আইপিএলের উদীয়মান ক্রিকেটার হয়েছেন মুস্তাফিজ

0
106
পি নিউজ ডেস্ক: তার জন্য এটা ছিল ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ক্রিকেটের কোনো প্রতিযোগিতায় প্রথম ফাইনাল। সেটা উদযাপন করেছেন ভারতের মাটিতে। যে দেশের বিপক্ষে বল হাতে ঝড় তুলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোকিত হয়েছিলেন, ক্রিকেট দুনিয়া জেনেছিল মুস্তাফিজ নামক এক বিস্ময় বালককে। সেই ভারতের মাটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্টাম্প তুলে উচ্ছ্বাস করেছেন কাটার-মাস্টার।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের ফাইনালে তার দল সানরাইজার্স হায়দ্রারাবাদ ৮ রানে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতেছে।

আইপিএলের উদীয়মান ক্রিকেটার হয়েছেন মুস্তাফিজ। ১৬ ম্যাচে নেন ১৭ উইকেট। আর এ নিয়ে তৃতীয়বার আইপিএলের ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ বিরাট কোহলির ব্যাঙ্গালুরুর।

এবারের আইপিএলে ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে হায়দ্রারাবাদকে এনে দিয়েছিলেন অনেকগুলো জয়। গতকালের ফাইনালেও শেষ চার ওভারে সানরাইজার্সের সমর্থকরা তাকিয়ে ছিলেন তার দিকে। জিততে হলে ২৪ বলে ৪৭ রানের প্রয়োজন বিরাট কোহলির ব্যাঙ্গালুরুর। আগের দুই ওভারে ১৬ রান দেওয়া মুস্তাফিজ এদিন নিজের তৃতীয় ওভারেই হায়দরাবাদকে ব্রেক থ্রো এনে দেন। বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান শেন ওয়াটসনকে কাটারে প্রলুব্ধ করেন তিনি। ছয় মারতে গিয়ে বল আকাশে উড়িয়ে দেন ওয়াটসন। ক্যাচটা তালুবন্দি করতে ভুল করেননি ময়েস হেনরিকস। তবে ওই ওভারের পঞ্চম বলে মুস্তাফিজকে ছয় মারেন স্টুয়ার্ট বিনি। নিজের তৃতীয় ওভারে তিনি দেন ১০ রান। এরপর ১৮তম ওভারে ভুবনেশ্বর কুমার দেন ৭ রান। শেষ দুই ওভারে ব্যাঙ্গালুরুর প্রয়োজন হয় ৩০ রানের।

গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবারও হায়দ্রারাবাদকে ব্রেক থ্রো এনে দেন মুস্তাফিজ। তার প্রথম বলে ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হন বিনি। পরের বলে ক্রিস জর্ডানের সহজ ক্যাচটা নিতে পারেননি শ্রান। এবারের আইপিএলে বাংলাদেশের এ পেসারের বড় দুর্ভাগ্য বলতে তার বলে ক্যাচ ফেলে দেওয়া। শেষ বলে শচীন বেদি ছয় মারলে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েন মুস্তাফিজ। নিজের শেষ ওভারে দেন ১২ রান। তার বোলিং ফিগার ৪-০-৩৭-১। টি২০ বিশ্বকাপে এই ব্যাঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে ২ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

শেষ ওভারে ভুবনেশ্বর বলেই জয়ের আশাটা করতে থাকে সানরাইজার্স। ৬ বলে জিততে হলে ব্যাঙ্গালুরুর দরকার ছিল ১৮ রান। ভুবনেশ্বরের ওই ওভার থেকে ব্যাঙ্গালুরুর ব্যাটসম্যানরা নিতে পেরেছেন মাত্র ৯ রান। তার আগেই শিরোপা জয়ের উৎসবে মেতে ওঠেন ওয়ার্নাররা।

ব্যাঙ্গালুরুর চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরুতেই হায়দ্রারাবাদকে চালকের আসনে নিয়ে আসেন ওয়ার্নার। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ওয়ার্নার নেমেই চার-ছয়ের ফুলঝুরি ফোটাতে থাকেন। তার ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে চড়ে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০৮ রান করে সানরাইজার্স। ৩৮ বলে ওয়ার্নারের ৬৮ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৮টি চার এবং ৩টি ছয়ের সৌজন্যে। ওয়ার্নার আউট হওয়ার পর রানের গতি কমে যায়। তবে শেষ দিকে বেন কাটিংয়ের ১৫ বলে হার না মানা ৩৯ রানই বড় রানের পুঁজি এনে দেয় হায়দ্রারাবাদকে। জবাবটা দুর্দান্ত দেন ব্যাঙ্গালুরুর দুই ওপেনার ক্রিস গেইল এবং বিরাট কোহলি। পুরো আইপিএলে নিজের ছায়া হয়ে থাকা গেইল ফাইনালে জ্বলে ওঠেন। কোহলির সঙ্গে ১১৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথেই রাখেন। বিপজ্জনক গেইলকে ফেরান কাটিং। ৩৮ বলে ৭৬ রান করা গেইলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৪টি চার এবং ৮টি ছয়ের সৌজন্যে। এর আগে শর্ট থার্ডম্যানে দাঁড়ানো মুস্তাফিজ সহজ ক্যাচ ফেলে দেন কোহলির। তখন ব্যাঙ্গালুরুর অধিনায়কের রান ছিল ৩১। গেইল আউট হওয়ার পর দলকে বেশিদূর নিতে পারেননি কোহলি। ৫৪ রান করে তিনি আউট হলে ব্যাকফুটে চলে যায় ব্যাঙ্গালুরু। প্লে-অফে দারুণ ব্যাট করা ভিলিয়ার্সও বেশিক্ষণ উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি। বাকি ব্যাটসম্যানরাও আর নিজেদের মেলে ধরতে না পারায় আইপিএলে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে হতাশায় ভেঙে পড়তে হয় কোহলিদের।

আর গোল হয়ে টিম সং গেয়ে মুস্তাফিজরা দেখিয়ে দিয়েছেন আনকোরা দল নিয়েও কীভাবে আইপিএল সেরা হওয়া যায়। ফাইনাল সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন হায়দ্রারাবাদর বেন কাটিং। টুর্নামেন্টের ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড জিতেছে চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স। সবচেয়ে বেশি রান করায় অরেঞ্জ ক্যাপ জিতেছেন ব্যাঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here