কুরআন সুন্নাহর আলোকে আল্রাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ (দ.) হাযির নাযির (পর্ব ২৩)

0
191

 
সু-প্রসিদ্ধ মজমাউন বরকাত গ্রন্থে শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী (রহঃ) বলেছেন- হুযুর আলাইহিস সালাম নিজ উম্মতের যাবতীয় অবস্থা ও
আমল সম্পর্কে আবগত এবং তার মহান দরবারে উপস্থিত সকলেই ফয়েয প্রদানকারী ও হাযির-নাযির।
শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী (রহঃ) سلوك اقرب السبل بالتوجه الى سيد الرسل নামক পুস্তিকায় বলেন- উলামায়ে উম্মতের মধ্যে বিভিন্ন মতাদর্শ ও বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, হুযুর আলাইহিস সালাম প্রকৃত জীবনেই (কোনরূপ রূপক ও ব্যবহারিক অর্থে যে জীবন, তা নয়) স্থায়ীভাবি বিরাজমান ও বহাল তবীয়তে আছেন । তিনি উম্মতের বিশিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জ্ঞাত ও সেগুলোর প্রত্যক্ষদর্শীরূপে বিদ্যমান তথা হাযির-নাযির। তিনি হকীকত অন্বেষনকারী ও মহান দরবারে নবুয়াতির শরণাপন্নদের ফয়েযদাতা ও মুরুব্বীরূপে বিদ্যমান আছেন।
শাইখ মুহাদ্দিছ দেহলবী (রহঃ) শরহে ফুতুহুল গায়ব গ্রন্থের ৩৩৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন- নবীগণ (আলাইহিস সালামকে) পার্থিব প্রকৃত জীবনেই জীবিত শাশ্বত জীবন সহকারে বিদ্যমান ও কর্মতৎপর আছেন । এ ব্যপারে কারো দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ নেই ।
মিশকাত শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ মিরকাত এর باب مَايُقَالُ عِنْدَ مَنْ حَضَرَبُ الْمَوْتَ  শীর্ষক অধ্যায়ের  শেষে উল্লেখিত আছেঃ

وَلَاتُبَاعِدُ عَنِ الْاَوْلِيَاءِ حَيْثُ طُوِ يَتُ لَهُمُ الْاَرْضُ وَحَصَلَ لَهُمْ اَبْدَ ان ٌمُكْتَسِبَةَ مُتَعَدِّدَةٌ وَجَدُوْ هَا فِىْ اَمَا كِنَ مُخْتَلِفَةٍ فِىْ اَنٍ وَاحِدٍ

অর্থাৎ ওলীগণ একই মুহূর্তে কয়েক জায়গায় বিচরণ করতে পারে। একই সময়ে তারা একাধিক শরীরের অধিকারী হতে পারেন।
শিফা শরীফে আছেঃ
اِنْ لَّمْ يَكُنْ فِىِ الْبَيْتِ اَحَدٌ فَقُلِ السَّلَامُ عَلَيْكَ اَيُّهَا النَّبِىُّ وَرَحْمَةَ اللهِ وَبَرْكَاتُهُ
যে ঘরে কেউ থাকে না সে ঘরে (প্রবেশ করার সময়) বলবেন হে নবী! আপনার প্রতি সালাম, আপনার উপর আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক!
এ উক্তির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বনামখ্যাত মোল্লা আলী কারী (রহঃ) শরহে শিফা গ্রন্থে বলেছেনঃ

لِاَنَّ رُوْحَ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَاضِرٌ فِىْ بُيُوْتِ اَهْلِ الْاِسْلَامِ

কেননা নবী আলাইহিস সালাম এর পবিত্র রূহ মোবারক মুসলমানদের ঘরে ঘরে বিদ্যমান আছেন ।
শাইখ আবদুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী (রহঃ) স্ব-রচিত মদারেজুন নবুয়াত গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন- হুযুর আলাইহিস সালামকে স্মরণ করুন, তার প্রতি দরুদ পেশ করুন, তার যিকর করার সময় এমনভাবে অবস্থান করুন যেন তিনি আপনার সামনে স্ব-শরীরে জীবিতাবস্থায় উপস্থিত আছেন, আর আপনি তাকে দেখছেন। আদব মর্যাদা ও শ্রদ্ধা অক্ষুণ্ন রেখে ভীত ও লজ্জিত থাকুন এবং এ ধারণা পোষণ করবেন যে, নিশ্চয় হুযুর পুর নুর আলাইহিস সালাম আপনার কথাবার্তা শুনছেন। কেননা তিনি খোদার গুণাবলীতে গুণান্বিত। আল্লাহর একটি গুণ হচ্ছে আমি (আল্লহ) আমার স্মরণকারীর সঙ্গে সহাবস্থান করি ।
ইমাম ইবনুল হাজ্জ مدخل গ্রন্থে ও ইমাম কুসতালানী (রঃ) مواهب গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৩৮৭ পৃষ্ঠায় ২য় পরিচ্ছেদে زيارة قبره شريف শীর্ষক বর্ণনায় লিখেছেনঃ
وَقَدْ قَالَ عُلَمَاءُ نَالَا فَرْقَ بَيْنَ مَوْتِه وَحَيو تِه عَلَيْهِ السَّلَامُ فِىْ مُشَاهِدَ تِه لِاُمَّتِهِ وَمَعرِ فَتِه بِاَحْوَ الِهِمْ وَنِيَّا تِهِمْ وَعَزَائِمِهِمْ وَخَوَاطِرِ هِمْ وَذلِكَ جَلِىٌّ عِنْدَهُ لَاخَفَاءَبِه
আমাদের সু-বিখ্যাত উলামায়ে কিরাম বলেন যে, হুযুর আলাইহিস সালামের জীবন ও ওফাতের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তিনি নিজ উম্মতকে দেখেন, তাদের অবস্থা, নিয়ত, ইচ্ছা ও মনের কথা ইত্যাদি জানেন। এগুলো তার কাছে সম্পূর্ণরূপে সুস্পষ্ট কোনরূপ অস্পষ্টতা ও দুর্বোধ্যতার অবকাশ নেই এখানে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here