস্তাকিমের পথিক হতে হবে। অর্থাৎ শায়খ/মুরশীদ বা পীর এর মাঝে থাকতে হবে শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ। বাহ্যিক গোনাহ থেকে হতে হবে মুক্ত। কুরআন সুন্নাহ সম্পর্কে হতে হবে প্রাজ্ঞ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাতের উপর হতে হবে অবিচল।
এমন গুনের অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি পাওয়া যায়, তাহলে তার কাছে গিয়ে তার কথা মত দ্বীনে শরীয়ত মানার নামই হল পীর মুরিদী। এরই নির্দেশ আল্লাহ তা’য়ালা কুরআন শরীফে দিয়েছেন,,,
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻛُﻮﻧُﻮﺍ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺎﺩِﻗِﻴﻦَ
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, আর সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক। – সূরা তাওবা-১১৯
বিঃদ্রঃ একজন হক্কানী পীরের কাছে মুরীদ হলে শরীয়তের বিধান পালন ও নিষিদ্ধ বিষয় ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ঠা আসে মুরুব্বীর কাছে জবাবদিহিতা থাকার দরুন। সেই সাথে আল্লাহ তা’য়ালার ভয়, ইবাদতে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক সহী আমল করার এবং যারা বিভ্রান্তমূলক কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তাদের বিভ্রান্তির হাতে থেকে তাদের এবং আমাদের বাঁচার তৌফিক দান করুন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here