কুরআন সুন্নাহর আলোকে আল্রাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ (দ.) হাযির নাযির (পর্ব ১২)

0
173

 

 

দিওয়ানে সালেক  কাব্য গ্রন্থে উল্লেখ আছে-
কবরে প্রথম রাত হচ্ছে মহান রবের (প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দর্শন লাভের সৌভাগ্য রজনী। একজন আশেক এর জন্য ঈদের আনন্দও এ রাত্রির অপুর্র আনন্দের কাছে মূল্যহীন। এ রাতেই প্রিয়জনের সান্নিধ্য লাভের অনাস্বাদিত  সুখানুভূতি ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না।
এজন্যই বুযুর্গানে দ্বীনের পরলোক গমনের দিনকে বলা হয় উরসের দিন। উরস শব্দের অর্থ শাদী বা আনন্দ। ঐ দিনই হচ্ছে দু’জাহানের দুলহা উরস হুযুর আলাইহিস সালামের দর্শন লাভের দিন।
লক্ষ্যণীয় যে  একই সময় হাজার  হাজার মৃত ব্যাক্তির লাশ দফন করা হয়ে থাকে । হুজুর আলাইহিস সালাম যদি হাযির-নাযির না হন তাহলে, তিনি প্রতিটি কবরে উপস্থীত থাকেন কি রূপে? অতএব প্রমানিত হল যে, আমাদের দৃষ্টির উপরই আবরন বা পর্দা রয়েছে ফিরিশতাগন এ পর্দা অপসারন করে দেন। যেমন কেউ দিনে তাবুর মধ্যে অবস্থান  করেছে বিধায় সূর্য তার দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, এমন সময়  কেউ এসে উপর থেকে তাবু হটিয়ে তাকে সূর্য দেখিয়ে দিল।
২) মিশকমাত শরীফের التحريص على قيام الليل শীর্ষক অধ্যায়ে বর্নিত আছেঃ
اِسْتَيْقَظَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً فَزِعًا يَقُوْلُ سُبْحَنَ اللهِ مَاذَا اُنْزِلَ اللَّيْلَةَ مِنَ الْخَزَ ائِنِ وَمَا ذَااُنْزِلَ مِنَ الْفِينِ
[এক রাতে হুযুর আলাইহিস সালাম ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় ঘুম থেকে জাগরিত বিস্ময়াবিভূত হয়ে বলতে লাগলেন সুবহানাল্লাহ আজ রাত কতই না ঐশ্বর্য সম্ভার ও ফিতনা (বালা মুসিবত ইত্যাদি) অবতীর্ণ করো হলো!] এ থেকে জানা যায় যে ভবিষ্যতে যে সব ফিতনা আত্নপ্রকাশ করবে সেগুলো তিনি স্বচক্ষে অবলোকন করেছিলেন।
৩) মিশকাত শরীফের المعجزات শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত আনাস (রহঃ) থেকে বর্নিত আছেঃ
نَعَى الَّنَبِىُّ عَلَيْهِ السَّلَامُ زَيْدًاوَجَعْفَرَ وَاِبْنَ رَوَاحَةَ لِنَّاسِ قَبْلَ اَنْ يَّا تِبَهُمْ خَبْرُ هُمْ فَقَالَ اَخَذُ الرَّايَةَ زَيْدٌفَاُصِيْبُ ( اِلَى) حَتَّى اَخَذَ الرّايَةَ سَيْقٌ مِنْ سُيُوْ اللهِ يَعْنِىْ خَالِدَابْنَ الْوَلِيْدِ حَتَّى فَتَحَ اللهُ عَلَيْهِمْ
হযরত যায়েদ জাফর ও ইবন রওয়াহা (রিদওয়ানুল্লাহে আলাহীম আজমায়ীন) প্রমুখ সাহাবীগনের শাহাদত বরনের সংবাদ যুদ্ধক্ষেত্র  থেকে আসার আগেই হুযুর আলইহিস সালাম মদীসার লোকদেরকে উক্ত সাহাবীগণের শহীদ হওয়ার কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেনঃ পতাকা এখন হযরত যায়দের (রাঃ) হাতে, তিনি শহীদ হয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর তলোয়ার উপাধিতে ভূষিত সাহাবী হযরত খালেদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ) ঝান্ডা হাতে নিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাকে জয় যুক্ত করলেন ।
এতে বোঝা গেল মদীনা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত যুদ্ধ ক্ষেত্র বে’রে মাউনা’য় যা কিছু হচ্ছিল, হুযুর আলাইহিস সালাম তা সুদূর মদীনা থেকে অবলোকন করছিলেন।
(৪) মিশকাত শরীফের ২য় খন্ডের  الكرامات অধ্যায়ের পরে  وفاة النبى عليه السلام শীর্ষক অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে- তোমাদের সঙ্গে আমার পুনরায় সাক্ষাতকারের জায়গা হল হাউজে কাউছারের যা আমি এখান থেকেই দেখতে পাচ্ছি ।
(৫) মিশকাত শরীফের تسوية الصف শিরোনামের অধ্যায়ে বর্নিত আছেঃ

