করোনায় মৃত্যু বাড়ছে জ্যামিতিক হারে, কাফন-দাফনের কাজও বাড়ছে সেই অনুপাতে

0
108

এডভোকেট মুছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার:

গতরাতে যখন বিউটিফুল ইসলাম বিডি তে, আমরা ভিডিও কনফারেন্স করছিলাম, তার আগেই চট্টগ্রামে গাউসিয়া কমিটির দাফন সংখ্যা শত অতিক্রম করেছিল।আর যখন কথা চলছিল দেখলাম, কয়েকজন নির্ধারিত অতিথি নাই। কারণ, চন্দনাইশের নতুন আরো একটি দাফনের ডাক পেয়ে চলে গেলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৌলানা সোলাইমান ফারুকী সাহেব, তিনি পর পর দুইবারনির্বাচিত একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েও খুব আন্তরিকতার সাথে নেমে গেলেন গাউসিয়া কমিটির দাফন কাজে। অসুস্থতায় মৃত্যুর বিছানা থেকে ফিরে এলেও নির্দ্বিধায় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেমে গেছেন করোনায় মৃতের দাফন কাজে। গতকাল সকাল ১০ টায় একটা, আবার রাত ১০ টায় আরো একজনকে দাফন করলেন তিনি। যদি নির্বাচিতদের সবাই তাঁর মতো হতেন, তাহলে দেশটাই যেত পাল্টে।আল্লাহ পাক তাঁকে হেফাজতে রাখুন, এবং কোটি গুণ বদলা দান করুন।


নির্ধারিত অতিথি হোসাইনও কনফারেন্সে নাই, কারণ তিনিও বাকলিয়ায় একটি দাফন কাজে চলে গেছেন তাই।যিনি এ পর্যন্ত ১০ টার মতো দাফন কাজে অংশ নিয়েছেন। ২৪ মার্চ, তিনি আমার দাফন সংক্রান্ত ফেবু পোস্টে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে বলেছিলেন, করোনায় মারা গেলে দাফন কাজে আমার পাশে থাকবেন।


ডবলমুরিং এর দাওয়াতে খায়র সম্পাদক মৌলানা আবদুল মালেক হঠাৎ উদাও হয়ে গেলেন কনফারেন্সের দৃশ্যপট থেকে। কারণ জানলাম একটু আগে। আমাকে বলে যেতে পারেননি, তাই ক্ষমা চেয়ে বললেন, হঠাৎ নতুন আরো একটা দাফনের ডাক এসেছিল, তাই চলে যেতে হলো।এই থানায় ১০ জনের দাফন করলো আমাদের ভাইয়েরা।


কনফারেন্স চলাকালীন ফোন আসছিল আরো।আমার বাড়ির পাশে হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ থেকে দাফনের আহবান এসেছে। রাতে এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে হাটহাজারীর কর্মীদের হাতে।


আর,ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার-আজিমনগরের দাফন কাজ হয় রাত ১২ টার পর থেকে।
তার মানে, প্রতি ঘন্টায় পাল্টাচ্ছে দাফনের হিসাব।গতরাতের হিসাব মতে,চট্টগ্রামে দাফন হল ১০৩ জন।
সকালেও চলছে বায়েজিদ -অক্সিজেন এলাকায় এবং সকাল ৭ টায় হলো ভাটিয়ারী তবে আরো একজনের। রাতে জানা যাবে আজ ক’জনের দাফন হলো।


কনফারেন্সে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের, ঢাকা র প্রতিনিধি এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ হোসেন জানালেন, ঢাকা মহানগরে এ পর্যন্ত তাঁরা দাফন করেছেন ৪৯ জন। তার মানে, চট্টগ্রাম আর ঢাকা মিলে দেড়শোর বেশি দাফন করে ফেলেছে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের কর্মীরা। অন্যান্য জেলার সঠিক তথ্য এলে এই সংখ্যা আরো বাড়বে নিঃসন্দেহে। ঢাকায়ও দরকার এম্বুলেন্স, এ সুবিধাটা থাকলে তারা একাই দেড়শো মৃতের দাফন করতে পারত।
আমাদের পাশে থাকুন, আমরাও পাশে আছি।

লেখক: যুগ্ম মহাসচিব, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ।