কুরআন সুন্নাহর পথ থেকে দূরে সরে যাওয়ায় মুসলিম আজ সারা বিশ্বে লাঞ্চিত! (এক)

0
50

মুহাম্মদ আলী আক্কাছ নূরী : এক সময় মুসলমান অর্থনৈতিকভাব খুবই কষ্টে ছিল কিন্তু কুরআন সুন্নাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলার কারণে ধুলির তকতে বসে সারা পৃথিবী শাসন করেছিল। কারণ সে সময়ে মুসলিমরা সংখ্যায় কম থাকলেও; যারা ছিল তাদের মাঝে রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অগাধ প্রেম-ভালবাসা এবং কুরআন সুন্নাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলতো।বর্তমান সময়ে মুসলমানের সংখ্যা তখন থেকে বহুগুনে বেশী হলেও কুরআন সুন্নাহর বিধি নিষেধকে পাত্তা না দিয়ে পশ্চিমা বিধর্মীদের অপসংস্কৃতিকে মাথার তাজ মনে করছে।নামে ইসলাম থাকলেও শয়তানের অনুসারী নাস্তিকদের যুক্তিকে পাত্তা দিয়ে বিপদগামী হচ্ছে।

নারী,গাড়ী, বাড়ি এবং দুনিয়াবী সম্পদের মোহে পড়ে মুসলমানের নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে ইহুদী নাসারাসহ অন্যান্য পথভ্রষ্টদের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অথচ নিজেরাই বুঝতে পারছে না। বাংলা ইংরেজী পড়ুয়া ব্যক্তিরা কুরআন হাদিসের অন্যের করে দেওয়া বাখ্যা পড়ে নিজেরা প্রকৃত আলেমদের থেকে বেশী বুঝে মনে করে পথভ্রষ্ট ও বিপদগামী হচ্ছে।এভাবে সাধারণ মুসলমান ইসলামের সঠিক মুলধারা থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে দিনকে দিন।ফলে সারা বিশ্বে মুসলমান আজ প্রতিনিয়ত অপমানিত, লাঞ্চিত।

সাধারণ মুসলমানরা বর্তমান শতাব্দীতে এসে ইসলামের মধ্যে অসংখ্য দলাদলীর কারণে ইসলামের সঠিক মুলধারা কোনটি বুঝতে অক্ষম হয়ে পড়ছে।নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও ঘোষণা দিয়েছিলেন আখেরী যমানায় ইসলাম তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, প্রত্যেক দলই দোযখী কিন্তু একটি দল ব্যতিত। তা হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত।এটিই ইসলামের সঠিক মুলধারা। কুরআন সুন্নাহর আলোকে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয় তুলে ধরা হলো:

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,“সে দিন (কিয়ামতের দিন) কোন কোন মুখ উজ্জ্বল হবে, আর কোন কোন মুখ হবে কালো্।বস্তুত যাদের মুখ কালো হবে, তাদেরকে বলা হবে তোমরা কি ঈমান আনার পর কাফির হয়ে গিয়েছিলে?এবার সে কুফুরির বিনিময়ে আযাবের স্বাদ আস্বাদন করো” -সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৬। আল্লামা ইবনে কাছির (রহ.) পবিত্র কুরআনের এ আয়াতের বাখ্যায় সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)’র উক্তি বর্ণনা করেছেন-“কিয়ামতের দিন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতর মুখ উজ্জল হবে” (ইবনে কাছির, তাফসীরে ইবনে কাছির ২/৭৯পৃ.)

বুঝা গেল সাহাবিদের যুগ থেকেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলোচনা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে এবং যে দলের সফলতার ইঙ্গিত বহন করে পবিত্র কোরআন। ইমাম ইবনে আবি হাতেম (রহ.) (ওফাত ৩২৭হি.) এ আয়াতের বাখ্যায় সনদ সহ একটি হাদিস সংকলন করেন এভাবে-“হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর (রা.)হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)হতে বর্ণনা করেন-‘কিয়ামতের দিন যাদের মুখ উজ্জল হবে তারাই হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত’ ইমাম আবি হাতিম, আত তাফসীর ৩/৭৯পৃ. হাদিস, ৩৯৫০, ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী, তাফসীরে আদ্‌ দুররুল মানুসুর,২/২৯১পৃ.দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবনান। এ আয়াতের বাখ্যায় ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহ.) (ওফাত ৯১১হি.) বলেন-“ইমাম আবু হাতেম (রা.) তার তাফসীরে, আবু নছর (রহ.) তার ইবানাত গ্রন্থে, খতিবে বাগদাদী (রহ.) তাঁর তারিখে বাগদাদে, লালকায়ী তাঁর সুন্নাহ বলেন গ্রন্থে কিয়ামতের দিন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মুখ উজ্জল হবে এবং আহলে বিদআতি বা দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মুখ কালো হবে” ( ইমাম জালালূদ্দীন সূয়ুতী, তাফসীরে আদ্‌ দুররুল মানসুর, ২/২৯১পৃ. দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবনান)।   চলমান-

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here