নিজামীর মৃত্যুদন্ড বনাম শহীদ এর বিশ্লেষণ

0
112

হাফেজ মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন আরিফ: জামাতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের পর  জামাতে ইসলামীর ভাইদের মুখে শোনা যাচ্ছে নিজামীর দোয়া নাকি আল্লাহ্ কবুল করেছেন, সেজন্য তিনি শহীদের মর্যাদা পেয়েছেন। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে  তিনি যদি শহীদ হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থণায় করেেই থাকেন তাহলে মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে জামাতে ইসলামী হরতাল ডাকলো কেন? সেই কী বদর প্রান্ত থেকে যুদ্ধ করে এসেছে!? এজন্যই কী সে “শহীদ সার্টিফিকেট” পাইছে..? শত প্রশ্ন আছে কিন্তু উত্তর দেওয়ার কেউ নাই?

৭৫ এ একটি পরিবারের সব সদস্যকে মেরে ফেলা হয়েছে, তারা কেউ “”শহীদ”হয় নাই! আর এই কুলাঙ্গারদের কেউ মরলে নাকি “”শহীদ””হয়ে যায়। এরা ইসলামের নামে আর কত ভণ্ডামি করবে, ফতোয়া দিবে আল্লাহই ভালো জানেন।

শহীদ শব্দের আভিধানিক অর্থঃ হল সাক্ষী।
ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় স্বীয় নফসকে আল্লাহর রাস্তায় কোরবানি দিয়ে আল্লাহর ওয়াহদানিয়্যত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেসালাত, দ্বীন ইসলামকে সত্য বলে সাক্ষী দাতাকে শহীদ বলে। শহিদদের শহীদ বলার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে তারা নিজেদের জান নিজের নফসানিয়্যত ব্যাতীত দান করে দেন। শাহাদাত শুধুমাত্র ঈমানদার বান্দাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে মহান দৌলত। সুতারং কোন মুনাফিক বা বেঈমানের জন্য শাহাদত নেয়ামত নেই।

শাহাদাত দুই প্রকার।
১. শাহাদাতে হাকিকি। প্রকৃত শাহাদত, অর্থাৎ ধর্মীয় জিহাদে অংশ গ্রহন করে শহীদ হওয়া। বা ধর্মের কথা বলার দরুন চক্রান্ত করে কতল করা। যেমন মাওলা আলীর শাহাদত। আল্লামা ফারুকির শাহাদত ইত্যাদি।
২. শাহাদাতে হুকমি। বিধানগত শাহাদত। এমন অনেক মৃত্যু আছে যা শাহাদাতের হুকুমের অর্ন্তভুক্ত। নিম্নে কয়েকটি উল্লেক করা হল।
১. ইলম অর্জনে ব্যাস্ত তালেবে ইলম।
২. প্রসব বেদনায় মৃত্যু বরনকারীনী মহিলা।
৩. অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণকারী।
৪. ভূমিকম্পে, পাহাড় ধসে, সমুদ্রে ডুবে, পানিতে ডুবে, এক্সিডেন্টে মৃত্যু বরনকারীগণ।
৪. অন্যায়ভাবে হত্যার স্বীকার হলে।
৫. সন্ত্রাসী বা অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রান হারালে।
৬. অধিক জ্বরে মৃত্যুবরনকারী। ইত্যাদি।
এখন আসুন জেনে নিই, মতিউর রহমান নেজামী, আলী আহসান মোজাহিদ, আব্দুল কাদের মোল্লাহ, কামারুজ্জামানসহ যে সকল জামাতের নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ইন্তিকাল করেছে তাদের  শহীদ বলা যাবে কিনা?
প্রথমে আলোচনা হয়েছিল শাহাদাত ঈমানদারগণের জন্য খাচ। আমরা একটু ইতিহাস থেকে যাচাই করি এদের ঈমান আছে কিনা? জামাত ইসলামির প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদি দর্শণে দীক্ষিত ছিল উল্লেখিত ব্যাক্তিগণ। এরা তারই রেখে যাওয়া দর্শণে পরিচালিত দলের নেতা ছিলেন। পাক ভারত উপমহাদেশের আলেমগণের মধ্যে বিশেষত হক্বপন্থী ওলামায়ে আহলে সুন্নাতগণ তার কুফরী আক্বিদার কারণে তাকে কাফের ফতোয়া প্রদান করে। তবে অতীব চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে ওলামায়ে দেওবন্দ তার বিরুদ্ধে দারুণ দারুণ কিতাব প্রনয়ন করেছে। দেওবন্দি মওলবি হুসাইন আহমদ মদনী ও আনোয়ার শাহ কাস্মীরীর শিষ্য চন্দ্রঘোনা ইউনুচিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ইউনুচ মৌলভীর ওস্তাজ ইউছুপুল বন্নুরী তার “আল ওস্তাজুল মওদুদী গ্রন্থে অনেক তথ্য দিয়ে শেষে লিখতেছে ” ওয়া এয়াত্তাফেকুনা ওলামায়ে হিন্দ ওয়া পাকিস্তান আলাইহি ওয়াহুয়া ধ-ল্লুন ওয়া মুধিল্লুন ওয়া খেলাপে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ” অর্থঃ হিন্দুস্থান ও পাকিস্তানের ওলামায়ে কেরাম কার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষন করেছেন এই আবুল আলা মওদুদী নিজে পথভ্রষ্ট ও অন্যকে পথভ্রষ্টকারী, এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের খেলাফ। তার অনুসারীদের পিছনে নামাজ হবে না। তাদের সাথে বিবাহ শুদ্ধ নয়। ঢাকা লালাবাগ থেকে ৩৬০জন ওহাবী ওলামাদের স্বাক্ষরে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছে যার নাম মিষ্টার মওদুদির নিউ ইসলাম। যাতে মওদুদি জামাতের স্বরূপ উন্মোচিত করেছে। তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম সকল মতের দলের কাছে এরা কাফের। অতেব কাফেরর তকদিরে শাহাদাত নাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here