আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস, দুই সহোদরের বীরত্ব গাঁতা ইতিহাস আজো অম্লান

0
215

পি নিউজ ডেস্ক: দিনটি ছিল হিজরী দ্বিতীয় সনের ১৭ রমযান শুক্রবার। ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র সুললিত কন্ঠে ফজরের আযান ধ্বনিত হল। মুজাহিদগণ কাতারবন্ধি হয়ে রাসুলুল্লাহর ইমামতিতে নামাজ আদায় করলেন। নামাযান্তে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিগলিত চিত্তে অশ্র“সিক্ত নয়নে বারেগাহে ইলাহীতে প্রার্থনা করলেন, “হে আল্লাহ! আমার এ স্বল্প সংখ্যক সাহাবী যদি শহীদ হয়ে যায়, তবে আপনার নাম কে নেবে? আমি আপনার নামে সাহায্য প্রার্থনা করছি। ” এ প্রার্থনার জবাবে মহান আল্লাহ সাহায্যের প্রতিশ্র“তি প্রদান করলেন। নবীজি মুহুর্তের জন্য তন্দ্রামগ্ন হলে দেখতে পান সাদা পাগড়ী পরিহিত এক হাজার ফেরেস্তা মুজাহিদগণের সাহায্যার্থে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর ফেরেস্তাদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে তিন হাজার ও পাঁচ হাজারে উন্নীত হল। নবীজি সাহাবাদের এ সুসংবাদ প্রদান করে মুজাহিদগণের মনোবল বাড়িয়ে দিলেন। অত:পর যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য যখন রাসুলে করিম (দ.) মুজাহিদ বাহিনীকে সারিবদ্ধ করে সজ্জিত করছেন, তখন মোয়াজ ও মোয়াওয়াজ নামক দুজন বালক যুদ্ধে যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করল। নবীজি তাদের  সান্ত্বনা দিয়ে পরবর্তী কোন এক যুদ্ধে তাদের নেয়া হবে বলে প্রতিশ্র“তি দেন। কিন্তু তাদের একজন পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর করে লম্বা হয়ে দাঁড়ালো । রাসুলুল্লাহ (দ.) তার আগ্রহ দেখে অভিভূত  হয়ে তাকে জিহাদের কাফেলায় অর্ন্তভূক্ত করে নিলেন। এ অবস্থা দেখে অপরজন বলল, সে লম্বা হলে কি হবে মল্লযুদ্ধে সে আমার সাথে পারবে না। এ বলে সে মল্লযুদ্ধে তাকে হারিয়ে দিলো। প্রবল আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস দেখে নবী করিম (দ.) তাকেও সেনাবাহিনীতে যুক্ত করে নিলেন। এ ছিল তৎকালীন কিশোর বালকদের নবীপ্রেমের বাস্তব নমুনা।
সাহসী জননীর এ দু’ভাই যুদ্ধ ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে দুশমনে রাসুল আবু জাহেলকে অনুসন্ধান করতে লাগলো। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন, চাচা! আপনি কি আবু জাহেলকে চিনেন? আমরা উভয়ে প্রতিজ্ঞা করেছি, যে কোন উপায়ে আবু জাহেলকে হত্যা করবো। সাহাবীয়ে রাসুল তাদেরকে বললেন, ঐ যে লোকটি ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধের তদারকী করছে, সেই আবু জাহেল। বালকদ্বয় আবু জাহেলকে দেখা মাত্রই বাজপাখীর মতো তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। হযরত মোয়াজ বিন আফরাহ বর্ণনা করেন, আমি আবু জাহেলের ঘোড়ার সামনের দুই পায়ে আঘাত করার ফলে সে মাটিতে পড়ে যায়। আর হযরত মোয়াওয়াজ তরবারীর আঘাতে তাকে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলে। কিন্তু আবু জাহেল তখনো জীবিত ছিল। এ অবস্থা দেখে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তরিৎ গতিতে এসে এক আঘাতে আবু জাহেলের শিরচ্ছেদ করে তাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন। এমনিভাবে ইসলামের চিরশত্র“ মক্কার কাফেরদের দলনেতা অভিশপ্ত আবু জাহেল ছোট্ট দুই বীর মুজাহিদের হাতে নিহত হয়। একই বলে কাঁদায় পড়ে হাতীর মৃত্যু। এ দুই কিশোরের মাঝে সেদিন মহানবীর প্রতি অকৃত্রিম প্রেম ও ভালবাসা প্রবলবেগে সঞ্চারিত হয়েছিল বলেই ইসলামের প্রথম যুদ্ধে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং অভিশপ্ত আবু জাহেলকে হত্যা করে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের স্থান করে নিল। এটি ছিল ইসলামের প্রথম বড় যুদ্ধ। এই যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন। ঘোড়া ছিল মাত্র তিনটি আর উট ছিল সত্তরটি। পক্ষান্তরে কুরাইশ বাহিনীর সংখ্যা ছিল এক হাজার, ঘোড়া ছিল দু’শ, ছয়শ বর্মধারী এবং একদল গায়িকা ছিল যারা বাদ্যযন্ত্র সহ বদরপ্রান্তে উপস্থিত ছিল। রাসুলুল্লাহর দোয়া ও মহান আল্লাহর সাহায্যে স্বল্প সংখ্যক মুজাহিদ বাহিনী সেদিন বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়। এ যুদ্দে ৭০ জন কাফির নিহত এবং ৭০ জন বন্দি হয়েছে। মুসলমানদের মধ্যে ২২ জন শহীদ হয়েছিলেন। তন্মধ্যে ১৪ জন ছিল মুহাজির এবং ৬ জন ছিল খাজরাজ গোত্রের আর ২ জন ছিল আউস গোত্রের আনসার।
আমরা যদি ঈমানী বলে বলীয়ান হয়ে বদরী সাহাবাদের চেতনাকে বুকে  ধারণ করে শরীয়ত বিরোধী সকল অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই এবং খোদাদ্রোহী, নবী-অলী বিদ্বেষী বাতিলের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে পারি, তবেই তা হবে তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here