নূরে মুহাম্মদী (দ.) থেকে সৃষ্টির রহস্য! (পর্ব ২)

0
106

 

মানুষের দৃষ্টিতে দেখতে গেলে তিনি আমাদের মত বলেই মনে হবে। আবু জেহেল ও আবু বকর উভয়েই নবীকে দেখেছে। প্রথমজন কুফরী নযরে। তাই বলেছে-“ তিনি তো আমাদের মতই একজন সাধারণ মানুষ”। সাধারণত কাফেররাই রাসুলকে আমাদের মতো মানুষ মনে করে, মুমীনরা নয়। সুরা ইয়াছিনের ১৫,১৬ নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন,-“ ওরা (কাফেররা)বলল, তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ, দয়াময় আল্লাহ তো কিছুই অবতীর্ণ করেন নি।তোমরা কেবল মিথ্যাই বলছ। তারা বলল, আমাদের রব জানেন যে, আমরা অবশ্যই তোমাদের কাছে প্রেরিত রাসুল”। দ্বিতীয়জন দেখেছেন ঈমানী নযরে। তাই বলেছেন-“মুহাম্মাদুন বাশারুন লা কাল বাশারী” অর্থাৎ “মুহাম্মদ (দ.) সুরতে মানবজাতি হয়েও কোন মানুষের মতই নন”-(আল্লামা বুছেরীর কাসিদায়ে বোরদা)। সুবহানাল্লাহ!

হুযুর (দ.)-এর ক্ষেত্রে এসেই ঈমান ও কুফরীর পার্থক্য ধরা পড়ে যায়। আল্লাহ সম্পর্কে ধরা পড়ে যায়। আল্লাহ সম্পর্কে তেমন আশংকা কম। একদল লোক নিজেদের দাঁড়িপাল্লা দিয়ে নবীজীকে ওজন করতে চায়। আর একদল লোক নবীজীর দাড়িপাল্লায় নিজেকে ওজন করে নেয়। ঝিনুক দিয়ে সাগরের পানি মাপা যায় না। মাপতে গেলে সাগরের পানি কমবে না।কিন্তু ঝিনুকের জীনব সর্বনাশ হয়ে যাবে। তাই বলছিলাম-যেখানে হযরত জিবরাইল (আ.) এবং হযরত মুসা (আ.) নবীজীর নূরের পূর্ণ হাকিকত অনুধাবনে অক্ষম সেখানে আমরা কে? মহান আল্লাহ বলেন, “আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের নিকট দুটি বস্তু আগমন করেছে। প্রথমটি হলো মহান নূর এবং দ্বিতীয়টি হলো স্পষ্ট কিতাব” (সূরা মায়েদা)। তাফসীরে জালালাইন ও তাফসীরে রুহুল বয়ানে উল্লেখ আছে-নূর দ্বারা রাসুল পাক (দ.) এর পবিত্র সত্তা এবং কিতাব দ্বারা কুরআন মজিদকে বুঝানো হয়েছে। উক্ত আয়াতে দুটি তাৎপর্য লক্ষ্য করা যায়। যথা-

১। কিতাব পাঠের জন্য যেমন আলোর প্রয়োজন, তেমনিভাবে কুরআন বুঝার জন্যও নূরনবীর প্রয়োজন। কুরআনের ভাষ্যের গহীন ও গভীর রহস্যজগতে এবং মর্মজগতে পৌঁছতে হলে নবী করীম (দ.) এর সাহায্য ছাড়া উপায় নেই। উদাহরণ স্বরূপ নামায, রোযা ও হজ্বের আদেশ কুরআনে বর্ণিত হয়েছে সত্য-কিন্তু তার স্বরূপ কি-তা ব্যাখ্যা করেছেন নবী করিম (দ.)। চলবে—

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here