শিক্ষার্থীদের লোভ সংবরণ, সৎ, আদর্শবান ও দেশপ্রেমিক গঠনে বিক্রেতা বিহীন দোকান

0
135

পি নিউজ ডেস্ক: সমাজে যখন সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের  অবক্ষয়, তখনই ব্যতিক্রম এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাড়াদী গ্রামে অবস্থিত ৫৮ নম্বর স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।

‘সুন্দর আগামীর জন্য কাজ করে যাবো আমরা’ স্লোগানকে ধারণ করে বিদ্যালয়ের বারান্দায় তিনি ‘সততা স্টোর’ নামে একটি দোকান স্থাপন করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবনের বারান্দায় টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে খাতা, পেন্সিল, কলম, জ্যামিতি বক্স, চুইংগাম, চানাচুর, আচার, চকলেটসহ বিভিন্ন পণ্য। দোকান আছে, ক্রেতাও আছে কিন্তু নেই শুধু বিক্রেতা।

প্রতিটি পণ্যের মূল্য সংবলিত একটি তালিকা দেয়ালে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। টেবিলের এক পাশে রয়েছে একটি বাক্স। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের পণ্য ও খাবার কিনে নিয়ে নির্দিষ্ট মূল্য ওই বাক্সে রেখে যাচ্ছেন। ৫৮ নম্বর স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৫ বার উপজেলার শেষ্ঠ স্কুল নির্বাচিত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খানের উৎসাহ এবং বন্ধু আবু সালেহ মো. মুসার সহযোগিতায় মাত্র এক হাজার টাকা নিয়ে সততা স্টোর চালু করি। চালু করার পর প্রথম দিকে কিছু পণ্য খোয়া গিয়েছিল। পরে আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শ্রেণি কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ ও সততা সম্পর্কে বোঝাতে থাকি। এর পর থেকে আর কোনো পণ্য খোয়া যায়নি। বর্তমানে দোকান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, মূলত শিক্ষার্থীদের লোভ সংবরণ, সৎ, আদর্শবান এবং একজন দেশ প্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই দোকানটি খোলা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদ ফেরদৌসী, শাহরিয়া কালাম এবং চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতী বলেন, ‘আমাদের ক্ষুধা লাগলেই এখান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার কিনে এর মূল্য বাক্সে রেখে দেই। এখানে বাকিতে পণ্য নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি টাকা না থাকে তাহলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ধার নিয়ে খাবার কেনার সুযোগ রয়েছে ।

ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন খান বলেন, এই ধরনের মহতী ও ব্যতিক্রম উদ্যোগের ফলে শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, এই ধরনের চিন্তা-চেতনা শিশু শিক্ষার্থীদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here