দাফনের সময় নড়ে ওঠা শিশুকে ঢাকায় আনা হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য

0
126

পি নিউজ ডেস্ক: ফরিদপুরে জন্ম নেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে মৃত ঘোষণা ও পরবর্তীতে দাফনের সময় নড়ে ওঠা শিশু গালিবা হায়াতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
গত দুদিন ধরে ফরিদপুরের ড. জাহেদ শিশু মেমোরিয়াল হাসপাতালে সে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ৫ মাস ২২ দিনের মাথায় শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ায় নানা জটিলতা দেখা দেয়।
জাহিদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এএইচ সায়েদ বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই শিশুটিকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুরের বেসরকারি হাসপাতাল ডা. জাহেদ শিশু মেমোরিয়াল হাসপাতালে জন্ম নেয় নাজমুল হুদা ও নাজনীন আক্তার দম্পতির কন্যা শিশুটি। পরে চিকিৎসকেরা শিশুটিতে মৃত ঘোষণা করে। ভোরে শিশুটিকে দাফন করতে কবরস্থানে নেওয়া হলে দাফনের আগে নড়ে ওঠে।
এদিকে, চিকিৎসকের অবহেলার কারণ খুঁজে বের করতে ফরিদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ঊষা রঞ্জনকে প্রধান করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
তবে চিকিৎসকদের অবহেলার দায়ভার কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি নন ড. জাহেদ শিশু মেমোরিয়াল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. নকুল রঞ্জন সরকার।
তিনি জানান, শিশুটির মা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং ঈদের আগে সে পাঁচ মাসের গর্ভধারণ অবস্থায় ফরিদপুর আসে। এখানে আসার পর ২১ সেপ্টেম্বর তার অবস্থা খারাপ হয়। রাতে তাকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে গাইনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তারা এই হাসপাতালে আসেন এবং হাসপাতালে রাতে ভর্তির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান নেন। বারান্দায় থাকা অবস্থায় ওই মহিলা কন্যা সন্তান প্রসব করেন। এসময় হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রিজিয়া মহিলার চিকিৎসা দেন। ওই সময় জন্ম নেওয়া শিশুটির পালস ও হার্টবিট পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে নবজাতককে ডা. রিজিয়া মৃত ঘোষণা করেননি বলে দাবি করেন ডা. নকুল রঞ্জন সরকার।
তবে এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা নাজমুল হুদা মিঠু জানান, ডা. রিজিয়া আলম মৃত ঘোষণা করার পরই হাসপাতালের নার্সরা একটি কার্টনে ভরে শিশুটিকে নিয়ে যেতে বলেছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here