জেলহত্যা দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

0
126

পিনিউজ ডেস্ক : শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নে সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে অবদান রাখবেন-এটাই হোক জেলহত্যা দিবসের অঙ্গীকার। আগামী ৩ নভেম্বর ‘জেলহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আজ এক বাণীতে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। বাসস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন,  ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। আমাদের জাতীয় জীবনে এক শোকাবহ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান বন্দী অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন।’
তিনি এই দিবসে জাতীয় চার নেতাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সাখে সাথে তিনি জাতীয় চার নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
আবদুল হামিদ বলেন, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতার স্থপতি। এই মহান নেতা শত জেল-জুলুম উপেক্ষা করে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় তাঁর অবর্তমানে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জাতির পিতার ঘনিষ্ট সহচর জাতীয় চার নেতা মুজিবনগর সরকার গঠন, রণনীতি ও রণকৌশল প্রণয়ন, প্রশাসনিক কর্মকান্ড ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, কূটনৈতিক তৎপরতা, শরণার্থীদের তদারকিসহ মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে পরিণত করতে অসামান্য অবদান রাখেন। জাতি তাঁদের অবদান চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
তিনি বলেন, এ কথা অনস্বীকার্য যে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার পাশাপাশি জাতিকে নেতৃত্বহীন করার লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কারাবন্দী অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। জাতীয় ইতিহাসে জেলহত্যা দিবস এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঘাতকচক্রের উদ্দেশ্য ছিল দেশে অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের উত্থানের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের চেতনা থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে মুছে ফেলা। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আড়াল করে খন্ডিত ও ভুল ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। কিন্তু ঘাতকচক্রের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর আদর্শ চির জাগরূক থাকবে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে জাতীয় চার নেতার অবদান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত ও উন্নয়ন বিঘ্নিত করতে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’
শেখ হাসিনা দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘চক্রান্তকারী এবং গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই। তারা দেশের গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার পক্ষ শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে বারবার হামলা চালিয়েছে।’
জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতাকে হতার পর ইনডেমনিটি দিয়ে তার বিচারর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হয়। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর করা হয়েছে। জেলহত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারকাজ শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি মামলার রায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’
কর্মসূচি: জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। এছাড়া, সকাল ৮ টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জাতীয় নেতাদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে । একইভাবে রাজশাহীতে জাতীয় নেতা শহীদ কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বিকাল ৩ টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here