নূরে মুহাম্মদী (দ.) থেকে সৃষ্টির রহস্য! (পর্ব ৩)

0
165

 

২. দ্বিতীয় তাৎপয্য হলো কুরআনের ৪০ বৎসর পূর্বেই দুনিয়াতে নূরনবীর আগমন হয়েছে এবং আগমনকালেই তিনি নূর হিসেবে আগমন করেছেন। আর কুরআনের আগমন হয়েছে কিতাব হিসেবে ৪০বৎসর পরে। মেশকাত শরীফে বর্ণিত হাদীসে নবী করিম (দ.) বলেছেন-“আমি হযরত েইবরাহিম (আ.) এর দোয়া ঈসা (আ.) এর সুসংবাদ এবং আমার জন্মকালীন সময়ে আমার মায়ের দেখা স্বপ্ন দর্শনের মূর্ত প্রতীক”। (অর্থাৎ একখন্ড নূর তাঁর শেকম (উদর) মোবারক হতে বহির্গত হয়ে সুদূর সিরিয়া পয্যন্ত আলোকিত করেছিল)।নবী করীম (দ.)এর এক হাজার মতান্তরে চৌদ্দশত বা তিন হাজার গুণবাচক নামক রয়েছে। যেমন-রহমত, বরকত, ফযল, যিকির, নূর, বোরহান, আউয়াল, আখের, যাহের, বাতেন, রাউফ, রাহিম, কারিম, ইয়াছিন, তোয়াহা, নবী, রাসুল, মোজ্জাম্মেল ও মোদ্দাচ্ছের-ইত্যাদি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনের সাথে রাসুল করিম (দ.) এর নাম নূর শব্দ দ্বারা উল্লেখ করাতে তাঁর নূরের রূপটি পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে। কুরআন লিখিত আছে লাওহে মাহফুযে। সেই লাওহে মাহফুয সৃষ্টি হয়েছে নবীজীর সৃষ্টির পরে এবং নবীজীর নূরের জ্যোতিতে। সুতরাং নবী করিম (দ.) এর প্রয়োজন কুরআনেরও আগে। কুরআন হচ্ছে হাদিয়া, আর রাসুল হচ্ছেন হাদিয়ার মালিক-অর্থাৎ সাহেবে কুরআন। সুরা বাকারার শুরুতে “আলিফ, লাম, মীম, যালিকাল কিতাব” এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে-আলিফে আল্লাহ, লামে জিব্রাঈল, মীমে মুহাম্মদ (দ.) এবং যালিকাল কিতাবু দ্বারা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কুরআনকে বুঝান হয়েছে।(রুহুল বয়ান-ইবনে আব্বাসের বর্ণনা)

এখানে আল্লাহ হচ্ছেন প্রেরক, মুহাম্মদ (দ.)হচ্ছেন প্রাপক ও ধারক, জিব্রাইল হচ্ছেন বাহক এবং যালিকাল কিতাব হচ্ছে হাদিয়া। অর্থাৎ আল্রাহ আশেক হয়ে জিব্রাইলের মাধ্যমে আপন মাশুক মুহাম্মদ মুস্তাফা (দ.) এর নিকট কুরআন নামক অমূল্য হাদিয়া প্রেরণ করেছেন। এই পটভূমিকাতেই নবীজীর সৃষ্টি রহস্য এবং তাঁর জগতে আগমন সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য অনুসন্ধান ও অনুধাবন করা কর্তব্য। নতুবা লক্ষ্যভ্রষ্টতা ও ভ্রান্তির বেড়ালে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।

ইমাম আবদুর রাজ্জাক (ইমাম বোখারীর দাদা ওস্তাদ) মোয়াম্মার হতে, তিনি ইবনে মুনকাদার হতে, তিনি হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী (রা.)হতে বর্ণনা করেছে,-হযরত জাবের (রা.) বলেন-আমি আরয কলাম, হে আল্লাহর রাসুল (দ.)! আপনার উপর আমার পিতা-মাতা উৎসর্গীত হোক, আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম কোন বস্তু সৃষ্টি করেছেন?তদুত্তরে নবী করীম (দ.) বললেন-“হে জাবের, আল্রাহ তায়ালা সর্ব প্রথম সমস্ত বস্তুর পূর্বে তাঁর নিজ নূর হতে’ তোমার নবীর নূর পয়দা করেছেন। তারপর আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছানুযায়ী ঐ নূর (লা-মাকানে) পরিভ্রমণ করতে থাকে।কেননা ঐ সময় না ছিল লাওহে মাহফুয, না ছিল কলম, না ছিল বেহেস্ত, না ছিল দোযখ, না ছিল ফিরিস্তা, না ছিল আকাশ, না ছিল পৃথিবী, না ছিল সূয্য, না ছিল চন্দ্র, না ছিল জ্বীন জাতি, না ছিল মানবজাতি। চলবে—-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here