বিজেপি ও আসলাম চৌধুরী কি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত?-জসিম উদ্দিন চৌধুরী

0
117

নিউজ ডেস্ক  : যাদের মেধা যোগ্যতা, লক্ষ্য ও অধ্যবসায় থাকে তাদের কাজের গতি ও চলার গতি সাধারণের চেয়ে অনেকটা অসাধারণ হবেই। সে কারনে আসলাম চৌধুরী অন্য অনেকের চেয়ে রাজনীতিতে এগিয়ে আছে। চলমান আন্দোলন সংগ্রামে তার ভূমিকা বিশেষ করে তার সাংগঠনিক দক্ষতা দলের ভিতরে ও বাইরে সবার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তার অবদান, দক্ষতা ও যোগ্যতায় সন্তুষ্ট হয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তাকে দলের যুগ্মমহাসচিবের পদ দিয়েছেন। এ কারনে চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিন ও মহানগরের তৃনমুল পর্যায়ের নেতারা প্রচন্ড খুশী। একই সঙ্গে ঢাকাতেও তার গ্রহণযোগ্যতা ঈর্ষনীয়। সরকার বিরোধী আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা ও দলের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানই তার জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।
ঘরে-বাহিরে অপশক্তিসমুহ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেই চলেছে। গত ৭ মে তারিখে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ এ প্রকাশিত ফটো এবং সংবাদ তার অন্যতম প্রমাণ। সেই সংবাদের প্রতিবাদ দেয়ার পর গত ৯ মে আরেকটি ফটো ও খবর দিয়ে তার বক্তব্যকে অগ্রাহ্য করে তাকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে প্রচার করার হীন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সংবাদের সুত্র ধরে চট্টগ্রামের সুপ্রভাত বাংলাদেশ আরো কিছু অসত্য তথ্য দিয়ে আসলাম চৌধুরীকে হেনস্থা করার অপচেষ্টা সবার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেখানে তার ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সব বিষয় টেনে নিয়ে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছে আসলাম চৌধুরী একজন ষড়যন্ত্রকারী এবং আরো অনেক কিছু। কিন্তু বাস্তবে তাদের এই প্রচেষ্টা কিছুতেই সফল হবে না। কারণ ভুল তথ্য দিয়ে সাময়িকভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করা গেলেও স্থায়ীভাবে সেটা সম্ভব হয় না। সত্যকে লুকিয়ে রাখা যায় না।
প্রথমে “দৈনিক ইত্তেফাক”-এ প্রকাশিত খবরের ‘প্রতিবাদ’ আসলাম চৌধুরী দিলেও সম্পুর্ন প্রতিবাদ প্রকাশ না করে তারা সাংবাদিক হিসেবে তাদের দায়িত্ব কর্তব্যের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন অথচ এই দৈনিক ইত্তেফাক এর প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জনমত গঠনে অসাধারণ ভূমিকা ইতিহাসের অংশ এবং সাংবাদিক জগতের অনুসরনীয় দৃষ্টান্ত। দক্ষ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা সংবাদের গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করে, শুধু ফটো দিয়ে যেনতেন প্রকারে একটি সংবাদ প্রকাশ করে তাদের দায়িত্ব শেষ করে না। ‘দৈনিক ইত্তেফাকে’ প্রকাশিত সংবাদ ও আসলাম চৌধুরীর ‘প্রতিবাদ’ এর মধ্যে আসল রহস্য লুকিয়ে আছে। একটু সত্য অনুসন্ধানী হলে সত্যতা বেরিয়ে আসত।
বিশেষ করে আসলাম চৌধুরী প্রতিবাদ লিপির ৪র্থ প্যারায় লিখেছেন ‘বাংলাদেশের সুজন বাবুর সাথে আমার পরিচয় হওয়ায় টুরিষ্ট হিসেবে আগ্রার তাজমহল দেখে ফেরার পথে আগ্রার মেয়রসহ চা-চক্র অনুষ্ঠানে শিপন বাবু আমাকে আমন্ত্রন জানায়। তার আমন্ত্রনে সাড়া দিয়ে তাদের সাথে চা-চক্রে অংশগ্রহণ করি এবং ছবি তুলি’। তাছাড়া দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের দরজা ইসরাইলীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে’ শিরোনামের সংবাদের শেষে ১৯ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে ‘সামনের সারিতে বসা আছেন মেন্দি এন সাফাদিসহ কয়েকজন আর, এস, এস নেতা’।এখন আমাদের প্রশ্ন আসলাম চৌধুরী ২য় সারিতে দাড়িয়ে থেকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত হলে অন্য যারা উপস্থিত ছিলেন বিশেষ করে সামনে বসা আর, এস, এস নেতাগণ ষড়যন্ত্রের মুল হোতা বললে কি অযৌক্তিক হবে? এই আর, এস, এস তো ক্ষমতাসীন বিজেপির অংশ। সেই হিসেবে বলতে হয় আসলাম চৌধুরী ও বিজেপি এই সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জানি না এর উত্তরে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা কি বলবেন? তবে সচেতন মহল এবং এই সরকারও বলতে বাধ্য ব›দ্ধুতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ফাস্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়া বিজেপি এই সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে না এবং তাদের সাথে উপস্থিত আসলাম চৌধুরী কোন ষড়যন্ত্র করছে না। এটা হয়ত কোন সেমিনার বা সভার ফটো। এর বেশি কিছু নয়।
“সরকার উৎখাতের বৈঠক”- এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন আগুন নিয়ে খেলা করার মত। বিএনপি এই সরকারের বিরুদ্ধে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে তাই বলে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী মুসলিম বিশ্বের শত্র“ বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে মিলে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে এটা ভাবতেও অবাক লাগে। এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করে সরকারের বিরুদ্ধে আসলাম চৌধুরীকে মুখোমুখি করে কার লাভ? অথবা কারা বেনিফিশিয়ারী এটা ভেবে দেখা দরকার। তাই সংবাদ পরিবেশকারীদের প্রতি আহবান খবরের সূত্রগুলো আরো বেশী করে যাচাই-বাছাই করা দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here