এটা কি নির্বাচন নাকি প্রহসন?

0
129

আবু নওশাদ নঈমী: বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনকে ঘিরে বর্বরতার ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে ৷একটি দেশ একটি জাতি কখনও সর্বক্ষেত্রে সমৃদ্ধশালী হতে পারেনা যতক্ষণ না তার অভিভাবককে যোগ্য,সৎ,দক্ষ হিসেবে পাচ্ছে ৷ এক ব্যাক্তি” কিয়ামত কখন হবে “প্রশ্ন করলে রাসুলে পাক জবানে নবুয়ত দ্বারা উত্তর দিলেন اذا وسد الامر الى غير اهله فانتظر الساعة অর্থাৎ যখনি কোন অযোগ্য লোক যোগ্য পদে নেতৃত্ব দেবে তখন থেকে মহাপ্রলয়ের জন্য অপেক্ষা কর ৷ নবীজীর সে ঘোষনা এখন দিবালোকের মত পরিষ্কার!!বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন কোন পদ নেই যেখানে অযোগ্যদের জবর দখল নেই ৷ সবখানে অযোগ্যরাই মহাগুরু সেজে বসে আছে ৷ দ্বীনি মনসব বলুন আর জাগতিক পদ বলুন সবপদে জালিম জাবির-ফাসিক -মুনাফিকদের রমরমা ব্যবসার বাজারে এখন সয়লাব হয়ে আছে ৷ এরা খুব সতর্ক!! কখনও তাদের পদবী হারাতে দেবেনা!! পদবী রক্ষায় জান -মাল দিতেও তাদের অসুবিধা নাই ৷

আজকালের নির্বাচনগুলো নিঃসন্দেহে আনুষ্ঠানিকতা! জবর দখল এসব নির্বাচনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ৷ ক্ষমতাসীনরা এসব নির্বাচনকে স্রেফ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিদেশী প্রভুদের কাছে ডেমোক্রেসিকে পিউর রাখার ড্রামা করে যাচ্ছে ৷ যদিও তারা বর্বরতা সম্পর্কে নাওয়াকিফ নয় ৷ বরং খোব জানেন যে,এটি কাগজ কলমের নির্বাচন!! মাঠ এবং কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ কারসাজি এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় ৷ কিন্তু কি আর করা? আমরাতো না পারবো অস্ত্র হাতে নিতে! না পারবো একজন ভোট দিতে আসা জনগনের বুকে গুলি চালাতে ৷ আমরা যে আদর্শের পূজারী! আমরা যে হুসনে কিরদারের অনুসারী!! আদর্শকে পদদলিত করা কেবল জালিমদের কাজ হতে পারে, আমাদের নয় ৷

আমরা পারি শুধু হৃদয়ের গভীর থেকে প্রিয় নবীজীর তরফ থেকে দেয়া “উসওয়ায়ে হাসানাহ “প্রদর্শন করতে ৷ সর্বোত্তম হুসনে সুলুককে পুঁজি করে আদর্শবাদের ছায়ায় আহবান করতে ৷ কিন্তু সবাই কি এসবের গুরুত্ত্ব বুঝে? না বুঝেনা ৷ বুঝেনা বলেই রাসুলে পাক সে বেবুঝা হিংস্র লোকগুলোর বিরুদ্ধে “তলোয়ার হাতে নিয়েছিলেন ৷ জীবনের আশিভাগ সময় সম্মূখ জিহাদে অবতরণ করেছিলেন ৷ আদর্শের মুকুটপরা সত্যের মাপকাঠি সাহাবায়ে কিরামও বসে ছিলেননা; বরং বেবুঝাদের প্রতিহত করতে রণকৌশল প্রয়োগ করে সত্যের বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন ৷

আমি মনে করি, নম্রতা প্রদর্শন করে সব সত্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় ৷ এমন হলে সাহাবাদের শানে “আশিদ্দা আলাল কুফ্ফার ” সিফাতটি মহান আল্লাহ ব্যবহার করতেন না ৷ সব অন্যায় ঢালাওভাবে কাফেরদের বৈশিষ্ট্য বলতে দ্বিধাবোধ করছিনা ৷ কারণ জুলুম কেবল তাদেরই চরিত্র হতে পারে ৷ ইমামতের দায়িত্বে থাকা মুমিনরা জুলুম করতে পারেনা ৷ তাই বলে শুধু মজলুম হতে হবে এমন ধারনাও সঠিক নয় ৷ ফারুকে আজমের বীরত্ব ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার রীতিটা আমাদের ফর্মূলা হতে পারে ৷আসুন! আমরা সে পথে পা বাড়ায় ৷এভাবে অন্যায় চলতে দেয়াও অন্যায় ৷ আমরা বীর ফারুকের ফর্মূলাকে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাস্তবতার নিরিখে রুপ দেই; তবে আমাদের বিজয় আমাদের ধরনা দিবে ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here