ভারত-পাকিস্তান টাগ অব ওয়ার এবং ভীতু বাঙালির বোবা কান্না

0
133

 

 

আবছার তৈয়বী, বিশেষ প্রতিনিধি: ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ কি অত্যাসন্ন? কাশ্মীরের উরিতে ১৭ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে এ বিষয়টি এখন সমানে আলোচিত হচ্ছে। যদিও এ হামলার জন্য এখন পর্যন্ত কেউ দায় স্বীকার করেনি।তারপরেও এ ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে প্রতিশোধ নেয়ার কথা বলে আসছে ভারত। দেশটির সেনাবাহিনীর বড় অংশই চাচ্ছে সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানের ভেতরে আক্রমণ করতে। জবাবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান রাহিল শরীফ বলেছেন, তার দেশ সব ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হু,মকি মোকাবেলায় প্রস্তুত। পাকিস্তান আক্রান্ত হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন রাহিল। এ অবস্থায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রধান শক্তিধর দুই দেশ যদি যুদ্ধে জড়িয়ে যায় কী হবে পরিণতি? ক্ষয়-ক্ষতি কি দুই দেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আশেপাশের দেশগুলোতেও বিস্তৃত হবে ধ্বংসযজ্ঞ? দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ ভারত ও পাকিস্তান। এছাড়াও দুই দেশের সামরিক বাহিনীই জনবল ও অত্যাধুনিক অস্ত্রসম্ভারে সমৃদ্ধ। সিআইএ, দুই দেশের পাবলিক ডোমেইনসমূহ, সংবাদমাধ্যম এবং উইকিপিডিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দুই দেশের সমর শক্তির তুলনামূলক চিত্র তৈরি করেছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ডটকম।

জনবল
ভারত: ১২৫ কোটি ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮৪ জনসংখ্যার দেশটিতে ৬১ কোটি ৬০ লাখ জনশক্তি রয়েছে। এর মধ্যে সার্ভিসের জন্য উপযুক্ত ৪৮ কোটি ৯৬ লাখ জন। দেশটিতে প্রতি বছর সামরিক দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত বয়সী হন ২২ কোটি ৯ লাখ ব্যক্তি। ভারতে ১৩ লাখ ২৫ হাজার সেনা রয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল ২১ লাখ ৪৩ হাজার।
পাকিস্তান: ১৯ কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার ৮৪৭ জনসংখ্যার দেশটিতে ৯ কোটি ৫০ লাখ জনশক্তি রয়েছে। এর মধ্যে সার্ভিসের জন্য উপযুক্ত ৭ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার জন। দেশটিতে প্রতি বছর সামরিক দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত বয়সী হন ৪ কোটি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ব্যক্তি। পাকিস্তানে ৬ লাখ ২০ হাজার সেনা রয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল ৫ লাখ ১৫ হাজার।

বিমান বাহিনী
ভারত: সব মিলিয়ে ভারতের দুই হাজার ৮৬টি বিমান রয়েছে। এছাড়াও দেশটির ৬৪৬টি হেলি কপ্টার, ১৯টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ৮০৯টি নির্ধারিত পাখাযুক্ত অ্যাটাক বিমান, ৬৭৯টি যুদ্ধ বিমান, ৩১৮টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ৮৫৭টি ট্রান্সপোর্ট বিমান রয়েছে।দেশটির ৩৪৬টি ব্যবহার যোগ্য বিমানবন্দর রয়েছে।
পাকিস্তান: সব মিলিয়ে পাকিস্তানে ৯২৩টি বিমান রয়েছে। এছাড়াও দেশটির ৩০৬টি হেলিকপ্টার, ৫২টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ৩৯৪টি নির্ধারিত পাখাযুক্ত অ্যাটাক বিমান, ৩০৪টি যুদ্ধ বিমান, ১৭০টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ২৬১টি ট্রান্সপোর্ট বিমান রয়েছে।দেশটির ১৫১টি ব্যবহার যোগ্য বিমানবন্দর রয়েছে।

সেনা বাহিনীর অস্ত্র সম্ভার
ভারত: দেশটির ছয় হাজার ৪৬৪টি ট্যাংক, ছয় হাজার ৭০৪টি আর্মার্ড ফাইটার ভেহিক্যাল, ২৯০টি সেল্ফ প্রপেল্ড গান, সাত হাজার ৪১৪টি টানা কামান এবং ২৯২টি মাল্টিপল লাঞ্চার রকেট সিস্টেম রয়েছে।
পাকিস্তান: দেশটির দুই হাজার ৯২৪টি ট্যাংক, দুই হাজার ৮২৮টি আর্মার্ড ফাইটার ভেহিক্যাল, ৪৬৫ টি সেল্ফ প্রপেল্ড গান, তিন হাজার ২৭৮টি টানা কামান এবং ১৩৪টি মাল্টিপল লাঞ্চার রকেট সিস্টেম রয়েছে।

নৌ বাহিনীর শক্তি
ভারত: দেশটির ৩৪০টি মার্চেন্ট মেরিন জাহাজ রয়েছে। প্রধান সমুদ্রবন্দর রয়েছে সাতটি। এছাড়া দুটি বিমানবাহী ক্যারিয়ার, ১৪টি সাবমেরিন, ১৪টি ফ্রিগেট, ১০টি ডেস্ট্রয়ার, ২৬টি কর্ভাটি, ছয়টি মাইন ওয়ারফেয়ার ক্রাফ্ট এবং ১৩৫টি পেট্রোল ক্রাফট রয়েছে।
পাকিস্তান: দেশটির ১১টি মার্চেন্ট মেরিন জাহাজ রয়েছে। প্রধান সমুদ্র বন্দর রয়েছে দুটি। এছাড়া পাঁচটি সাবমেরিন, ১০টি ফ্রিগেট, তিনটি মাইন ওয়ারফেয়ার ক্রাফ্ট এবং ১৩৫টি পেট্রোল ক্রাফট রয়েছে।

