কুরআন সুন্নাহর আলোকে আল্রাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ (দ.) হাযির নাযির (পর্ব ২৭)

0
127

ইমাম গাযযালী (রহঃ) المنقذمن الضلال নামক গ্রন্থে বলেছেনঃ-
ঐশী নূরে আলোকিত অন্তর বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ জাগ্রত অবস্থায় নবী ও ফিরিশতাগণকে দেখতে পান, তাদের সাথে কথাবার্তাও বলেন। সয়ুতী (রহঃ) বলেন,

اِنِ اعْتَقَدَالنَّاسُ اَنَّ رُوْحَهُ وَمِثَالَهُ فِىْ وَقْتِ قْتِ قِرَاءَةِ الْمَوْلِدِ وَخَتْمِ رَمْضَانَ وَقِرَ اءَةِ الْقِصَائِدِ يَحْضُرُ جَازَ

যদি কেউ বিশ্বাস পোষণ করে যে, হুযুর আলাইহিস সালামের পবিত্র রূহ মোবারক ও তার জিসমে মিছাল মীলাদ পাঠের সময়, রমযানে খতমে কুরআনের সময় এবং নাত পাঠ করার সময় উপস্থিত হন, তবে এ বিশ্বাস পোষণ করা জায়েয।
মওলবী আবদুল হাই সাহেব তার রচিত  تر اويح الجنان بتشر يح حكم شرب الدخان নমক রিসালায় লিখেছেনঃ জনৈক ব্যক্তি নাত পাঠ করতো এবং হুক্কাও পান করতো। সে একদিন স্বপ্নে দেখল যে নবী করীম আলাইহিস সালাম তাকে বলছেন যখন তুমি মীলাদ শরীফ পাঠ কর তখন আমি মাহফিলে উপস্থিত হই। কিন্তু যখনই হুক্কা আনা হয় তখন কালবিলম্ব না করে মাহফিল থেকে ফিরে যাই।
এসব উদ্ধৃতি থেকে  প্রতীয়মান হল যে, জগতের অণু-পরমাণুর প্রতিও হুযুর আলাইহিস সালাম ও সার্বক্ষণিক দৃষ্টি নিবন্ধ রয়েছে। আর, নামায, তিলাওয়াত কুরআন, মাহফিলে মীলাদ শরীফ ও নাত পাঠের মাহফিলে বিশেষ করে পুণ্যাত্মাদের নামাযে জানাযায় স্ব-শরীরে তিনি তাশরীফ আনয়ন করে থাকেন।
তাফসীরে রূহুল বয়ান ২৬ পারা সুরা ফতহ এর اِنَّا اَرْ سَلْنكَ شَاهِدًا আয়াত এ  ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছেঃ- যেহেতু হুযুর আলাইহিস সালাম আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি, সেহেতু তিনিই আল্লাহর একত্বের সাক্ষী, সে সব বস্তুরও অবলোকনকারী, যেগুলি অস্তিত্বহীন থেকে অস্তিত্বের সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যে এসেছে। যেমন মানবাত্মা, জীবাত্মা শারীরিক কাঠামো, খনিজ পদার্থ, বৃক্ষরাজি, পশু-পক্ষী, ফিরিশতা, মানুষ ইত্যিাদি। সুতরাং খোদা তাআলার সেসব গুপ্ত ভেদ ও বিস্ময়কর ব্যাপারগুলোও যেগুলির রহস্য উন্মোচন অন্য কোন মাখলুকের জন্য সম্ভবপর নয়, তার কাছে রহস্যাবৃত ও অনুদঘাটিত থাকার কোন অবকাশ থাকে না। সে একই জায়গায় আরও কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর বলা হয়েছেঃ-
তিনি দেখেছেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম এর সৃষ্টি তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ভুলের কারণে বেহেশত থেকে তার অপসারণ এবং পরে তার তওবা গৃহীত হওয়ার যাবতীয় ঘটনাবলী। শেষ পর্যন্ত সেই আদম আলাইহিস সালামকে কেন্দ্র করে যা কিছু আবর্তিত হয়েছে সবই তিনি  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখেছেন। তিনি আরো দেখেছেন শয়তানের সৃষ্টি ও যা কিছু তাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। চলবে—-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here