গরু-মহিষের নাড়িভুঁড়িও রপ্তানি হচ্ছে এখন

0
150

পি নিউজ ডেস্ক: অপ্রচলিত পণ্য গরু-মহিষের নাড়িভুঁড়িও রপ্তানি হচ্ছে এখন। ইংরেজিতে একে বলা হয় ওমাসম। দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১৫০-২০০ কোটি টাকার সমমূল্যের ওমাসম বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এসব পণ্যের সিংহভাগই রপ্তানি হচ্ছে প্রধানত চীন, হংকং, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে।

জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ২৫ জন নাড়িভুঁড়ি রপ্তানিকারক রয়েছেন। ‘বাংলাদেশ নাড়িভুঁড়ি ও জননেন্দ্রিয় রপ্তানিকারক সমিতি’ নামে নতুন একটি সমিতি গঠনেরও উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে লোক ঠিক করে বছরজুড়েই তারা ওমাসম সংগ্রহ করেন। বছরের মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ কোরবানির সময় সংগ্রহ করা হয়। এরপর প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে নাড়িভুঁড়ি থেকে চর্বি বের করে ফেলা হয়।

গরু-মহিষের এই ‘ওমাসম’ পশুর তৃতীয় পাকস্থলী নামেও পরিচিত। অথচ একসময় উচ্ছিষ্ট হিসেবে তা খাল-নালা ও ডোবায় ফেলে দেয়া হতো।

ওমাসম দিয়ে উন্নত মানের স্যুপ ও সালাদ তৈরি হয় এবং তা চীনাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় খাবার।

ইউরোপেও ওমাসম রপ্তানির চেষ্টা চলছে। অপ্রচলিত পণ্য শ্রেণিতে ওমাসম রপ্তানিতে বর্তমানে ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হয়। প্রস্তাবিত সমিতিটি ৩০ শতাংশ নগদ সহায়তার দাবি করছে।

ওমাসম রপ্তানিকারকরা জানান, এক টন বা এক হাজার কেজি প্রক্রিয়াজাত করার পর ৭০০ কেজি ওমাসম পাওয়া যায়। তারা বলেন, বিপুল পরিমাণ ওমাসম রপ্তানির বাজার রয়েছে বহির্বিশ্বে। একটু সচেতন হলেই সেই বাজারটা ধরা সম্ভব। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও পরিবেশদূষণ রোধ—দুই দিক থেকেই লাভ হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্র জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১১৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের ওমাসম রপ্তানি হয়। ওমাসম রপ্তানি সমিতির দাবি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা ১৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরে তা আরও বাড়বে। বিশ্বে ৩২ হাজার কোটি টাকার ওমাসমের বাজার রয়েছে বলে সমিতির কাছে তথ্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নাড়িভুঁড়ি ও জননেন্দ্রিয় রপ্তানিকারক সমিতি সম্প্রতি বাণিজ্য সংগঠন (টিও) হিসেবে লাইসেন্স পেতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ১৫টি যুক্তি তুলে ধরে আবেদন করেছে। মন্ত্রণালয় টিও লাইসেন্স দেয়ার ব্যাপারে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here