কুরআন সুন্নাহর আলোকে “শবে বরাত”র গুরুত্ব (পর্ব ২)

0
183

তাফসীরে রহুল বয়ানে আল্লামা মাগরিবী রহমাতুল্লাহি আলায়হি সুত্রে বর্ণিত-
(আমার দৃষ্টিতে) প্রসিদ্ধতম মাস রমযান। কেননা এ মাসে ক্বোরআন নাযিল হয়েছে। এরপর রবিউল আউয়াল মাস। কেননা এ মাসে আল্লাহর হাবীব দুনিয়াতে তাশরিফ এনেছেন, এরপর রজব মাস, কেননা এটা মর্যাদাপূর্ণ মাস সমূহের মধ্যে একটি মাস এবং আল্লাহর মাস। এরপর শা’বান মাস, যে মাসটি আল্লাহর হাবীবকে দেয়া হয়েছে। রজব ও রমযানের মত মহান দুই মাসের মাঝে শা’বান মাস। তাতে বান্দার আমল ও জীবন-মৃত্যু বন্টন করা হয়।
[তাফসীর-ই রহুল বয়ান, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০১]
‘শা’বান (شعبان) শব্দে আরবী পাঁচটি অক্ষর বিদ্যমান শীন, আইন, বা, আলিফ ও নূন (ش- ع- ب- ا- ن) এর প্রত্যেকটি অক্ষর গুরুত্ববহ। যেমন ‘শীন’ দ্বারা শরফ বা মর্যাদা, ‘আইন’ দ্বারা ‘উলুওভুন’ বা উন্নতি, ‘বা’ দ্বারা র্বিরুন বা পুণ্য ও নেক আমল, ‘আলিফ’ দ্বারা ‘উল্ফত’ বা ভালবাসা আর ‘নূন’ দ্বারা ‘নূরুন’ বা আলোর দিকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এটা নিম্নলিখিত ইবারতের অনুবাদ-
فالشين من الشرف والعين من العلوّ وَالباء مِن البر والالف من الالفة والنون من النورـ
[গুনিয়াতুত্ তালেবীন, পৃষ্ঠা ৩৬৫]
যেহেতু এ মাস অতীব মর্যাদাপূর্ণ। এ মাসে ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ উন্নতির শিখরে আরোহন করতে সক্ষম হয়। এ মাসে পুণ্য বা নেকী অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এ মাস আল্লাহর সাথে বান্দার, বান্দার সাথে আল্লাহর ভালোবাসা সৃষ্টির মাস। এ মাসে আল্লাহ প্রদত্ত কল্যাণ, বরকত, রহমত, প্রিয় রসূলের প্রতি দরূদ ও সালামের মাধ্যমে মানুষ অন্তরে নূর ধারণ করতে সক্ষম হয়।
লায়লাতুল বরাত ছাড়াও এ মাসের আরো অনেক নাম ক্বোরআন-হাদীসে এসেছে। যেমন, ক. লায়লাতুর রহমত, খ. লায়লাতুল বরাত, গ. লায়লাতুল কিসমত, ঘ. লায়লাতুত্ তাকবীর, ঙ. লাইলাতুল এজাবত, চ. লায়লাতু ঈদীল মালাইকাহ্, ছ. লায়লাতুল জায়েযাহ্, জ. লায়লাতুস্ শাফা‘আহ্, ঝ. লায়লাতুল গুফরান, ঞ. লায়লাতুত্ তাযীম, ট. লায়লাতুল ইতক্বে মিনান্ নীরান।
ক্বোরআনে করীমে লায়লাতুল বরাত
লায়লাতুল ক্বদরের কথা ক্বোরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। যেমন: আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন-
انا انزلنه فى ليلة القدر নিঃসন্দেহে আমি সেটা ক্বদরের রজনীতে অবতীর্ণ করেছি। উক্ত আয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলা ক্বদরের রজনীর কথা স্পষ্টাকারে উল্লেখ করেছেন। যদিও শবে বরাতের বিষয়ে স্পষ্টভাবে লেখা নেই। তবে ক্বোরআন মজীদের সূরা দুখানের আয়াতে ‘‘লায়লাতিম্ মুবারাকাতিন্’’ দ্বারা ‘শবে বরাত’ বুঝানো উদ্দেশ্য। কারণ ‘লায়লাতুল মুবারাকা’ও এর একটি নাম। যেমন আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেন-
حم- وَالْكِتَابِ الْمُبِيْنِ اِنَّا اَنْزَلْنَاهُ فِىْ لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ اِنَّا كُنَّا مُنْذِرِيْنَ فِيْهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيْمٍ –
তরজমা: হা-মী-ম। সুষ্পষ্ট কিতাবের শপথ, নিঃসন্দেহে আমি একে (ক্বোরআন মজীদ) নাযিল করেছি এক বরকতময় রজনীতে, নিশ্চয়ই আমি ভীতি প্রদর্শনকারী, উক্ত রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। মুফাস্সিরকুল শিরমণি হযরত আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাস, হযরত ক্বাতাদাহ্, হযরত মুজাহিদ, হযরত আবু হুরায়রা, হযরত ইকরামাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমসহ অনেক সাহাবী ও তাবে‘ঈর মতে ‘লায়লাতুন্ মুবারাকাহ্’ দ্বারা চৌদ্দ-ই শা’বান দিবাগত রাত তথা শবে বরাত বুঝানো হয়েছে।
[সূরা: দুখান, আয়াত ১-৬]
قال ابن عباس رضى الله عنه حم اى قضى الله ما هو كائن الى يوم القيامة والكتاب المبين يعنى القران فى ليلة مباركة هى ليلة النصف من شعبان وهى ليلة البرأة ـ
অর্থাৎ হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, হা-মীম। আল্লাহ্ তা‘আলা ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা ঘটবে তা নির্ধারণ করেছেন, সুষ্পষ্ট কিতাবের শপথ, অর্থাৎ আল্ ক্বোরআন। আর ‘লায়লাতুম্ মুবারাকা’, তা হল শা’বান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত। আর তা-ই লায়লাতুল বরাত।
[তাফসীরে-ই দুররে মানসূর: ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০১]  চলবে—–

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here