নতুন সরকারি প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগ পাচ্ছেন প্যানেলভুক্তরা

0
108
পি নিউজ, ঢাকা: বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্যানেলভুক্ত প্রার্থীরা নিয়োগ পাবেন সদ্য জাতীয়করণ (সরকারি) হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এবং সচিব হুমায়ুন খালিদ এ কথা জানান।

বর্তমানে সারাদেশে এ ধরনের প্যানেলভুক্ত শিক্ষক আছেন প্রায় ২৮,০০০। তারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, এসব শিক্ষককে শূন্য পদে নিয়োগ দিতে কয়েক দিন আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দেয়া হয়।

চিঠিতে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিতে বলা হয়। বর্তমানে বাস্তবে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সবই জাতীয়করণ করা হয়েছে।

এতে নিয়োগ দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চায় অধিদপ্তর। এই ব্যাখ্যার জবাবে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই প্যানেলভুক্তদের সদ্য জাতীয়করণ হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হবে।

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ২৬,০০০ রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে সরকার।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই সব বিদ্যালয়ে যত শূন্য পদ আছে, এতে প্যানেলভুক্ত সবাইকে নিয়োগ দেয়া যাবে। বরং এর চেয়েও পদ বেশি শূন্য আছে।

অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চিঠি আকারে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নিয়োগ-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল পরীক্ষা হয়। চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ৪২,৬১১ জনকে নিয়োগের জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হয়।

তাদের মধ্যে প্রায় ১৪,০০০ জনকে নিয়োগও দেয় সরকার। সবাইকে নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিলেও ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলে প্যানেল থেকে নিয়োগ দেয়া বন্ধ করে দেয় সরকার।

এরপর নিয়োগবঞ্চিত ও প্যানেলভুক্ত শফিকুল ইসলামসহ নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ১০ জন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৮ জুন রায়ে হাইকোর্ট রিট আবেদনকারী ১০ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দেন।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্যরা আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করলে তা খারিজ করেন আপিল বিভাগ।

পরে নওগাঁর ওই সব শিক্ষককে নিয়োগ দিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। এর ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ওই ১০ জনকে নিয়োগের ব্যবস্থা করলেও সাতজন যোগ দেন। অন্য তিনজনের একজন মারা যান। পাশাপাশি এ বিষয়ে আরো তিন শতাধিক রিট হয়। এখন পর্যন্ত ঘোষিত সব রায় প্যানেলভুক্তদের পক্ষে গেছে।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি মামলায় না লড়ে সবাইকে নিয়োগ দিতে মন্ত্রণালয়ের প্রতি সুপারিশ করে।

পরে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চায়। আইন মন্ত্রণালয় আদালতের রায়ের আলোকে সবাইকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে মত দিয়েছে।

এরই আলোকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্যানেলভুক্ত সবাইকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here