চট্টগ্রামে রিং রোড, ফ্লাইওভার ও এক্সপ্রেসওয়ের বাস্তবায়ন চাই

0
92

পি নিউজ ডেস্ক : ২ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন-যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম সিটিতে আউটার রিং রোড, ইউলুপ ও ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬.৫ কি.মি. এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আমরা এ ঘোষণাকে স্বাগতঃ জানাই এবং তার বাস্তবায়ন চাই। তিনি বলেন-করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এটা ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা উচিত। যেকোন কোম্পানী বা ৫০ লক্ষ টাকার অধিক গ্রস প্রাপ্তি আছে এমন প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম করহার ০.৩% থেকে বৃদ্ধি করে ০.৬% করা হয়েছে এবং সারচার্জের ক্ষেত্রে ১৫ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ২০ কোটি টাকার কম হলে ২৫% এবং ২০ কোটি টাকার অধিক হলে ৩০% করহার নির্ধারণ করা হয়েছে যা অত্যধিক। এ হারগুলো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তৈরী পোশাক শিল্পে কর্পোরেট করহার ৩৫% থেকে কমিয়ে ২০% করা হয়েছে যা এ শিল্পের প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। সিটি কর্পোরেশন’র বাহিরে রিয়েল এস্টেট খাতে উৎসে কর কমানোর ফলে এসব জায়গায় এ খাতের বিকাশ হবে এবং মহানগরগুলোর উপর চাপ কমবে। এসএমই খাতে টার্নওভার ৩৬ লক্ষ টাকা করা এ খাতে স¤প্রসারণ ঘটাবে। পণ্য বা সেবার মূল্য নির্ধারণে অনুমোদন গ্রহণের ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা, করদাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত রেয়াত ভ্যাট কর্তন বা সমন্বয়ের সময় করদাতাকে শুনানীর সুযোগ দেয়া ইতিবাচক। পাটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে যোগানদার সেবা, রাবারের উৎপাদন পর্যায়, এ্যাম্বুলেন্স পরিবহন সেবা, হুইট ক্রাস, ডায়িং প্রিন্টিং সেবা খাতকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া এবং পামওয়েল ও সয়াবিনের ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি অব্যাহত রাখা প্রশংসারযোগ্য।

প্যাকেজ ভ্যাটের ক্ষেত্রে করহার বিভিন্ন স্লেভে বৃদ্ধি করা হলেও একই সাথে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণের সুযোগসহ ১৫% হারে ভ্যাট প্রদানের সুযোগ রাখা এবং নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না করাতে এক্ষেত্রে কোন সমস্যার আশংকা নেই। তবে পেট্রোলিয়াম জাত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মূসকের হার ২.২৫% থেকে ৪.৫% করা এবং অন্যান্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ৭.৫% থেকে ১০% করার কারণে সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। স্থান ও স্থাপনা ভাড়া গ্রহণকারী সেবার ক্ষেত্রে মূসকের হার ৯% থেকে ১৫% করা অত্যধিক। সরকার কর্তৃক ইসিআর/পিওএস মেশিন সরবরাহ করার উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। ট্যারিফ মূল্য ক্ষেত্র বিশেষে ২০-২৫% বৃদ্ধির ফলে হাতে তৈরী কেক, বিস্কুট, পেপার প্রোডাক্ট ও বিভিন্ন শীটের দাম বাড়বে। ভোজ্য তেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি ভোগ্যপণ্যে শুল্ক রেয়াত অব্যাহত থাকায় তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।

নির্মাণ শিল্প খাতে অনেক উপকরণের শুল্ক হ্রাস করে ১৫% নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে যা এ শিল্পে অচলাবস্থা দূর করে গতি আনবে। বস্ত্র খাতে স্ট্রিপিং কেমিক্যাল এর শুল্ক ২৫% হতে হ্রাস করে ১৫% এ এবং কিছু কাঁচামালের শুল্ক ১০% থেকে ৫% নির্ধারণ করায় এ খাতের স¤প্রসারণে তা সহায়ক হবে। সিকেডি মোটর সাইকেল এ সম্পূরক শুল্ক ৪৫% থেকে কমিয়ে ২০% এবং হাইব্রিড গাড়ী ও হিউম্যান হলারের ক্ষেত্রে রেয়াতী সুবিধা প্রদান পরিবহন খাতে কিছু পরিবর্তন আনবে বলে মনে করেন চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here