ঐতিহ্যকে পেছনে ফেলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

0
119

পিনিউজ ডেস্ক : একনিষ্ঠ আন্তরিকতা ও সেবার ব্রত নিয়ে চলা ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের এ যাবতকালের সকল ঐতিহ্যকে পেছনে ফেলে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে আর কোনো ছাত্রনেতা এই সম্মান অর্জন করতে পারেনি। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়া সদস্য ও তাদের পরিবার থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের রেওয়াজও ভেঙেছেন ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগের দর্শন নিয়েই ষাটের দশকে ছাত্র জীবনে রাজনীতি শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর বিভিন্ন সময়ে দল কঠিন সঙ্কট আর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও তিনি নড়চড় হননি। থিতু হয়ে নৌকার বৈঠা ধরে রেখেছিলেন। বহু ত্যাগের ফলও পেয়েছেন। হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
রোববার নির্বাচিত হওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার বড় রাজাপুর গ্রামে ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোশাররফ হোসেন ছিলেন স্কুল শিক্ষক। ওবায়দুল কাদের বসুরহাট সরকারি এইচএসসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে মেধা তালিকায় স্থান নিয়ে এইচএসসি পাশ করেন। মূলত: নোয়াখালী সরকারি কলেজেই তার ছাত্র রাজনীতির সূচনা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ স্নাতক সম্পন্ন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরই ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। ওবায়দুল কাদের ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) অধিনায়ক ছিলেন। স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ওবায়দুল কাদের আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগে সভাপতি নির্বাচিত হন। টানা দুইবার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রথমবারই যুব ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি। ২০০২ সালের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন থেকে ২০০৯-এর সম্মেলন পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে জরুরি আইনে গ্রেফতার হয়ে ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here