শবে ক্বদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

0
176

পি নিউজ ডেস্ক:  উপমহাদেশে ফারসী রাজকীয় ভাষা থাকার কারণে ধর্ম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিচার আচারের বহু ফারসী শব্দ আমাদের সংস্কৃতির সাথে একাকার হয়ে গিয়েছে।  যেমন  ‘সালাতের’ পরিবর্তে নামাজ, ‘সাওমের’ পরিবর্তে রোজা’র মতো লাইলাতুল ক্বদর-এর পরিবর্তে শবে ক্বদর  সাধারণ মানুষের কাছে তাই বেশি পরিচিত। ‘শব’ অর্থ রাত আর আরবী ‘লাইলাতুন’ শব্দের অর্থও রাত বা রজনী। কদর অর্থ সম্মানিত, মহিমান্বিত। সুতরাং লাইলাতুল কদর-এর অর্থ সম্মানিত রজনী বা মহিমান্বিত রজনী। প্রতিবছর মাহে রমজানে এই মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর  এ মুসলিমদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে।

লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত

পবিত্র কুরআন ও সহীহ-হাদীস দ্বারা লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ‘শব-ই-বরাত’ নিয়ে এবং শব-ই-বরাতের হাদীসগুলোর বর্ণনা নিয়ে হাদীস বিশেষজ্ঞ ও ফকিহ্দের মধ্যে যে সংশয় রয়েছে- লাইলাতুল ক্বদরের ব্যাপারে তার কোনই অবকাশ নেই। পবিত্র কুরআন, নির্ভরযোগ্য হাদীস এবং রাসূলুল্লাহ (দ.)-এর লাইলাতুল ক্বদরের জন্য গৃহীত কর্মতৎপরতা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ সম্মানিত রজনীর গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘আমি এ (কুরআনকে) ক্বদরের রাতে নাজিল করেছি। তুমি কি জান, ক্বদরের রাত কি? ক্বদরের রাত হাজার মাস হতেও উত্তম-কল্যাণময়’-সুরা আল্ ক্বদর  (১-৩)। এ রাতটি কোন মাসে? এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘রমযান এমন মাস যাতে কুরআন নযিল হয়েছে-’ (বাকারা ১৮৫)। এ রাতটি রমযানের কোন তারিখে? রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) একটি রহস্যময় কারণে তারিখটি সুনির্দিষ্ট করেননি। ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আহমদ ও ইমাম তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, ‘ক্বদরের রাতকে রমযানের শেষ দশ রাতের কোন বেজোড় রাতে খোঁজ কর’। হযরত আবু বকর (রাঃ), ও হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস থেকেও এ একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। অবশ্য কোন কোন ইসলামী মনীষি নিজস্ব ইজতিহাদ, গবেষণা, গাণিতিক বিশ্লেষণ ইত্যাদির মাধ্যমে রমযানের ২৬ তারিখের রাতে শব্-ই-ক্বদর হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা জোর দিয়ে বলেছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে সুনির্দিষ্ট করেননি বরং কষ্ট করে খুঁজে নিতে বলেছেন। মহান আল্লাহ্ চান বান্দাহ কয়েক রাত ইবাদতে গভীর মনোনিবেশ করে এ মহামূল্যবান রাতের সন্ধান পাক। আল্লাহ্ তার বান্দাহদের সবরের পরীক্ষায় ফেলেছেন। এ রহস্যের অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। পৃথিবীতে আমরা দেখি যা দুর্লভ তাই মূল্যবান। ভূগর্ভে অন্ধকার কয়লা খনির বিশেষ বিশেষ স্থানে মূল্যবান হীরার সন্ধান পাওয়া যায়। সে হীরা সন্ধান ও উত্তোলনে কত মূল্যবান জীবন-সম্পদ -শ্রম নিঃশেষ হয়ে যায়! চমৎকার পদ্মটি ফোটে সরোবরের মধ্যে, আর তা সংগ্রহের জন্য কষ্টের পাশাপাশি কাঁটার আঘাতও সহ্য করতে হয়। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি সত্য। যে দ্রব্য অবাধ তার মূল্য নেই। যে দ্রব্যের যোগান সীমিত, যা অর্জনে পরিশ্রম করতে হয় তাকেই বলে অর্থনৈতিক দ্রব্য। আর এ দ্রব্যেরই বাজারে মূল্য রয়েছে। সহজ পরীক্ষা দিয়ে যথার্থ মেধা যাচাই করা যায় না। তাই আকর্ষণীয় বেতনে উচ্চ পদের জন্য পরীক্ষার অনেকগুলোর ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

চলবে—-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here