কুরআন সুন্নাহর আলোকে আল্রাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ (দ.) হাযির নাযির (পর্ব ১৫)

0
102

তাফসীরে রূহুল বয়ানে এ জায়গায় আরও বলা হয়েছে-

لَيْسَ عَلَى مَلَكِ الْمَوْتِ صَعُوْبَةٌ فِىْ قَبْضِ الْاَرْوَاحِ وَاِنْ كَثُرَتْ وَكَانَتْ فِىْ اَمْكِنَةٍ مُتَعَدِّدَةٍ

অর্থাৎ মলকুল মওতের রূহসমূহ কবজ করতে কোন বেগ পেতে হয় না যদিও রূহ সংখ্যায় বেশী হয় ও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে থাকে। তাফসীরে খাযেনে সে একই আয়াতের নিচে লিখা হয়েছে-

مَامِنْ اَهْلِ بَيْتِ شَعْرٍ وَّلَامَدَرٍ اِلَّامَلَكُ الْمَوْتِ يُطِيْفُ بِهِمْ يَوْمًا مَرَّتَيْنِ

অর্থাৎ প্রতিটি তাবু বা ঘরে বসবাসকারী এমন কোন জীব নেই যার কাছে মলকুল মওত দিনে দুবার না যান।
মিশকাত শরীফের باب فضل الاذان শীর্ষক অধ্যায়ে আছেঃ যখন আযান ও তকবীর বলা হয়, তখন শয়তান ৩৬ মাইল দুরে পালিয়ে যায়; আবার যখন আযান-তকবীরের পালা শেষ হয়ে যায় সে পুনরায় উপস্থিত হয়। আগুন হতে সৃষ্ট জীবের গতির এ অবস্থা!
আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের একটি রূহ শরীর থেকে বের হয়ে জগতের এদিক সেদিক বিচরণ করে এ রূহকে বলা হয় রূহে সাইরানী (বিচরণকারী রূহ) যার প্রমাণ কুরআন পাকেও রয়েছে وَيُمْسِلُ اُخْرى  আল্লাহ অপর রুহকে আবদ্ধ রাখেন। (যে মাত্র কেউ ঘুমন্ত ব্যক্তির শরীরের পার্শ্বে দাড়িয়ে তাকে ঘুম থেকে উঠাল, তখনই সে রূহ, যা মক্কায় কিংবা পবিত্র মদীনায় বিচরণ করছিল, তৎক্ষণাৎ শরীরে পুনঃ প্রবেশ করল, ঘুমন্ত ব্যাক্তি জেগে উঠল।
তাফসীরে রূহুল বয়ানে وَهُوَ الَّذِيْ يَتَوَفَّكُمْ بِاللَّيْلِ الح  আয়াতে ব্যাখ্যায় উল্লেখিত আছেঃ

فَاِذَااِنْتَبَهَ مِنَ النَّوْمِ عَادَتِ الرُّوْحُ اِلَى جَسَدٍ بِاَسْرَعَ مِنْ لَّخْظَةٍ

অর্থাৎ মানুষ যখন ঘুম থেকে জেগে উঠে, এক মুহূর্তের চেয়েও কম সময়ে  সে রূহ শরীরে ফিরে এসে যায়।
আমাদের দৃষ্টির নুর মুহূর্তেই সমস্ত জগত পরিভ্রমণ করে বিদ্যুৎ, তার, টেলিফোন ও লাউড স্পীকারের গতিশক্তির অবস্থা হচ্ছে আধা সেকেন্ডে ভূ- খন্ডের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত অতিক্রম করে ফেলে। হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এর গতির অবস্থা হলো, হযরত ইউসুফ (আঃ) যখন কূপের অর্ধেক অংশ থেকে নিচের দিকে পতিত হচ্ছিলেন, সে মুহুর্তেই হযরত জিব্রাইল (আঃ) সিদরাতুল মুনতাহা থেকে যাত্রা করলেন, আর নিমেষেই হযরত ইউসুফ (আঃ) এর কূপের তলায় পতিত হওয়ার পূর্বেই তাঁর নিকট পৌঁছে গেলেন। এ প্রসঙ্গে তাফসীরে রুহুল বয়ানে আয়াত اَنْ يَّجْعَلُوْاهُ فِىْ غَيَابّةِ الْجُبِّ এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য। হযরত ইব্রাহীম খলীল (আঃ) হযরত ঈসমাইল (আঃ) এর গলায় ছুরি চালালেন, ছুরি চলার আগেই জিব্রাইল (আঃ) সিদরা হতে দম্বা সমেত হযরত খলিলুল্লাহর (আঃ) খিদমতে হাযির হয়ে গেলেন। হযরত সুলাইমান (আঃ) এর উযীর আসিফ বিন বরখিয়া এক পলকেই রাণী বিলকিসের সিংহাসন ইয়ামন থেকে সিরিয়ায় হযরত সুলাইমান (আঃ) এর নিকট নিয়ে এলন, যার প্রমাণ কুরআন করীমেই রয়েছে।
বলা হয়েছেঃ-

اِنَّا اَتِيْكَ بِه قَبْلَ اَنْ يَّرْ تَدَّ اِلَيْكَ طَرْفُكَ

অর্থাৎ আমি আপনার চোখের পলক ফেলার আগেই সেটি নিয়ে আসছি। এ থেকে জানা গেল যে, হযরত আসিফের এ খবরও ছিল যে সিংহাসনটি কোথায় ছিল। লক্ষ্য করুন নিমিষেই তিনি ইয়মন গেলেন আর এত ভারী একটি সিংহাসন নিয়ে ফিরে এলেন। এখন প্রশ্ন হলো হযরত সুলাইমান (আঃ) এর সিংহাসন আনার এ ক্ষমতা ছিল কিনা? এ প্রসঙ্গে অত্র আলোচনার ২য় অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ আলোকপাত করব।
মিরাজের সময় সমস্ত নবী (আঃ) বায়তুল মুকাদ্দাসে হুযুর আলাইহিস সলাম এ পিছনে নামায আদায় করেছেন। নামাযের পর হুযুর আলাইহিস সালাম বুরাকে আরোহন পূর্বক অগ্রসর হচ্ছিলেন। বুরাকের গতির অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করুন। তার দৃষ্টি সীমার শেষ প্রান্তে তার এক পা পড়তো। অন্য দিকে নবীগণের দ্রুত গতির প্রতি লক্ষ্য করুন এখনই বায়তুল মুকাদ্দাসে তাঁরা ছিলেন মুক্তাদী, এখনই তারা বিভিন্ন আসমানে পৌঁছে গেলেন। হুযুর আলাইহিস সালাম ইরশাদ করেন, আমি অমুক আসমানে অমুক পয়গাম্বরের সঙ্গে সাক্ষাত করেছি। এ থেকে জানা যায় যে,  বিদ্যুতের গতি সম্পন্ন বুরাক অপেক্ষাকৃত মন্থর গতিতেই অগ্রসর হচ্ছিল। কারণ দুলহা বা বর ঘোড়ায় চড়ে একটু ধীর গতিতেই  অগ্রসর হয়ে থাকে। চলবে—-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here