আরাকান আর্মি ২ হাজার সদস্য থানচি সীমান্তে তৎপর!

0
58

সীমান্তে তৎপর ২ হাজার আরাকান আর্মি!পিনিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে দেড় থেকে ২ হাজার আরাকান আর্মি অবস্থান করছে। বান্দরবানের থানচি উপজেলার ৫৫ থেকে ৭৩ সীমান্ত পিলার এলাকায় বিজিবির নিয়মিত টহল না থাকার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী এই সংগঠনের সদস্যরা। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদারসহ নানা সুপারিশ সম্বলিত একটি প্রতিবেদন গত সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির তৎপরতা রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত পিলার ৫৫ থেকে ৭৩ পর্যন্ত এলাকার সীমান্তের দুপাশেই তাদের চলাচল ও বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে। গত দুইবছর ধরে এ সংগঠনটি স্বাধীনতার জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। বর্তমান মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশে প্রায় ২২টি বিদ্রোহী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা নিজ নিজ প্রদেশের স্বাধীনতা/স্বায়ত্ব শাসনের দীর্ঘদিন ধরে সরকারবিরোধী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এদেরমধ্যে রাখাইন প্রদেশের (সাবেক আরাকান) স্বাধীনতার জন্য শক্তিশালী বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি অন্যতম। ২০১০ সালে আরাকান আর্মি মিয়ানমারের কাচিন প্রদেশে প্রতিষ্ঠান হয়। এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জেলা বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলায় জড়ো হতে থাকে। বর্তমান সীমান্তের উভয় পাশেই দেড় থেকে দুই হাজার আরাকান আর্মির সদস্য রয়েছে। ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে আরাকান আর্মি বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে আসছে। বর্তমান আরামাকান আর্মির ১৫ হাজার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোদ্ধা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গতবছর এবং চলতি বছরে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকায় বিজিবির ৪টি নতুন বিওপি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ওইসব স্থানে হেলি যোগাযোগ ছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। আর এ সুযোগে আরাকান আর্মির সদস্যরা ওইসব স্থান দিয়ে চলাচল করে থাকে। পাশাপাশি অবস্থানও করে।
গতবছর ২৬ আগস্ট আরাকান আর্মির ঘোড়া আটককে কেন্দ্র করে থানচির বড় মদকে বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন এবং হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান নিয়ে টহল দেয়া হয়। পরে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়েও কোনো আরাকান সদস্য গ্রেফতার করা যায়নি। অভিযান শেষে ফেরার সময় সাংগু নদীর থানচির বড় পাথর এলাকায় নৌকা ডুবিতে এক বিজিবি সদস্য নিহত ও তিনটি রাইফেল খোয়া যায়।
এরপর গত ২৪ আগস্ট বলিপাড়াস্থ ৩৩ বিজিবি সদস্যরা চেকপোস্টে তল্লাশি কালে তিনজন আরাকান আর্মির সহযোগীকে আটক করে। এসময় থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড ও একজন হাতুড়ে চিকিৎসককেও আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে আরাকান আর্মির ব্যবহারের জন্য পোশাক, মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে বাই ওয়াই মার্মা নামের ব্যাক্তি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আরাকান আর্মিতে মিয়ানমারের রাখাইন সম্প্রদায়ের যুবকেরা যোগ দিচ্ছে। তারা রাখাইন প্রদেশের মংডু জেলা জেলা হয়ে এদেশের কক্সবাজারের জেলার টেকনাফের নিহ্না এলাকা দিয়ে বান্দরবানের থানচি হয়ে সীমান্ত এলাকার আরাকান আর্মিতে যোগ দিচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন বিচ্ছিন্নবাদীদের তৎপরতার বিষয়ে প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদারসহ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বান্দরবানে নিয়োজিত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধনের ব্যাপারেও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে আরাকান আর্মির কোনো তৎপরতা নেই। বরং তাদের দেখামাত্রই আটক করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্গম এলাকাগুলোর ৪টি বিওপিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিজিবি সদস্যদের পাঠানো হয়। সেখানে নিয়মিত পেট্রোল ডিউটিও করানো হয়। এর আগেও আরাকান আর্মির সদস্যরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছিলো। আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কোনো অবস্থাতেই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here