চট্টগ্রামে আইসিইউর অভাবে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার আগেই মারা গেলেন দুই ভাই

0
313

পিনিউজ ডেস্ক:

করোনা উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেলেন একই পরিবারের দুই ভাই। মেজ ভাইয়ের নাম শাহ আলম (৩৫) এবং ছোট ভাইয়ের নাম শাহ জাহান (৩৩)। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায়।

স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথম দিকে তাদের হালকা জ্বর ও কাশি ছিল। তবে বেশ কয়েকদিন যাবৎ দুই ভাইয়েরই কফ ও শ্বাস কষ্ট দেখা দিলে ১জুন (সোমবার) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর ২ জুন ( মঙ্গলবার) করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দেয় তারা। কিন্তু ৩-৪ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসে নি। এরই মধ্যে মারা গেলেন দুইজনেই।

মেজ ভাই শাহ আলম মারা যান ৬ জুন (শুক্রবার) দুপুর ২ টার দিকে। তখনো মেজ ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়নি একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছোট ভাই শাহ জাহানকে। কিন্তু সন্ধ্যার পর পরেই তিনিও মৃত্যুর খোলে ঢলে পড়েন।

তাদের খালাতো ভাই সাদ্দাম হোসেন মনজু কেঁদে কেঁদে সিপ্লাসকে বলেন, যখন অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে গিয়েছিল আইসিইউর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু চট্টগ্রাম মেডিক্যালে আইসিইউ সিট খালি ছিল না। এরপর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালেও গিয়েছি কিন্তু করোনা পরীক্ষার কোন ফলাফল এখনো না পাওয়ায় সেখানেও ভর্তি নেয় নি। পরে বাজার থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে শেষ চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি আমার ভাইদের।

তাদের আরেক স্বজন মোঃ সায়েম আক্ষেপ করে বলেন, হয়তো নমুনা পরীক্ষার ফলাফল যদি দু একদিনের মধ্যে পাওয়া যেত তাহলে কোন করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালে তাদেরকে ভর্তি করানো যেত। কিন্তু আজ প্রায় ৪ দিন পার হয়ে গেলেও ফলাফল এখনো আসে নি।

জানা যায়, দুই সহোদরই বিবাহিত। মেজ ভাই মোঃ শাহ আলমের ৬ বছরের একটি ছেলে আছে এবং ছোট ভাই শাহজাহানের ৫ বছরের এক ছেলে ও ২ বছরের এক মেয়ে আছে। দুই ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে তাদের পরিবার এবং পুরো এলাকা এখন শোকে আচ্ছন্ন।

মেজ ভাই শাহ আলম দুবাই প্রবাসী, তিনি জানুয়ারীতে দেশে এসেছিলেন এবং ছোট ভাই শাহাজাহানের হাটহাজারী এন জহুর শপিং সেন্টারে কাপড়ের দোকান আছে।