মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের বিচারের আওতায় আনা উচিত

0
135

পি নিউজ ডেস্ক : মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের সবচেয়ে বড় অপরাধী ও রাজাকার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যারা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছেন, তাদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন এবং ভোট চুরি করে যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সংসদে বসিয়েছেন, তারাই সবচেয়ে বড় অপরাধী ও রাজাকার।’ মঙ্গলবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যৌথসভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা মানবতাবিরোধী এবং বাংলাদেশের মাটিতে তাদের বিচার হওয়া উচিত। তাদের বিচারে সোচ্চার হওয়ার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যারা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। তারা কেন মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছেন, তারা জানতেন যে, এ আলবদর ও রাজাকাররা জনগণকে নির্যাতন করেছে, তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং গণহত্যা চালিয়েছে।’
টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর নিজের গ্রামে স্বাধীনতা বিরোধীদের নির্যাতন ও লুটপাটের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজাকার-আলবদর আমাদের গ্রামের বাড়িতে বারবার হামলা চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের শহর ও গ্রামের সব জায়গায় তাদের লুটপাট চালানোর দৃশ্য ছিল একই। কিন্তু আমার প্রশ্ন একটি গোষ্ঠী কেন তাদের জন্য মায়া কান্না করছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করছে, যেন মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বজন হারানো মানুষগুলো ন্যায় বিচার পেতে পারেন। কিন্তু একটি গোষ্ঠী দোষী সাব্যস্ত হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধীদের জন্য মায়া কান্না করছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর শুরু হয়েছে। সর্বশেষ গত ৬ সেপ্টেম্বর একজন মানবতাবিরোধী অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর ফলে দেশ অভিশাপ থেকে মুক্ত হচ্ছে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের পটভূমি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে মা-বোনদের তুলে দিয়েছিল, বঙ্গবন্ধু সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। কিন্তু সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান সামরিক আইন অধ্যাদেশের মাধ্যমে সেই বিচার স্থগিত করে দেন এবং জেলে থাকা সেই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিয়ে পুনর্বাসন করেছিলেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে আমার সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশকে কলঙ্ক থেকে মুক্ত করতে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করে ছিলো তাদের বিচার কাজ শুরু করে ‘ তিনি বলেন, ‘যে সব দেশ যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করেছে, সেই সব দেশে এ ধরনের বিচার হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা হত্যা, ধর্ষণ এবং লুটপাটে জড়িত ছিল তাদের জন্য একটি গোষ্ঠী মায়া কান্না করছে।’
প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নিহত জঙ্গিদের পক্ষাবলম্বন করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা জঙ্গিই হয়, কিন্তু কেন খালেদা জিয়া তাদের (জঙ্গিদের) জন্য মায়া কান্না করছেন? পুড়ে যাওয়া মানুষের জন্য তিনি ব্যথা অনুভব করেন না, কিন্তু জঙ্গিদের জন্য গভীরভাবে তার হৃদয় কাঁদে। জঙ্গিদের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক সেটা আমরা খুঁজে বের করব। ’
সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ এই দুই দানবের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শিক্ষক, ছাত্র, পিতা-মাতা এবং অভিভাবকসহ সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সফল অপারেশনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের খুঁজে নির্মূল করতে না পারতো, তাহলে তারা আরও বেশি মানুষ হত্যা করতো।’
২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে এবং ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাস বিএনপি-জামায়াত অপশক্তির পুড়িয়ে মানুষ মারা এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি লুটপাটের প্রতি ইংগিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এই অপরাধে জড়িত ছিল তাদেরকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। সূত্র: বাসস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here