اَقِيْمُوْا صُفُوْ فَكُمْ فَاِنِّىْ اَرَاكُمْ مِنْ وَّرَاِئْ
নামাযে তোমাদের কাতার সোজা রাখ; জেনে রাখ, আমি তোমাদেরকে পিছনের দিক থেকেও দেখতে পাই ।
(৬) সুপ্রসিদ্ধ হাদীছের গ্রন্থ তিরমিযী শরীফ ২য় খন্ডে ‘বাবুল ইলম‘ এর অন্তর্ভুক্ত مَاجَاءَ فِىْ ذَهَابِ الْعِلْمِ  শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে।
كُنَّا مَعَ النَّبِىَّ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَشَخَصَ ببَصَرِه اِلى سَّمَاءِ ثُمَّ قَالَ هذَا اَوَانٌ يُخْتَلَسُ الْعِلْمُ مِنَ النَّاسِ حَتَّى لَاَ يَقْدِرُوْا مِنْهُ عَلى شَيْئٍ
[একদা আমরা হুজুর আলাইহিস সালামের সাথেই ছিলাম। তিনি আসমানের দিকে দৃষ্টি করে বললেনঃ ইহাই সে সময়, যখন জনগণ থেকে জ্ঞান ছিনিয়ে নেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত তারা এ জ্ঞানের কিছুই ধারনা করতে পারবে না।]
এ হাদিছের ব্যাখ্যায় হদীছের সুবিখ্যাত ভাষ্যকার মোল্লা আলী কারী (রহঃ)  তাঁর বিরচিত মিরকাত এর কিতাবুল ইলম এ বলেছেনঃ
فَكَاَنَّهُ عَلَيْهِ السَّلَامُ لَمَّا نَظَرَ اِلَى السَّمَءِ كُوْشِفَ بِاِقْتِرَابِ اَجَلِه فَاَخْبَرَ بِذَالِكَ
হুযুর আলাইহিস সালাম যখন আসমানের দিকে  তাকালেন, তখন তার নিকট প্রকাশ পায় যে তাঁর পরলোক গমনের সময় ঘনিয়ে আসছে। তখনই তিনি সে সংবাদ দিয়েদিলেন।
(৭) মিশকাত শরীফের বাবুল ফিতান এর প্রারম্ভে প্রথম পরিচ্ছেদে বর্নিত আছেঃ হুযুর আলাইহিস সালাম একদা মদীনা মুনাওয়ারার এক পাহাড়ের  উপর দাঁড়িয়ে সাহবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করলেন আমি যা দেখতে পাচ্ছি তোমরা ও কি দেখতে। করলেনঃ জি‘না। তখন তিনি  ইরশাদ করেন-
فَاِنِّيْ اَرَى الْفِتنَ تَقَعُ خِلَالَ بُيُوْ تِكُمْ كَوَ قْعِ الْمَطَرِ
[অর্থাৎ আমি তোমাদের বাড়িতে ফিতনাসমূহ একটির পর একটি বৃষ্টিরমত পতিত হতে দেখতে পাচ্ছি।]
বোঝা গেল যে, কুখ্যাত ইয়াজিদ ও হাজ্জাজের শাসনামলে তথা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লাম এর অফাত এর পরে যে সব ফিতনা-ফ্যাসাদ সংঘটিত হবার ছিল সেগুলো তিনি অবলোকন করছিলেন। এগুলিই একটির পর একটি আত্নপ্রকাশ করতে দেখতে পাচ্ছিলেন।
উল্লেখিত হাদিছ সমূহ এর আলোকেই এ কথাই জানা গেল যে হুযুর আলাইহিস সালাম তার সত্যদর্শী দৃষ্টিতে ভবিষ্যতের ঘটনাবলী দূরের ও নিকটের যাবতীয় অবস্থা, হাউজে কাউছার, বেহেশত-দোযখ,  অবলোকন করেন। তারই বদৌলতে তার ভক্ত ও অনুরক্ত খাদিমগণকেও আল্লাহ তআলা এ শক্তি ও জ্ঞান দান করে থাকেন ।
চলবে—

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here