শাহদাতে কারবালা মাহফিলে: ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোয় ইয়াজিদ চিরঘৃণ্য হয়ে আছে

0
181

এস এম নিয়ামত উল্লাহ: শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে আহলে বায়তে রাসূল (দ.) স্মরণে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে ১০ দিনব্যাপী ৩১তম আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল হাজারো দ্বীনদার জনতার অংশগ্রহণে মুখর হয়ে উঠে। গতকাল মঙ্গলবার মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে সভাপতিত্ব করেন সাতকানিয়া ধর্মপুর দরবারের সাজ্জাদানশীন, পীরে তরিকত মাওলানা আবদুশ শাকুর নকশবন্দি (ম.জি.আ)। প্রধান অতিথি ছিলেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ইসলামের নামে জঙ্গিপনা, সন্ত্রাস-হানাহানি ও রক্তপাত ঘটিয়ে দুরাচারি ইয়াজিদ ইতিহাসে চিরঘৃণ্য হয়ে আছে।

আর নবী বংশের উজ্জ্বল প্রতিনিধি হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ইসলামের শান্তি ও ইনসাফের পতাকা সমুন্নত রেখে যুগে যুগে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে আছেন। ইয়াজিদ অমানবতা, জুলুম ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতীক। আর হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) শান্তি, উদারতা, ন্যায় ও ইনসাফের বাস্তব নমুনা। হোসাইনি ইসলামকে প্রসারিত করে ইয়াজিদি ত্রাসধর্মী তথাকথিত বিকৃত ইসলামকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান চবি উপাচার্য। মাহফিলে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা শিল্পপতি আলহাজ সূফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্য দেন জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আলকাদেরী। তিনি বলেন, আল্লাহর প্রেমে ও সন্তুষ্টির জন্য প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে হবে এটাই শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা। আল্লাহ পাক হযরত ইব্রাহিম (আ.) কে প্রিয় বস্তু তথা আপন পুত্রকে কুরবানি করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু হযরত ইসমাইলের কুরবানির পরিবর্তে বাস্তবে হয়েছে পশু কুরবানি। অন্যদিকে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও আহলে বায়তে রাসূল (দ.) নিজেরাই নিজেদের জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর কুরবানির ঐতিহাসিক ধর্মীয় তাৎপর্য আছে। কিন্তু এর চেয়ে হযরত ইমাম হোসাইনের (রা.) কুরবানি অধিক তাৎপর্যময় এটা আমাদের বুঝতে হবে।


শুভেচ্ছা বক্তব্যে আলহাজ সূফি মিজানুর রহমান বলেন, দ্বীন ইসলামকে আপন মহিমায় উজ্জ্বল রাখতে কারবালা ময়দানে নিজের জীবন দিয়েছেন হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)। আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) শাহাদাতের সিঁড়ি বেয়ে সমগ্র বিশ্বে দ্বীন ইসলামের প্রসারতা ঘটেছে। মাহফিলে অতিথি ছিলেন, প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব পেয়ার মোহাম্মদ, গাউছিয়া কমিটির মহাসচিব শাহজাদ ইবনে দিদার, নগর গাউছিয়া কমিটির সভাপতি মো. আবুল মনছুর, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম, অধ্যক্ষ আল্লামা বদিউল আলম রিজভী।

ইসলামী শরীয়তে মাযহাব মানার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণি সালেহী। আহলে বায়তের পরিচয় ও মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করেন মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রজভী। কোরআন মজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক কারী শায়খ আহমদ বিন ইউসুফ আল আহজারী। মাহফিল সঞ্চালনায় ছিলেন চবি আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আল্লামা জাফর উল্লাহ। শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তা ও সদস্যসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।সালাতুত সালাম পেশ করেন অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আলকাদেরী (ম.জি.আ)। সালাত সালামশেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও দেশবাসীর শান্তি কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন ধর্মপুর দরবার শরীফ’র পীরে তরিকত মাওলানা আবদুশ শাকুর নকশবন্দি চাটগামী ম.জি.আ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here