কুরআন সুন্নাহর আলোকে আল্রাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ (দ.) হাযির নাযির (পর্ব ১৬)

0
113

পক্ষান্তরে মিরাজ উপলক্ষে অন্যান্য নবীগণের করণীয় কাজের সময় সুনির্দিষ্ট ছিল বিদায় তারা এখন ছিলেন বায়তুল মুকাদ্দাসে আবার মুহুর্তেই পৌঁছে গেলেন বিভিন্ন আসমানে।
প্রখ্যাত শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী (রহঃ) আশ আতুল লম আত গ্রন্থে যিয়ারাতুল কুবুর শিরোনামের অধ্যায়ের শেষে লিখেছেনপ্রতি বৃহস্পতিবার মৃত ব্যাক্তিবর্গের রূহ সমূহ নিজ নিজ আত্মীয়স্বজনদের কাছে গিয়ে তাদের ইসালে ছওয়াব এর প্রত্যাশী হয়। তাহলে যদি কোন মৃতিব্যক্তির পরিবারবর্গ বা আত্মীয়স্বজন বিদেশে থাকে সেখানেও তার রুহ পৌঁছবে।
আমার এসব বক্তব্য দ্বিধাহীনভাবে জানা গেল যে, সমস্ত জগতের উপর নজর রাখা, মাঝে মাঝে প্রত্যেক জায়গায় পরিভ্রমণ করা, একই সময়ে কয়েক জায়গায় বিদ্যমান থাকা ইত্যাদি এমন কতগুলো গুণ বা শক্তি যা মাহাপ্রভু বান্দাদেরকে দান করেছেন।
বক্তব্য থেকে নিম্নোক্ত দুটি বিষয় অবশ্যম্ভাবীরূপে প্রতীয়মান হয়ঃ
) কোন বান্দাকে প্রত্যেক জায়গায় হাযিরনাযির জ্ঞান করা শিরক নয়। শিরক হচ্ছে খোদার সত্ত্বা গুণাবলীতে অন্য কাউকে অংশীদার জ্ঞান করা। এখানে তা হচ্ছে না।
) হুযুর আলাইহিস সালামের খাদিমগণের মধ্যে প্রত্যেক জায়গায় বিদ্যমান থাকার শক্তি নিহিত আছে তাই হুযুর আলাইহিস সালাম এর মধ্যে গুণটি যে সর্বাধিক পরিমাণে আছে তা বলাই বাহুল্য।
) পথিবীতে প্রত্যেক জায়গায় দানাপানি নেই বরং বিশেষ বিশেষ স্থানে তা বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়ানো রয়েছে।  পানিতো কূপ, পুকুর, নদী ইত্যাদিতে রয়েছে আর খাদ্য শস্য আছে ক্ষেতে খামারে বা ঘরবাড়ী ইত্যাদিতে। কিন্তু বায়ু রোদ জগতের প্রত্যেক জায়গায় রয়েছে। দার্শনিক বৈজ্ঞানিকদের নিকট বায়ু শূন্য স্থানের অস্তিত্বই অসম্ভব। তাই স্বীকার করতে হবে যে প্রত্যেক জায়গায় বায়ু রয়েছে। কারণ প্রত্যেক বস্তুর জন্য সবসময় আলো বাতাসের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। অনুরূপ, খোদার প্রত্যেক মাখলুকের জন্য সদাসর্বদা হাবীবে খোদা আলাইহিস সালাম এর প্রয়োজনীয়তা আছে বৈকি, যা তাফসীরে রূহুল বয়ান ইত্যাদি গ্রন্থের বরাত দিয়ে প্রমাণ করেছি। সুতরাং হুযুর আলাইহিস সালাম যে সব জায়গায় বিরাজমান, তা অবশ্যম্ভাবীরূপে প্রতীয়মান হয়।
) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টিজগতের মূল। তিনি ইরশাদ করেছেন– وَكُلُّالْخَلْقِ مِنْ نُوْرِىْ (সমস্ত সৃষ্টি আমার নূর থেকে সৃষ্ট।) শাখা প্রশাখায় মূলের অস্তিত্ব, শব্দাবলীর বিবিধ রূপের মধ্যে শব্দমূলের অস্তিত্ব এবং সমস্ত সংখ্যার মধ্যে মৌলিক এক সংখ্যার অস্তিত্ব একান্ত জরুরী। প্রসঙ্গে জনৈক কবি খুব সুন্দর কথাই বলেছেন
সৃষ্টি মাত্রই তার থেকে তিনি প্রত্যেক কিছুতেই বিদ্যমান। তিনি যেন অংক শাস্ত্রের মৌল সংখ্যা (এক) তিনিই দুজাহানের ভিত্তি মূল। এমন কিছু নেই যা তাঁর থেকে সৃষ্ট হয়নি।সুত্রঃ জাআল হক ১ম খন্ড– চলবে—

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here