কুরআন সুন্নাহর আলোকে “শবে বরাত”র গুরুত্ব (৫)

0
97

শবে বরাতে কবর যিয়ারত উত্তম কাজ
শবে বরাতে আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম জান্নাতুল বাক্বী শরীফে গিয়ে যিয়ারত করতেন এ থেকে বুঝা যায় যে, এ রজনীতে কবর যিয়ারত সুন্নাতে নবভীর অন্তর্ভুক্ত। যেমন:
عن عائشة رضى الله عنه قالت فقدت رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا هو بالبقيع فقال اكنت شفافين اتك اتيت ان يحيف عليك ورسوله فقال يا رسول الله انى ظنت اتك اتيت بعض شائك فقال ان الله تعالى ينزل ليلة النصف من شعبان الى السماءالدنيا فيغفر لا كثر من عدد شعر غنم بنى كلب- (روالترمذى)
অর্থাৎ হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাল্লাহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক রজনীতে হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে হারিয়ে ফেললাম। মধ্যরাতে আমি তাঁকে বিছানায় পেলাম না। অতঃপর আমি বের হলাম। দেখলাম তিনি জান্নাতুল বাক্বীতে যিয়ারত রত আছেন। ওই সময় তিনি তখন আমার উদ্দেশে এরশাদ করলেন-তুমি কি এ আশংকা করছ যে, আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূল তোমার প্রতি অবিচার করছেন? আমি বললাম, ‘‘হে আল্লাহর রসূল, আমি ধারণা করেছি যে, আপনি আপনার অন্য কোন স্ত্রীর ঘরে গমন করেছেন।’’ তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্ অর্ধ শা’বানের রজনীতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন। অর্থাৎ তাঁর বিশেষ তাজাল্লীর বিচ্ছুরণ ঘটান। অনুরূপ ক্বলবের (গোত্র)-এর মেষ-ছাগলের বকরীর পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশি উম্মতকে ক্ষমা করেন। [মিশকাতুল মাসাবীহ: পৃষ্ঠা ১১৫]
আরো বর্ণিত আছে যে, এ রাতের এক চতুর্থাংশে হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার পবিত্র মস্তক উত্তোলন করুন। রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি মাথা উঠিয়ে দেখি বেহেশতের আটটি দরজাই খোলে দেয়া হয়েছে। প্রথম দরজায় একজন ফেরেশতা ঘোষণা করছেন-
طوبى لمن ركع فى هذه الليلة
‘‘যে ব্যক্তি এ রাতে রুকু করবে তাঁর জন্য সুসংবাদ।’’
দ্বিতীয় দরজায় আরেকজন বলছেন-
طوبى لمن سجد فى هذه الليلة
‘‘যে ব্যক্তি এ রাতে সাজদাহ করবে তাঁর জন্য সুসংবাদ।’’
তৃতীয় দরাজায় আরেকজন বলছেন-
طوبى لمن دعا فى هذه الليلة
‘‘এ রাতে যে দোয়া করবে তাঁর জন্য সুসংবাদ।’’
চতুর্থ দরজায় আরেকজন ঘোষণা করছেন-
طوبى للذاكرين فى هذه الليلة
‘‘এ রাতে যাঁরা যিকির করবেন, তাঁদের জন্য সুসংবাদ।’’
পঞ্চম দরজায় আরেকজন ঘোষণা করছেন-
طوبى لمن يبكى من خشية الله فى هذه الليلة
‘‘আল্লাহর ভয়ে যারা এ রাতে চোখের পানি ছাড়বে ও কাঁদবে, তাঁদের জন্য সুসংবাদ।’’
ষষ্ঠ দরজার ঘোষক বলেন-
طوبى للمسلمين فى هذه الليلة
যারা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর সামনে নিজেকে আত্মসমর্পণ করবে তাঁদের (মুসলমানদের) জন্য এ রাতে সুসংবাদ।
সপ্তম দরজায় ঘোষণা করা হবে-
هل من سائل فيعطى سواله
কোন প্রার্র্থী আছ কি? যা চাইবে তাকে তা-ই দেয়া হবে।
অষ্টম দরজায় ফেরেশতা ঘোষণা দিবেন-
هل من مستغفر فيغفرله
কেউ গুনাহর ক্ষমা প্রার্থী আছ কি? তাঁকে ক্ষমা করা হবে।
তারপর নবী মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সাজদায় গিয়ে দোয়া করলেন- এরপর তিনি সাজদা হতে শির মোবারক উঠিয়ে বললেন-
اللهم ارزقنى قلبأ تقيا من الشر نقيا لاجافيا ولاشقيا-
অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আমায় দান করো এমন অন্তর, যা তাকওয়া পরিপূর্ণ হবে, অপবিত্রতা, অশ্লীলতা ও অন্যায় থেকে মুক্ত থাকবে। চলবে–

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here