কুরআন সুন্নাহর আলোকে আল্রাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ (দ.) হাযির নাযির (পর্ব ১৪)

0
156

যুক্তি নির্ভর দলীলাদির সাহায্যে হাযির-নাযির এর প্রমাণ

ইসলাম ধর্মের অনুসারীগণ এ বিষয়ে একমত যে, হুযুর সাইয়্যিদ আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ পবিত্র সত্ত্বা যাবতীয় গুণাবলীতে ভূষিত। অর্থাৎ যে সব গুণাবলী অন্যান্য সম্মানিত নবী কিংবা ভবিষ্যতে আগমনকারী উচ্চ পর্যায়ের ওলীগণ বা কোন সৃষ্টজীব লাভ করেছেন বা করবেন, সে সমস্ত গুণাবলী বরং তার চেয়েও বেশী গুণাবলীতে হুযুর আলাইহিস সলামকে ভূষিত করা হয়েছে। বরং অন্যান্য সকলেই যা কিছু অর্জন করেছেন, তা সব হুযুর আলাইহিস সালামের বদৌলতে। কুরআন কারীম ইরশাদ করেছেন- (আপনি পূর্ববর্তী নবীগণের পথে চলুন।) তাফসীরে রূহুল বয়ানে এ কথার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- فَجَمَعَ اللهُ كُلَّ خَصْلَةٍ فِىْ حَبِيْبِه عَلَيْهِ السَّلَامُ  অর্থাৎ আল্লাহ হুযুর আলাইহিস সালামকে প্রত্যেক নবীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত করেছেন। এ কথাটুকু মওলানা জামী (রহঃ) এ কবিতার নিম্নোক্ত পংক্তিদ্বয়েও বিধৃত হয়েছে-
[স্বনামধন্য কবি হুযুর আলাইহিস সালামকে সম্বোধন করে বলেছেন হে নবী! আপনি হযরত ইউসুফ (আঃ) এর অপূর্ব সৌন্দর্য রাশিতে ভূষিত, হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) এ ফুঁক দিয়ে জীবন দানের ক্ষমতা সম্পন্ন ও হযরত মুসা (আঃ) (এর য়াদে বায়যার) একটি হাত বগলেন নিচে এনে বের করলে উজ্জ্বলরূপে ভাস্বর হওয়ার মুজিযা) অধিকারী। যে সব গুণাবলী পূর্ববর্তী নবীগণ পৃথক পৃথকভাবে লাভ করেছিলেন সব গুণাবলী আপনার মধ্যে সামগ্রিকরূপে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।]
মওলভী কাসেম সাহেব তার রচিত তাহযীরুন্নাস গ্রন্থের ৪৯ পৃষ্ঠায় লিখেছেন- অন্যান্য নবীগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসালাম থেকে গ্রহণ করেই তাদের নিজ নিজ উম্মতকে ফয়েয দান করেছেন। মোট কথা অন্যান্য নবীগণের মধ্যে যেসব গুণাবলী নিহিত আছে সেগুলি হচ্ছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলীর ছায়া বা প্রতিফলিত রুপ। এ প্রসঙ্গে কুরআন হাদীছ ও সুপ্রসিদ্ধ আলেমগণের উক্তি থেকে অনেক প্রমাণ উপস্থাপন করা যেতে পারে, কিন্তু ভিন্ন মতাবলম্বীগণও এ কথাটি স্বীকার করেন বিধায় সে কথার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ নিষ্প্রয়োজন। এখন স্বীকৃত সিদ্ধান্ত হলো, কেউ যদি পূর্ণতা জ্ঞাপক কোন গুণের অধিকারী হয়ে থাকেন, তাহলে সে গুণে পুর্ণরূপে ভূষিত হয়েছেন হুযুর আলাইহিস সালাম। এ নিয়মানুযায়ী সব জায়গায় হাযির-নাযির হওয়ার ক্ষমতা যেহেতু অনেক মাখলুককে দান করা হয়েছে, সেহেতু স্বীকার করতেই হয় যে, এ গুণও হুযুর আলাইহিস সালামকে দান করা হয়েছে।
হাযির-নাযির হওয়ার ক্ষমতা কোন কোন সৃষ্ট জীবকে দান করা হয়েছে সে প্রসঙ্গে এখন আলোকপাত করার প্রয়াস পাচ্ছি। আমি হাযির-নাযির শীর্ষিক আলোচনার ভূমিকায় বলেছি যে, হাযির-নাযির হওয়ার তিনটি মানে আছেঃ এক জায়গায় থেকে সমস্ত জগতকে হাতের তালুর মত দেকতে পাওয়া নিমেষেই সমগ্র জগত পরিভ্রমণ করা ও শত শত ক্রোশ দূরে অবস্থানকারী কাউকে সাহায্য করা এবং পার্থিব শরীর কিংবা অনুরূপ শরীর নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যমান হওয়া। এসব গুণাবলী অনেক সৃষ্টজীবের মধ্যেও নিহিত আছে।
১) রূহুল বয়ান খাযেন; তাফসীরে কবীর ইত্যাদি তাফসীর গ্রন্থ সমূহ ৭ম পারার সুরা আনআম এর আয়াত حَتَّى اِذَا جَاءَ اَحَدَ كُمُالْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উল্লেখিত আছেঃ

جُعِلَتِ الْاَرْضُ لملَكَ الْمَوْتِ مِثْلَ الطَّشْتِ يَتَنَاوَلُ مِنْ حَيْثُ شَاء

অর্থাৎ মলকুল মওত এর জন্য সমগ্র ভূ-খণ্ডকে এমন একটি থালার মত করে দেওয়া হয়েছে যে, তার ইচ্ছানুযায়ী সেই থালা থেকে তিনি নিতে পারেন। চলবে—-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here