দাসকে ফাঁস দাও

0
57

আবছার তৈয়বী:

পবিত্র কা’বা শরীফকে অবমাননা করে মুসলিম ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেয়ার কারণ কী?
খবরে প্রকাশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাস (৩০) নামের এক হিন্দু যুবক পবিত্র কাবা শরীফের উপর হিন্দু দেবতার ছবি বসিয়ে শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার টাইমলাইনে ছড়িয়ে দেয়। এ খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী রসরাজ দাসকে ধরে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে। এস.আই.আশরাফুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গ্রামবাসী রসরাজকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আমরা ন্যক্কারজনক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি এবং উক্ত কুলাঙ্গার রসরাজ দাসকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর এই ঘৃণ্য মানসিকতার প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছি। মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করার অপচেষ্টা চিরতরে বন্ধ করতে জাতীয় সংসদে যথাযথ আইন প্রণয়ণ করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। স্বাধীন বাংলাদেশে ৯২% মুসলমানের দেশে এটা কি ভাবা যায়? একটি বিশেষ ধর্মের অনুসারীরা এই দেশটাকে কী পেয়েছে? তারা কেন সব সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর ফন্দি-ফিকির করতে থাকে? সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হলে কার লাভ আর কার ক্ষতি? মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃষ্টান এবং আদিবাসীসহ বাংলাদেশের মানুষরা কেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন না? কেন এক সম্প্রদায়ের কুলাঙ্গার কিছু মানুষ নামক জানোয়ার আরেক সম্প্রদায়ের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেবেন? কেন তাদের এই আস্ফালন? তাদের খুঁটির জোরটি কোথায়- কেউ কি বলবেন?

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার কারণে হিন্দু রাসরাজের ফাঁসির দাবীতে নাসিরনগর উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার পক্ষ থেকে উপজেলার থানা রোড, সদর বাজার, কলেজ গেইটসহ প্রধান প্রধান সড়ক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। আমরা জাতি ধর্ম বর্ণ ও দল-মত নিবিশেষে সকল বিবেকবান মানুষকে এমন ঘৃণ্য ও উস্কানীমূলক অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই। এবং এই কুলাঙ্গারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার আহ্বান জানাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here