আল্লামা হাশেমী চিকিৎসা বঞ্চনার শিকার, তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি আহলে সুন্নাতের

0
662

মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম:

দেশের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, করোনা সন্দেহে নানান রোগে আক্রান্ত সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা না দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুবরণের অভিযোগও রয়েছে। আজ ১ জুন’২০ ইংরেজি সোমবার সকালে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা এম এ মতিন এক বিবৃতি বলেন, যেকোন রোগী দেখলেই হাসপাতালে বা ক্লিনিকে ভর্তি না করানো এবং চিকিৎসা না দেওয়ার এই প্রবণতা কোনও সুস্থ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার লক্ষণ নয়। আমরা বুঝতে পারছি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। তাদের এই নিরাপত্তাহীনতা এতটাই প্রকট যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন, এমন রোগীরাও হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের শীর্ষ স্থানিয় প্রবীণ আলেম, উস্তাজুল উলামা, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা কাযী নুরুল ইসলাম হাশেমী (ম.জি.আ.) সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত রোগে অসুস্থতা পরবর্তী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ডেলটা হসপিটাল ও মেট্রোপলিটন হসপিটালসহ বেসরকারী ক্লিনিক-হসপিটালে দীর্ঘ ৪ঘন্টা অপেক্ষামান রেখেও ইমাম হাশেমীকে ভর্তি করেন নি, অসংখ্য ব্যক্তিবর্গের বার বার অনুরোধও ওইসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অগ্রাহ্য করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ ধরণের আচরণ চরম অপেশাদারপূর্ণ ও নিন্দনীয়। দেশসেরা সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন আলেমের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যদি এহেন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। তবে সাধারণ জনগণের সাথে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা সহজে অনুমেয়। তাই আমরা আহলে সুন্নাতের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত বেসরকারি হসপিটালগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতঃ লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

এম এ মতিন আরো বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রোগীদের চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করাও অধিক গুরুত্বপূর্ণ । করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বজুড়েই এখন হাহাকার। এমতাবস্থায় হাসপাতাল ফিরিয়ে দিলে রোগীরা যাবে কোথায়? একই সঙ্গে রোগী ফিরিয়ে দিয়ে এসব হাসপাতাল কীভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে হবে। এর সমাধানও খুঁজতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ হবে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা। প্রাইভেট হাসপাতালগুলো কেন তাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিইসহ সুরক্ষা উপকরণ দিচ্ছে না, সেই জবাবদিহিতাও প্রয়োজন।

দেশের এমন এক পরিস্থিতিতে এসব হাসপাতাল কেন এতটা দায়িত্বহীন, সেটা জানা দরকার। তিনি আরো বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা উপকরণ দেবে সরকার, তেমনি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম সেইসব হাসপাতালকেই দিতে হবে। মানুষ চিকিৎসা চায় এবং তারা চায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেরা সুরক্ষিত হয়ে যেন চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আসতে পারেন। তিনি একই সাথে সরকারের নিকট দাবি জানিয়ে বলেন, বর্তমানে করোনা চিকিৎসায় ফ্রন্টলাইনে যেসব ডাক্তার-নার্স, চিকিৎসাকর্মী, পুলিশ প্রশাসনসহ যেসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তাদেরকে যথাযথ পুরস্কৃত করতে হবে। তেমনি, যারা অপেশাদার আচরণ করছে তাদেরকে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।