যে কথা আজ বলিতে ব্যাকুল!

0
233

এডভোকেট মুছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার:

করোনা মহামারী ও মৃতের দাফন -কাফনঃ কেউ কি কোনদিন ভেবেছিল এমন সব প্রসঙ্গ?

না, তা, জানিনা, এমনটা কারো মনে ছিল কিনা। জাগতিক হিসাব-নিকাশে, বাংলাদেশে এ প্রসঙ্গ হাজির হয়েছে মাত্র তিন মাসের মতো । বিশ্বের অন্য দেশের হিসাব মতে পাঁচ মাস পর্যন্ত। অর্থাৎ, এর নাম কোভিট-১৯ হলেও, জন্ম ২০২০ সনে।কিন্তু একটি বিশেষ জেনারেশন সাম্প্রতিক কয়েকবছর ধরে যেন এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যদিও তা ছিল তাদেরই অজ্ঞাতে। কারণ, তারাও জানত না যে, তারা একটি সময়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। হ্যাঁ, আমি আজ গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের কথাই বলছি।তাহলে,একটু চিন্তা করুন,

মাসয়ালা-মাসায়েল নিয়ে এ দেশে কাজ চলছে দীর্ঘদিন। ইজতিমার আয়োজনও বহু পুরোনো কথা,কিন্তু গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের তত্বাবধানে আয়োজিত ইজতেমার প্রধান আকর্ষণ ছিল ” মৃতের গোসল, কাফন,দাফন বিষয়ের প্র্যাকটিক্যাল মহড়া,যা অন্য কোথাও ছিল না। যে প্রদর্শণী বারবার উপস্থিত হাজার হাজার মানুষকে কাঁদিয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, বাড়বকুণ্ড উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে ছিল এ বছরের সর্বশেষ মহড়া, যা শুরু হয় আরো দুই বছর আগে ফতেয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানের প্রথম ইজতিমার প্রধান আকর্ষণ হিসেবে। গাউসিয়াতের সৈনিকরা আজ সেই কাজটাই করছে, তাই নয় কি?পীর সাবির শাহ্ (মা জি আ) আজ এখানে প্রাসঙ্গিক বটে।

মহামারী যখন এসেই গেল,তখন এ থেকে বাঁচার দোয়া শেখাশেখিও শুরু হল মুসলিম সমাজের সর্বত্র।
কিন্তু মহামারী আসার অন্তত বছর -দেড় বছর আগেই, চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড়ো মিলনায়তন জিইসি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত আ’লা হযরত কনফারেন্সে, মাতৃগর্ভের অলী, দরবারে সিরি কোটের শাহজাদা আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ আহমদ শাহ্ (মা জি আ) মহামারী থেকে বাঁচবার দোয়া শিখিয়ে গেলেন, যা পরবর্তীতে করোনাকালের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছিল। আর, এই দোয়া’টিকে আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা বেরলভি'(র) কর্তৃক অনুশীলিত এবং পরীক্ষিত বলে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেছিলেন।যা, আজ করোনা মহামারী থেকে বাঁচার দোয়া শুধু নয়, মসলকে আ’লা হযরত বিরোধীদের কবল থেকেও মুসলমানদের বাঁচানোর ইঙ্গিত বাহী বটে। আ’লা হযরত করোনা কালেও প্রাসঙ্গিক, সুবহানাল্লাহ। শাহজাদা হাফেজ আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আহমদ শাহ্ হুজুর জিন্দাবাদ, তাঁর বহু কারামতের কথা শুনেছিলাম ইতোপূর্বে।
“সব তোমহারি করম হ্যায় আ’কা “

লেখক: যুগ্ম সম্পাদক, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ ও মুখপাত্র, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বাংলাদেশ।