অর্থনীতি, জনবল এবং এমন সামরিক শক্তিতে ভারত পাকিস্তান থেকে বহুগুণ এগিয়ে গেলেও এই দুই আঞ্চলিক পরাশক্তির ব্যালেন্স নিশ্চিত করেছে দুই দেশেরই পারমানবিক শক্তি। ভারত ও পাকিস্তানের জন্য এই পারমানবিক শক্তি ধ্বংসের কারণ না হয়ে তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ, ভারতের পারমানবিক মিসাইল যেমন যে কোন মুহূর্তে পাকিস্তানকে ধ্বংস করে দিতে পারে; ঠিক তেমনি পাকিস্তানের পারমানবিক মিসাইল ভারতের চানক্য চালের আখড়া দিল্লীর সেক্রেটারিয়েট, সংসদভবনসহ যে কোন শহর নিমিষেই গুঁড়িয়ে দিতে পারে। সুতরাং ডরনে কা কো-ই বা-ত নেহী। বড় কোন যুদ্ধে যে ভারত-পাকিস্তান জড়াবে না- তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কারণ, দু’দেশের পারমানবিক অস্ত্র একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহার দেশ দু’টিকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে দিতে যথেষ্ট। সুতরাং হুমকি-ধমকি যতোই দেয়া হোক না কেন- তা স্রেফ ‘বকওযাজ’ হিসেবেই ধরে নিতে পারেন। যদিও দু’দেশের আগ্রাসী নেতৃত্বের মনে দু’দেশকে ধরা থেকে মিটিয়ে দেবার খায়েশ থাকলেও তারা সিদ্ধান্ত নেন- সোচ-সমঝকে। মধ্যখানে বিশ্ব মোড়লরা দু’দেশকেই হাওয়া দিয়ে নিজেদের অস্ত্র ব্যবসাটা ভালোভাবে করে নেবে। ব্যস্- কাজ হবে এটুকুই।

আমার ভাবনাটা অন্যখানে। আচ্ছা- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ যদি সত্যিই শুরু হয়ে যায়, তো বাংলাদেশের জনগণ কার পক্ষ নেবে? আমার ধারণা- অন্তরে একরাশ ক্ষোভ নিয়ে, হৃদয়ে দগদগে ঘা নিয়ে এবং ঘৃণার এক সাগর থুথু মাড়িয়েও বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের পক্ষ নেবে। কারণ, ইতোমধ্যে ভারত বাংলাদেশের জনগণের মন-মগজকে বিষিয়ে তুলেছে। ভারতীয় বুজদিল সেনাবাহিনী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিম্মাংশের কেশ ছিঁড়তে না পারলেও প্রায় প্রতিদিনই নিরীহ বাংলাদেশী জনগণকে গুলি করে মারছে। শুষ্ক মওসূমে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানি আটকে রেখে বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করছে। আবার বর্ষা মওসূমে নদীর সব গেইট খুলে দিয়ে বাংলাদেশকে অথৈই পানিতে ভাসাচ্ছে। ভারতের সেক্রেটারিয়েটের সাউথব্লকের নীল নকশায় বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি করে চলেছে। ভারতকে ছাড় দিতে দিতে বাংলাদেশ বলির পাঁঠাতে রূপান্তরিত হয়েছে। বাংলাদেশ জান দিয়ে ভারতের সেবা করছে- তবুও অকৃজ্ঞ ও অতৃপ্ত ভারতের তৃপ্তি নেই, স্বস্থি নেই। বাংলাদেশ যে ভারতের জন্য জানদিয়ে মরলো- সেদিকে তার খেয়াল নেই, ওরা লোভী ব্রাহ্মণের মতো পেটে হাত বুলিয়ে বলছে- ‘খেয়ে তৃপ্তি পেলাম না’! বর্তমানে বাংলাদেশে এমন কোন রাজনৈতিক দল নেই- যেই দলে ভারতের ‘র’ এর এজেন্ট নেই। এমন কোন কর্মসূচি নেই- যেটি ভারত মনিটরিং করছে না। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, ট্রানজিট, ছিটমহল, বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বাংলদেশের প্রতি ভারত সমানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। উপরে বন্ধুতের ঘেরাটোপ দিয়ে ভারত বাংলাদেশের শরীরে ছুরিকাঘাত করছে, রক্তাক্ত করছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের জনগণ আমাদের উপর অত্যাচারের কথাটাও বলতে পারছি না- এ এক অসহ্য যন্ত্রণা! ভারতের এই আগ্রাসী নীল নকশা এতোই বিস্তৃত ও ভয়ানক যে, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক বা আসুক, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ভারতের গোলামী করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। বলতে গেলে- বিশাল বপুর ভারত পুরো বাংলাদেশটাকে গিলে খেয়ে ফেলেছে। ভারতের পেট থেকে সহজেই বাংলাদেশ বেরুতে পারবে বলে মনে হয় না। সুতরাং গোলামীর জিঞ্জির কাঁধে নিয়ে বাংলাদেশের ভীতু জনগণের বোবা কান্না ছাড়া আর করারই বা কী আছে?

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here