সরকারের বিরুদ্ধে পাইরেসির অভিযোগ করলেন মোস্তফা জব্বার

0
108

পি নিউজ ডেস্ক : সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটালাইজেশনের জন্য দেশের ভেন্ডরদের কাছ থেকে কোনো সফটওয়্যার নেয় না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে নিয়ে আসে। তবে দেশের ভেন্ডরদের কোনো সফটওয়্যার তারা চলালে সেটা নেয় বিনামূল্যে এবং কপি করে। এজন্য সরকারের বিরুদ্ধে পাইরেসির অভিযোগ তুললো দেশের খ্যাতনামা প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার।
রোববার বিজটেক বিটুবি কনফারেন্সে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার শীর্ষক এক কনফারেন্সে প্যানেল আলোচনায় এ প্রযুক্তিবিদ অভিযোগটি তুললেন। তিনি প্যানেল আলোচনার সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন।
মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘বাংলাদেশে ডিজিটালাইজেশনের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় সেগুলো পুরোপুরি বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে নেয়া। যার জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করা হয়ে থাকে। দেশের একটা ১০০ টাকা দামের সফটওয়্যারও তারা ফ্রি’তে পেতে চায়। আর যদি কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করে সেটা টাকার বিনিময়ে নয়, কপি করে। অর্থাৎ সরকারও পাইরেসি করে।’
শিক্ষাখাতে প্রযুক্তির ব্যবহারে অসুবিধার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘স্কুলে শিক্ষার্থীরা তখনই থাকবে, যখন সে শিক্ষাব্যবস্থাটা তাদের পছন্দ হবে। ২০১৬ সালে একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে বসে যদি তাদেরকে কাগজে বই থেকে পাড়নো হয়, তাহলে সেখানে শিক্ষার্থীদের অনীহা আসাটাই স্বাভাবিক। এর জন্য আমাদের উচিত শিক্ষাদান পদ্ধতির পরিবর্তন। আর পদ্ধতির পরিবর্তন করতে গিয়ে যে চ্যালেঞ্জটা রয়েছে, সেটা আসলে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে নয়, শিক্ষকদের নিয়ে।’
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেয়া অন্য বক্তারা বলেন, শিক্ষাখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে গেলে সেখানে অবশ্যই কারিকুলামের পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ ম্যানেজমেন্ট ডিজিটাল আর পড়ানো হবে কারিকুলাম সেটা হতে পারে না। শিক্ষকদের যুগের ছেলেমেয়ের সঙ্গে চলার মতো করে তৈরি হতে হবে। যেটার শুরুটা করতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই।
বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি তার উপস্থাপনায় বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্যাংক ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। তার একটা কারণ হলো বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গাইডলাইন দিয়েছে এবং যেটার মধ্য দিয়ে সবাইকে চলতে বাধ্য করেছে। এরকম করে যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি একটি গাইডলাইন তৈরি করে তবে সেটা সবাই মানতে বাধ্য হবে। তারা যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলে একটি নির্দিষ্ট ডাটাবেইজ তৈরি করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে, তবে কিন্তু বড় একটা চেইঞ্জ আসতে বাধ্য।’
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ছোঁয়া থেকে প্রাইমারি স্কুলগুলো সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ফাহিম মাশরুর।
এ সময় বাংলাদেশে ৪ কোটি শিক্ষার্থী ও ১০ লাখ শিক্ষক রয়েছে বলে জানান আলোচকরা।
প্যানেল আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, ব্র্যাকের পরিচালক কেএএম মোর্শেদ, ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) বনমালী ভৌমিক ও এলআইসিটির কম্পোনেন্ট টিম লিডার সামি আহমেদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here