টেকনাফ ও মংডুর নৌ-স্থলপথ বন্ধ

0
117

পি নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে (রাখাইন) সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তিনটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার পর টেকনাফ ও মংডুর মধ্যে নৌ-স্থলপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা জারির পাশাপাশি টহলও জোরদার করেছে বিজিবি।
আরাকান রাজ্যের এ ঘটনার পরপরই মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে জরুরি বার্তা পাঠায়। সীমান্ত দিয়ে যাতে সে দেশের কোনো গুলিবিদ্ধ বা আহত বিদ্রোহী কোনোভাবেই অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে বিজিবিকে অনুরোধ জানানো হয়।
এ বিষয়ে টেকনাফ বিজিবি-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ সোমবার বলেন, ‘আমরা আরাকান রাজ্যের ঘটনার কথা জানার পরপরই সীমান্তে সতর্কতা জারি করেছি। সেই সঙ্গে বিজিবির টহলও জোরদার করেছি।’
আরাকানের ঘটনার পর থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌ ও স্থলপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তা মূলত মংড়ু থেকে পণ্য ও যাত্রী না আসার কারণে টেকনাফ থেকেও যাওয়া বন্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
টেকনাফ বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, রোববার থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ ও মিয়ানমারের মংডুর মধ্যে পণ্য ও যাত্রী আসা-যাওয়া বন্ধ রয়েছে।
শনিবার রাতে আরাকান রাজ্যে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) তিনটি ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় মংডুর কাউয়ার বিলের তানাইছ, নাফফুরা ও রাশিদং ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর হামলাকারীদের সঙ্গে বিজিপির সংঘর্ষ শুরু হয়, যা রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে বলে সীমান্তের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে বিজিপি ঘাঁটিতে অতর্কিতে হামলা হয়। এ হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন মিয়ানমারের পুলিশ কর্মকর্তা। খুব ভোরে এ হামলা চালানো হয়। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।
রাজ্যের একজন কর্মকর্তা হামলার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে (আরএসও) দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, হামলাকারীরা অস্ত্রশস্ত্র লুট করে নিয়ে গেছে।
চলতি বছর মে মাসে টেকনাফের একটি আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা এবং ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৭০টি গুলি লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা সংঘটন আরএসও জড়িত বলে সন্দেহ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here