কুরআন সুন্নাহর আলোকে আল্রাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ (দ.) হাযির নাযির (পর্ব ১৩)

0
157

 
(৮) মিশকাত শরীফের ২য় খন্ডের باب الكرامات শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছেঃ হযরত উমর (রাঃ) হযরত সারিয়া (রাঃ) কে এক সেনা বাহিনীর অধীনায়ক নিযুক্ত করে নেহাওয়ানন্দ নামক স্থানে পাঠিয়েছিলেন। এর পর একদিন হযরত উমর ফারুক (রাঃ) মদীনা মুনাওয়ারায় খুতবা পাঠের সময় চিৎকার করে উঠলেন ।  হাদীছের শব্দগুলো হলঃ
فَبَيْنَمَا عُمَرَيَخْبُطُ فَجَعَلَ يَصِيْخُ يَا سَارِيَةُ الْجَبَلَ
অর্থাৎ হযরত উমর (রাঃ) মদীনা মুনাওয়ারায় খুতবা পড়ার সময় চীৎকার করে বলে উঠলেন ওহে সারিয়া! পাহাড়ের দিকে পিঠ দাও ।
বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর উক্ত সেনাবাহিনী থেকে বার্তা বাহক এসে জানানঃ আমাদিগকে শত্রুরা প্রায় পরাস্ত করে ফেলেছিল । এমন সময় কোন এক আহবানকারীর ডাক শুনতে পেলাম। উক্ত অদৃশ্য আহবানকারী বলছিলেনঃ সারিয়া! পাহাড়ের শরণাপন্ন হও। তখন আমরা পাহাড়কে পিঠের পেছনে রেখে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলাম। এরপর আল্লাহ আমাদের সহায় হলেন, ওদেরকে পর্যুদস্ত করে দিলেন ।
(৯) ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) তাঁর রচিত ফিকহে আকবর গ্রন্থে ও আল্লামা জালালুদ্দীন সয়ুতী (রহঃ) জামেউল কবীর গ্রন্থে হযরত হারিছ ইবনে নুমান (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন একবার  আমি (হারিছ) হুযুর আলাইহিস সালামের খিদমতে উপস্থিত হই। সরকারে দুজাহান আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন হে হারিছ! তুমি কোন অবস্থায় আজকের এ দিনটিকে  পেয়েছ? আরয করলামঃ খাটি মুমিন। পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার ঈমানেব স্বরূপ কি? আরয করলাম-
وَكَاَنِّىْ اَنْظُلُرُ اِلَى عَرْشِ رَبِّىْ بَارِزًا وَكَاَ نِّىْ اَنْظُرُ اِلَى اَهْلِ الْجَنَّةِ يَتَظَاوَرُوْنَ فِيْهَا وَكَاَنِّىْ اَنْظُرُ اِلَى اَهْلِ النَّرِ يَتَضَا عَوْ نَ فِيْهَا
অথাৎ আমি যেন খোদার আরশকে প্রকাশ্যে দেখছিলাম। জান্নাতাবাসীদেরকে পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাত করতে এবং দোযখবাসীদেরকে অসহনীয় যন্ত্রণা হট্টগোল করতে দেখতে পাচ্ছিলাম।
এ কাহিনীটি প্রসিদ্ধ মছবী শরীফেও সুন্দর ভাবে বিধৃত হয়েছেঃ- হযরত হারিছ (রাঃ) বলছিলেন- আমার দৃষ্টির সামনে আটটি বেহেশত ও সাতটি  দোযখ এমন ভাবে উদ্ভাসিত যেমন- হিন্দুদের সামনে তাদের প্রতিমা বিদ্যমান রয়েছে। সৃষ্টির প্রত্যেক  ব্যক্তিও প্রত্যেকটি বস্তুকে  এমন ভাবে চিনতে পারছিলাম যেমন- গম চুর্ণ করার সনাতন চাক্কীর মধ্যে গম ও যবকে স্পষ্টরূপে চিনা যায় । জান্নাতবাসী দোযখবাসী মাছ ও পিঁপড়ার মত  স্পষ্ট রূপে আমার সামনে উদ্ভাসিত ছিল ইয়া রসুলুল্লাহ! এখানে ক্ষান্ত হব না আরো কিছু বলব? হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম) তার মুখ চেপে ধরে বললেন, আর কিছু বলার দরকার নেই।
এখান লক্ষ্যনীয় যে, সূর্যের পরমানু সদৃশ সাহাবীগনের দৃষ্টি শক্তির এ অবস্থা যে, বেহেশত-দোযখ, আরশ-পাতালপুরী, জান্নতবাসী ও দোযখবাসীকে স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছেন, তাহলে দু-জাহানের সূর্য সদৃশ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দৃষ্টিশক্তি সম্পর্কে কোন আপত্তি তোলার অবকাশ আছে কি? -সুত্রঃ জাআল হক ১ম খন্ড-চলবে–

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here