মোহাম্মদ আলী আমাদের সময়ের অতি কাঙ্খিত মানুষদের একজন: সাবিনা ইয়াছমিন

0
102
পি নিউজ, ঢাকা: মোহাম্মদ আলী আমাদের সময়ের অতি কাঙ্খিত মানুষদের একজন। কাল সকালে এক বন্ধুর ফোনে জানতে পারলাম, আমাদের হিরো চলে গেছেন। শুনেই মনটা খারাপ হয়ে গেল।

মোহাম্মদ আলী একবারই বাংলাদেশে এসেছিলেন। যাঁরা তাকে সামনাসামনি দেখেছিলেন, আমি সেই সৌভাগ্যবানদের একজন। তাঁকে দেয়া নাগরিক সংবর্ধনায় গান গাওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। এটি আমার সংগীত জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর একটি।

১৯৭৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসেন তিনি। ঢাকা স্টেডিয়ামে তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হবে, এ খবর জানার পর আমাদের তো আনন্দের সীমা নেই। ঢাকার তৎকালীন মেয়র আবুল হাসনাত আমাকে সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার প্রস্তাব করেন। হিরোর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর সামনে গান গাইব ভেবে আমি মহা খুশি। এটা আমার জন্য সম্মানজনক এক প্রস্তাব। বাংলাদেশে এত শিল্পী থাকতে আমাকে সেই অনুষ্ঠানে গাইতে বলায় আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম।

মেয়র হাসনাত বলেছিলেন, আমাকে ইংরেজি গান গাইতে হবে। মনে মনে ভাবলাম, কোনো সমস্যা নেই। আমাকে দিয়ে যেকোনো ভাষায় গান করাতে পারেন। প্রথমে ‘ইউ গট আ ফ্রেন্ড’ গানটি গেয়েছিলাম। এটা দারুণ রোমান্টিক একটা গান। সেটা হিরোকে এতটাই আপ্লুত করেছিল যে, তিনি মঞ্চ ছেড়ে উঠে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। একপর্যায়ে আমাকে শুভেচ্ছা জানাতে মঞ্চের খুব কাছাকাছি চলে আসার চেষ্টা করেছিলেন। হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি বুঝি এসে আমার হাতটাই ধরে ফেলবেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ভেরোনিকা আলী সামনে এসে দাঁড়ালেন। আমি স্পষ্ট শুনতে পেলাম, তিনি স্বামীকে বলছেন, ‘দুষ্টুমি করো না।’

মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুসংবাদ জানার পর ভীষণ দুঃখ পেয়েছি। আমার অসম্ভব প্রিয় মানুষদের মধ্যে তিনি একজন। অসুস্থ থাকাকালীন প্রতি রাতে আমি তাঁর জন্য দোয়া করতাম- তিনি যেন ভালো হয়ে ওঠেন। কিন্তু তিনি চলে গেলেন। সবাইকে তো একদিন বিদায় নিতেই হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here